সদ্য সংবাদ

 সিদ্ধিরগঞ্জে কোনো মাদক,ভূমি দস্যু ও সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না- এসপি  এমপি কামরুল ইসলামের ফোন রেকর্ড প্রকাশ: ডিশ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  করোনার টিকা বন্টনে ১৫৬ দেশের ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’  নুরের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  মিথ্যা মামলা রাজপথেই মোকাবিলা করব: ভিপি নুর   কম্বোডিয়ায় নারীর খোলামেলা পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা   রিমান্ড শেষে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী জামিনে মুক্ত  স্বাস্থ্যের ২০ জনের সম্পদের হিসাব তলব   ট্রাম্পকে বিষ মেশানো চিঠি : এক নারী গ্রেফতার  বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভিপি নুর আটক  আড়াইহাজারে ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে মহিলাসহ আহত ৪  ডিপিডিসির প্রকৌশলী মাহাবুব ক্ষমতার দাপটে তিনটি পদ দখলে!  স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড্রাইভারের ঢাকায় দুটি ৭ তলা বিলাসবহুল ভবন!  শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী  ওসি প্রদীপ ও স্ত্রী চুমকির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ  থাই রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভ   কে হচ্ছেন আহমদ শফীর উত্তরসূরি?  সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনী তৈরী করা হবে- রেল মন্ত্রী   নৌ প্রতিমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় বিআইডব্লিউটিএ দোয়া   করোনায় পুলিশের ‘বীরত্বগাঁথা’ নিয়ে বই

ঢাকার বস্তি উ”েছদে ‘আগুন থেরাপি’

 Sat, Feb 11, 2017 12:00 PM
ঢাকার বস্তি উ”েছদে ‘আগুন থেরাপি’

আফসান চৌধুরী :: ঢাকা শহরের বস্তি বাড়ছে না কমছে এ তথ্য আমরা ইদানীং জানতে পারছি যেহেতু বেশকিছু বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা কর্তৃপক্ষ ভাবছে।

 সাধারণভাবে বস্তিতে যারা থাকে তাদের আমরা খুব একটা দুশ্চিন্তা না করে গরিব বলতে পারি। এটার জন্য কোনো প্রশিক্ষণ বা গবেষণা লাগে না। কিš‘ যে তথ্যটি বের হয়ে আসছে সেটা হ”েছ, বড়লোক আর গরিবের বৈষম্যের সূচক যদি জানতে হয় তাহলে এ দুই শ্রেণির আর্থিক অব¯’া দেখলে বোঝা যায়।

বাংলাদেশে বড়লোকদের প্রধান আবাসভূমি যদি গুলশান হয় তাহলে ঠিক তার পাশে বসে থাকা কড়াইল বস্তি গরিবের আস্তানা। মজার বিষয় হল কড়াইল ঢাকার বস্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অব¯’ায় রয়েছে; অন্যগুলোর অব¯’া অনেক খারাপ। তারপরও যারা এ বস্তির জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত তারা জানে, টিকে থাকা এ মানুষগুলোর জন্য কত কঠিন।

সামান্য একটা তথ্য আমাদের বিচলিত করে। কারণ বৈষ্যমের যত সূচক আছে তার মধ্যে গড়পড়তা আয় অন্যতম। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, ঢাকার ওপর তলার মানুষের গড় মাসিক আয় প্রায় তিন লাখ টাকা, আর গরিবের গড় আয় আট হাজার টাকা। প্রতীকী অর্থে হলেও আমাদের যে বৈষ্যমের ভিত্তি করে সমাজ, প্রকারান্তরে রাষ্ট্র টিকে আছে তা এই দুই হিসাবের মাঝখানে বর্তমান।

প্রতীকের কথা বলতে গিয়ে এ তথ্যটি এসেই পড়ে: ঢাকায় বড়লোকদের জীবনযাত্রার ওপর তেমন কোনো গবেষণা হয় না। বড়লোকরা পর্দার আড়ালে জীবনযাপন করে। এই পর্দার যে উদ্দেশ্য, অর্থাৎ সম্ভ্রম ও ইজ্জত রক্ষা করা সেটা বড়লোকরা বেশ ভালোই পারে। কারণ ‘সামাজিক হিজাবে’র অন্তরালে তারা কী করে– সেটার খবর আমরা পাই না, শুধু মাঝেমধ্যে আঁচ পাই। ঠিক তেমনভাবে তাদের সঙ্গে লাগতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হয় সেটার দিকে তাকাতে হয়।

প্রসঙ্গটা এ কারণে আসছে যে মহাখালী এলাকাতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বস্তি ও বাস¯’ানে আগুন লেগেছে। অনেকে এটাকে বলছে ‘আগুন থেরাপি’, অর্থাৎ গরিব এখন ক্ষত বা রোগের মতো, সেটা সারানোয় আগুন ব্যবহার করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের গরিবের সহ্য ক্ষমতা এতই বেশি যে আগুনে ছ্যাঁকা খাওয়ার পরও তারা রয়ে যা”েছ। এর ফলে আগুনে কাজ হ”েছ– এমনটা বলা যায় না।

কিš‘ গরিব তাড়িয়ে ঢাকায় সমস্যার সমাধান হবে কি না, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। বেশ কিছু গবেষণার কাজ চলছে বিত্তহীন মানুষের ওপর যা প্রমাণ করে গরিব ঢাকায় বেশ গেড়ে বসেছে, অর্থাৎ তারা ঢাকা আর না-ও ছাড়তে পারে। এই ঢাকা শহর না-ছাড়া গরিবদের নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কীভাবে তাড়াতে হয় সেটা বড়লোক শ্রেণি এবং প্রশাসন বুঝতে পারছে না। কোনো বা কোনোভাবে তারা টিকেই থাকছে।

বড়লোকদের তথা ক্ষমতাবানদের রাগের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ও আমলাদের বইতে ঢাকায় বস্তিবাসীদের ওপর তাদের আক্রমণ ও ঘৃণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তারা এদের ভয়ও পেয়েছিল। যে কারণে পঁচিশে মার্চের রাতে আক্রমণ হয়েছিল বস্তিগুলোর ওপর, যদিও সেগুলো প্রতিরোধকেন্দ্র ছিল না।

কিš‘ এখনকার তুলনায় একাত্তরের বস্তিবাসী অনেক সাহসী ছিল। কারণ তাদের সামনে ছিল ইতিহাস। তারা আশা করার সাহস পেয়েছিল। কিš‘ প্রায় ৫০ বছর পরে বস্তিবাসীর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে আর তারা ভাবে না এই শহর তাদের, বড়জোর ভাবতে পারে বস্তিগুলো তাদের সাময়িক বাস¯’ান।

কিš‘ তেমন দুশ্চিন্তায় ভোগে না ঢাকায় বড়লোক শ্রেণি। তাদের দম্ভ এবং আত্মবিশ্বাসের শ্রেষ্ঠতম প্রতীক হ”েছ বিজিএমইএ বিল্ডিং। বাংলাদেশের প্রতি, ঢাকার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা যে এটা তুলতে পেরেছে, তা প্রমাণ করে তারা কতটা ক্ষমতা রাখে। যখন এটা নির্মাণ শুর“ হয় তখনই অনেকে বলেছিল, ওটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হবে। কিš‘ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিকরা সেসবে পাত্তা দেয়নি। তারা জানত তাদের পক্ষে কারা আছে, কারা থাকবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে সেখানে গেছেন এবং তাদের উপ¯ি’তি ‘হালাল’ করেছেন। এর ফলে তাদের মনে সাহস হয়েছে যে, এটাকে আইনের চোখ তারা অস্বীকার করতে পারে।

আইনের কথাটা সবাই জানে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন যে, এটা সরাতে হবে। কিš‘ আইনের ফাঁকফোকর সবসময় থাকে এবং নিয়মের দীর্ঘায়ন সবসময় থাকে। এবং সে কারণে হাতিরঝিলের মতো পরিবেশগতভাবে নাজুক জায়গায় তারা ভবন তুলতে পারে, রাখতে পারে এবং বিচারব্যব¯’াকে উপেক্ষা করতে পারে।

কথাটা এই প্রসঙ্গে আসছে যে ঢাকার উত্তরের মেয়র নিজেও একজন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক। তিনি মহাউৎসাহে ফুটপাত পরিস্কার করে থাকেন এবং তাঁর দাবি, এতে ঢাকার উন্নতি হ”েছ। এর সঙ্গে আমি একমত। কারণ, একজন ফুটপাত ব্যবহারকারী হিসেবে আমি গরিব মানুষের কোনো দোকান দেখতে পাই না, দেখতে পাই বড়লোকের বড় বড় গাড়িগুলো ফুটপাতকে পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করছে।

এই বিনা পয়সার পার্কিংয়ে কতটা ক্ষতি হয়, সেটার ইঙ্গিতও করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটা বড়লোকের ব্যবহার তাই বিষয়টা বেশি দূর এগোয় না।

সে কারণে শহরের ফুটপাত পরিণত হয়েছে একধরনের প্রতীকী পরিসরে, যেখানে বে আইনি গরিব মানুষ ও তাদের র“জি উ”েছদ করে বড়লোকের গাড়িগুলো বে আইনিভাবে রাখা হ”েছ।

মুক্তিযুদ্ধে কোন শ্রেণি জয় করেছে সে বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। গরিব ঢাকা ছাড়ছে না, বড়লোক তাদের সহ্য করবে না– এটা কোনো সংঘাত তৈরি করবে না। কারণ আমাদের গরিবদের মধ্যে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা চলে গেছে। তাদের পক্ষে কথা বলার মানুষও নেই। যেটা হ”েছ সেটা খুব সরল।

আমার এক বন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় বলেছিল যে, বিজয় সে দেখতে চায় না, তার আগে শহীদ হতে চায়। কারণ সে জানত স্বাধীন দেশে কী হবে।

মনে হয় সে শহীদ হয়েছিল। কিš‘ তার চেয়ে বড় সত্য সে আগামীকে দেখতে পেয়েছিল। বিডিনিউজ


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন