সদ্য সংবাদ

  পিবিআই এর অভিযানে অপহৃত লামিয়াকে ফতুল্লা থেকে উদ্ধার   পঞ্চগড়ে নারীর ক্ষমতায়ন জেন্ডার সমতা বিষয়ে আলোচনা   মহেশপুরে চাষ হচ্ছে মনিপুরি ইলিশ   শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুই মাসে ১১ জনের প্রাণহানী  ঝিনাইদহে নবাগত পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলামের যোগদান  আটকেপড়া প্রবাসীদের সৌদি ফেরাতে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট  সিদ্ধিরগঞ্জে কোনো মাদক,ভূমি দস্যু ও সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না- এসপি  এমপি কামরুল ইসলামের ফোন রেকর্ড প্রকাশ: ডিশ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  করোনার টিকা বন্টনে ১৫৬ দেশের ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’  নুরের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  মিথ্যা মামলা রাজপথেই মোকাবিলা করব: ভিপি নুর   কম্বোডিয়ায় নারীর খোলামেলা পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা   রিমান্ড শেষে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী জামিনে মুক্ত  স্বাস্থ্যের ২০ জনের সম্পদের হিসাব তলব   ট্রাম্পকে বিষ মেশানো চিঠি : এক নারী গ্রেফতার  বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভিপি নুর আটক  আড়াইহাজারে ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে মহিলাসহ আহত ৪  ডিপিডিসির প্রকৌশলী মাহাবুব ক্ষমতার দাপটে তিনটি পদ দখলে!  স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড্রাইভারের ঢাকায় দুটি ৭ তলা বিলাসবহুল ভবন!  শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী

কাউন্সিলর ভাতিজা বাদল ও হাসানকে দিয়ে, জেলে বসে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে নুর হোসেন

এ বাহিনীর ১০০ আগ্নেয়াস্ত্র ,

 Sun, Oct 16, 2016 11:46 PM
কাউন্সিলর ভাতিজা বাদল ও হাসানকে দিয়ে, জেলে বসে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে নুর হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট:: নারায়ণগঞ্জের সেই নুর হোসেনের সাম্রাজ্য এখনো অক্ষত। চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের আসামি নুর হোসেন জেলে বসেই তার সাম্রাজ্য দেখভাল করছেন। জেলে থাকলেও নুর হোসেনের সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটছে। এলাকায় এখনো নুর হোসেনের লোকজন প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতেও সাহস পান না। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য যা দরকার সবই করছে তার বাহিনীর লোকজন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সেভেন মার্ডারের পর যারা এলাকা ছাড়া হয়েছিল সেসব সন্ত্রাসীও এখন ফিরে এসেছে। নুর হোসেনের ভাতিজা বাদল ও সহযোগী হাসানের নিয়ন্ত্রণে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ এক অপরাধীর নাম নুর হোসেন। যার ভয়ঙ্কর রূপ খুনি এরশাদ শিকদারকেও হার মানায়। যার আতঙ্কে তটস্থ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা। এমনকি ঢাকাতেও তার সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ। এলাকায় এমন কোনো অপরাধ নেই যার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতার। খুন, রাহাজানি, ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখল, অন্যের স্ত্রীকে বাগিয়ে নেয়াসহ সব অপরাধ আগেও যেমন নুর হোসেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, এখনো তারই নিয়ন্ত্রণে আছে। তার ইঙ্গিতে বা নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারসহ এক ডজনেরও বেশি খুন হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়। অপরের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে রক্ষিতা হিসেবে রাখাসহ আরো অনেক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিজ সন্তানকেও যে ক্ষমা করেনি তারই নাম হলো নুর হোসেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন তিনি। এ নুর হোসেন প্রায় দেড় যুগ ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় কায়েম করে রাখে সন্ত্রাসের রাজত্ব।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সেভেন মার্ডারে তার নাম জড়িয়ে গেলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি এবং তার সহযোগীরা। সেখানে গ্রেফতার হওয়ার পরে গত বছরের ১২ নভেম্বর তাকে ফেরত আনা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন নুর হোসেন জেলে থাকলেও তার আধিপত্য মোটেই কমেনি। তার লোকজনই এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে সিদ্ধিরগঞ্জ ও এর আশপাশের বিশাল এলাকা। নুর হোসেনের অবর্তমানে তার ভাতিজা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাদল ওই এলাকায় আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছে। তার সাথে যুক্ত হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান। নুর হোসেন খুনের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পালিয়ে গেলে হাসান তার ওয়ার্ডে নির্বাচন করে কাউন্সিলর হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এ হাসান নুর হোসেনেরই ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নুর হোসেনের নামে ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। সেভেন মার্ডারের পর কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার হলেও বাকিগুলো থেকে যায় নুর হোসেনের বাহিনীর কাছে। ওই লাইসেন্সে অন্তত ১০০ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করত নুর হোসেনের লোকজন। এখনো সেসব অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডেই রয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। সেভেন মার্ডারের পর ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হলেও তা উদ্ধার হয়নি।
সূত্র জানায়, শীতলক্ষ্যা দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা, উচ্ছেদে বাধা, পরিবহন চাঁদাবাজি ও খুনসহ বিভিন্ন সময় এ নূর হোসেনের নাম আলোচনায় এলেও সর্বশেষ সেভেন মার্ডারের ঘটনায় তার কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে দেশের বাইরেও। পুলিশ সূত্র জানায়, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নুর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি খুনসহ অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে। এক সময়ের ট্রাকের হেলপার নুর হোসেন পরে ট্রাকচালক হন। ১৯৯২ সালের দিকে কৃষক লীগের সাবেক নেতা গিয়াসউদ্দিনের হাত ধরে রাজনীতিতে আসে নুর হোসেন। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শামীম ওসমানের হাত ধরে নুর হোসেন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। এরপর থেকেই সে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের ওই সময় তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের হয়। বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়ন কাঁচপুর শাখার সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। এ সময় তার হাতে বেশ কয়েকজন খুন হয় বলে অভিযোগ আছে।
সূত্র জানায়, নিহত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুলের সাথে তার বিরোধ সেই ’৯৮ সাল থেকেই, ওই সময় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে তারা দুইজনই নির্বাচন করেন। ওই সময় প্রথমে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় নজরুলকে। পরে আদালতের নির্দেশে পুনঃনির্বাচন হলে সেখানে নুর হোসেন চেয়ারম্যান জয়লাভ করে। ও থেকেই নজরুল ও নুর হোসেনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ নুর হোসেন পলাতক ছিলেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তার গডফাদারের সাথে সাথে তিনিও এলাকা ছেড়ে চলে যান। তখন তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একজন উপদেষ্টা ও দুই এমপির সুপারিশে ইন্টারপোলের হুলিয়া আওয়ামী লীগ সরকার তুলে নেয়ার ব্যবস্থা করে। এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে তিনি ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। সে থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নুর হোসেন। একক নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ। গোটা এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। শীতলক্ষ্যার বালু মহাল, নদীর তীর দখল, সিদ্ধিরগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ড, চুন কারখানাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার ওপরে চাঁদা আদায় হতো নুর হোসেনের নামে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতিতেও তার সেই সাম্রাজ্য অক্ষতই রয়েছে। এখনো তার নামে কোটি কোটি টাকার চাঁদা উঠছে ওই সব জায়গা থেকে। তার সহযোগীরা এখনো এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন