সদ্য সংবাদ

  বান্দরবানে ২ ভাইকে পিটিয়ে হত্যা  লাদাখ সীমান্তে রণপ্রস্তুতি চীন-ভারত  দিলরুবা খানের জিডি নিয়ে মুখ খুললন শাকিব খান  বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে সু খবর আসছে।   ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান মারা গেছেন  পিপিই দুর্নীতিতে স্লোভেনিয়ার অর্থমন্ত্রী গ্রেপ্তার, পদত্যাগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর   দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি  বাজেট সংকটকালীন নয়, লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে   পদত্যাগ করলেন আইসিসি চেয়ারম্যান  ১৩ ঘণ্টার ভাইরাল হওয়া সেই সুমন এএসআই আক্কাস  পঞ্চগড়ের খাদ্য বিভাগের অফিস অরক্ষিত  আড়াইহাজারে আওয়ামীলীগ নেতার ভাগিনার উপর সন্ত্রাসী হামলা  নবীনগরে ১৭ জনের কোভিড শনাক্ত  এনবিআরের মাঠ প্রশাসনে ১১ জন কমিশনারকে বদলি  ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল দেখে জয়া বললেন, কীভাবে সম্ভব!   পাপলুকাণ্ডে কুয়েতি মেজর জেনারেল বরখাস্ত  দোকানপাট-শপিংমল খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি  এবার ২ মাসের বিল ২০ কোটি: ঢামেক পরিচালক   পাকিস্তানে এই প্রথম নারী লেফট্যানেন্ট জেনারেল হলেন নিগার   দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুরবস্থার, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা

কাশ্মীরী মুসলমানদের কান্না: পৃথিবী নীরব কেন?

 Mon, Jul 25, 2016 12:14 AM
কাশ্মীরী মুসলমানদের কান্না: পৃথিবী নীরব কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট ::: বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকার খবরাখবর এবং বিভিন্ন প্রোপাগাণ্ডা দেখে মনে হতে পারে সন্ত্রাসবাদই এখন পৃথিবীর সবচাইতে বড় সমস্যা। তবে মুক্তমনে গভীর বিশ্লেষণে গেলে উপলব্ধি করা যায়,

 সন্ত্রাসবাদের চাইতেও বড় সংকট বর্তমান পৃথিবীতে বিরাজ করছে। আর তা হলো সততা ও ন্যায়ের সংকট। সভ্যতার শাসকরা যদি সততা ও ন্যায়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্ব রাজনীতিকে পরিচালিত করতো তাহলে দেশে-দেশে এতো সংকট লক্ষ্য করা যেতো না। আর বর্তমান সময়ে সন্ত্রাস নামক যে দানবের উৎপাত লক্ষ্য করা যাচ্ছে তারও উদ্ভব ঘটেছে কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে সততা ও ন্যায়ের অনুপস্থিতির কারণেই। সন্ত্রাসবাদের বীজ কিন্তু হঠাৎ করে বপিত হয়নি। বহু আগে থেকেই বড়-বড় দেশগুলোর দাপুটে শাসকরা দুর্বলদের ওপর শাসন-শোষণ ও জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে আসছে। এর যে প্রতিক্রিয়া হবে তাও তারা জানতো। ফলে তারা নানা মেয়াদে ষড়যন্ত্রের ও প্রতারণার নানা ফাঁদ পেতে রেখেছে। নীতিহীন এমন অমানবিক রাজনীতির কারণেই বর্তমান সময়ের পৃথিবীতে নানা সংকট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিন এবং কাশ্মীরের কথা উল্লেখ করা যায়। ফিলিস্তিন নিয়ে বিশ্বের গণমাধ্যমে মাঝে মাঝে কিছু সংবাদ লক্ষ্য করা গেলেও কাশ্মীর সম্পর্কে সবাই যেন এক ধরনের নীরবতা পালন করে চলেছে। প্রশ্ন জাগে, কাশ্মীরে কি এখন কোনো সংকট নেই? ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরে কি স্বর্গের শান্তি বিরাজ করছে? 
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত কিছুদিনে প্রায় ৫০ জন মুসলমান ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩ হাজারেরও অধিক। কিন্তু এরপরও বিশ্বের গণমাধ্যমে এই নৃশংস দমন অভিযানের দিকে তেমন একটা নজর দিচ্ছে না। এমন অবস্থায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী নৃশংস দমন অভিযান অব্যাহত রাখতে পারছে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক কেইহান। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, আহতদের বেশির ভাগের চোখের কাছেই জখমের চিহ্ন রয়েছে। অন্তত ৮০ জন আহত কাশ্মীরী যুবকের চোখে অস্ত্রোপচারের পর তাদের রেটিনায় ক্ষুদ্র স্টিল-বুলেট পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান লিখেছে, ভারতীয় সেনারা ইচ্ছে করেই এভাবে প্রতিবাদী কাশ্মীরী যুবকদের অন্ধ করে দিচ্ছে। অথচ এসবের কোনো বিচার হচ্ছে না। এসব যুবকদের বেশির ভাগই দৃষ্টিশক্তি হারাবেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। একজন ডাক্তার বললেন, এদের অবস্থা মৃত্যুর চেয়েও খারাপ। এরপরও কি আমাদের বলতে হবে, ভারত গণতন্ত্রের পথে চলছে এবং সেখানে মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে? সম্প্রতি একজন স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরী গেরিলা নেতা ভারতীয় সেনাদের হাতে নিহত হওয়ার পর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। সংগ্রামী এই কাশ্মীরী যুবনেতার নাম বোরহান ওয়ানি। অনন্তনাগ এলাকায় জুমার নামায আদায় করতে এলে ভারতীয় সেনারা ওই এলাকা ঘেরাও করে এবং ওয়ানি ও তার দুই সঙ্গীকে হত্যা করে। কাশ্মীরী যুবকদের মধ্যে ওয়ানির ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় এরপর থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় দেখা দেয় প্রচণ্ড বিক্ষোভ। এর জের ধরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মীরে বন্ধ করে দিয়েছে বহু সংবাদপত্র। এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশের ওপর আরোপ করা হয়েছে নানা বিধি-নিষেধ। কাশ্মীরে সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানমালা, ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, দমন-অবদমন ও এতো সব কঠোর পদক্ষেপের পরেও কাশ্মীরী জনগণের দ্রোহ কি বন্ধ করা যাবে? প্রশমিত হবে কি কাশ্মীরী জনগণের মনোজগতের বিক্ষোভ? বর্তমান পৃথিবীতে তো আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও মানবাধিকারের কথা বহুলভাবে উচ্চারিত হয়ে থাকে। কিন্তু কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে পৃথিবী নীরব কেন? কাশ্মীরী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে তো জাতিসংঘেও প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল। ওই প্রস্তাবে তো ওদের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গণভোটের বিষয়টি তো গণতান্ত্রিক এবং মানবিক। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছরেও কাশ্মীরী জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের অভিপ্রায় প্রকাশ করতে পারলো না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অভিপ্রায় প্রকাশ করতে পারলে কাশ্মীরী জনগণ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পেত। এমনটি হলে ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরে এমন দমন-পীড়ন, সহিংসতা ও নারকীয় পরিবেশ লক্ষ্য করা যেত না। ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর কেন শান্তির স্বর্গে পরিণত হতে পারলো না, তার কৈফিয়ত কে দেবে? এ ব্যাপারে জাতিসংঘ, ভারত ও সভ্য পৃথিবীর কি কোনো দায়দায়িত্ব নেই? ওয়ার্ল্ড বাংলা ডট কম

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন