সদ্য সংবাদ

  প্রাথমিকে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হবে ‘নগদে’  নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন   পঞ্চগড় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই হবে তৌহিদুল -জাকিয়া  কৃষকদের পরিশ্রমে আজ বাংলাদেশ উন্নত -ডেপুটি স্পীকার  দায়িত্ব নিয়েই ১০০ দিন জনগণকে মাস্ক পরাবেন বাইডেন   রোহিঙ্গাদের জন্য দেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের   পুলিশের লাঠিপেটায় ছত্রভঙ্গ ভাস্কর্য বিরোধী মিছিল  ফতুল্লায় নৃত্য শিল্পি ধর্ষণ: গ্রেফতার ১  দেশের সাত জেলায় সড়কে ঝরল ২১ প্রাণ  গাঁজা বিপজ্জনক মাদক নয় : জাতিসঙ্ঘ   ‘দেশে আলেমদের মাঠে নামিয়েছে সরকার: ডা. জাফরুল্লাহ  দুদকে যেতেই হবে ডিএজি রুপাকে   জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা  সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা  ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, এএসআই প্রত্যাহার   পাকিস্তানের ১৯৭১ সালের নৃশংসতা অমার্জনীয় : প্রধানমন্ত্রী  ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষকে হতাশ করেছে’   ২৫ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার কোটি টাকা  ঢাকার যাত্রীদের জন্য গুগল ম্যাপে নতুন ফিচার  নবীনগরে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ উদ্ধার

নিষিদ্ধ সিনেমা ভালই উপভোগ করছেন সৌদিরা

 Tue, Oct 24, 2017 5:09 AM
নিষিদ্ধ সিনেমা ভালই উপভোগ করছেন সৌদিরা

ডেস্ক রিপোর্ট : : সৌদি আরবের রক্ষণশীল বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ হঠাৎ করেই আধুনিক মনস্ক হয়ে উঠছেন।

নারীদের ড্রাইভিংএ অনুমতি অর্থনৈতিক কারণেই দেওয়া হয়েছে বিশ্লেষকদের এমন মন্তব্যের পর সৌদি নারী পুরুষরা এবার সানন্দেই সিনেমা হলে যেতে শুরু করবেন। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সিনেমা হল ও থিয়েটার হলের উদার অনুমতি দিতে যাচ্ছেন বাদশাহ এবং এটা সম্ভব হতে যাচ্ছে তার মন পরিবর্তনের ফলেই। সিনেমা হলে তাই প্রজেক্টারের চাকা ঘুরতে শুরু করবে , আলোকচ্ছটা পড়বে পর্দায়, সিনেমা চলবে এবং তা বেশ ভালই উপভোগ করবেন সৌদি নারী পুরুষ। সুগঠিত আসনগুলোতে তারা হেলান দিয়ে সিনেমা দেখবেন যা দেশটিতে দশকের পর দশক নিষিদ্ধ ছিল।


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাতে সিনেমা হলে যেয়ে নারী পুরুষদের সিনেমা দেখা একসময় অবিশ্বাস্য ও অচিন্তনীয় ছিল। সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতা বা আলেমরা এধরনের সিনেমা দেখাকে অশ্লীল ও পাপ বলেই মনে করতেন এবং নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে তা আটকে ছিল। সেদিক থেকে সৌদি আরবে সিনেমা হলের অনুমতি উচ্চাভিলাষী সংস্কার বলেই মনে করা হচ্ছে। কিং ফাহাদ কালচারাল সেন্টারে এর আগে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র বেশ ভালই উপভোগ করেছেন নারী ও পুরুষরা।


খুব শীঘ্রই সিনেমা হলের ব্যাপারে উদার অনুমতি দিতে যাচ্ছেন সৌদি সরকার। বাদশাহ এ ব্যাপারে এক ডিক্রি জারি করতে পারেন। আর তা হলে সৌদি সা¤্রাজ্যের সাংস্কৃতিক দৃশ্যে এক বড় ধরনের দৃশ্যপট পরিবর্তন হবে। কিং ফাহাদ কালচারাল সেন্টারে যে তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র প্রদর্শন হয় তার একটি ‘ন্যাশনাল ডায়লাগ’এর পরিচালক ফয়সাল আলহারবি বলেন, সিনেমা সৌদি সমাজের আত্মার একটি অংশ। যা মানুষকে বাস্তবতা সম্পর্কে উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে। তাদের জীবন যাত্রার প্রতিফলন তারা দেখতে পারবেন পর্দায়। গত জুলাই মাস থেকে যে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে সৌদি আরবে তাতে নারী ও পুরুষ দর্শকদের আলাদা বসার ব্যবস্থা ছিল। প্লাস্টিক কাপে তাদের আরবীয় কফির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দেন কর্তৃপক্ষ, গ্রিল করা বার্গারের স্বাদও তারা নেন।


সৌদি আরবের এক মেডিক্যাল ছাত্র সুলতান বলেন, অনুমতি দেওয়া হলে সৌদি আরবে সিনেমা হলগুলো পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তারা সেখানে আধুনিক চলচ্চিত্রের স্বাদ নিতে পারবেন। ভেন্ডিং মেশিনে কয়েন ফেলে উষ্ণ পপকর্ন চিবিয়ে কিংবা হাওয়াই মিঠার স্বাদ পরখ করে দেখতে পারবেন। ১৯ বছরের আরেক সৌদি তরুণ যিনি ইতিমধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পেয়েছেন, তিনি বলেন, সৌদিতে সিনেমা হলে দর্শকদের অভাব হবে না।


তবে সৌদিতে সিনেমা হলের সম্ভাবনা সত্যি হয়ে ওঠার পেছনে দেশটির সরকার যে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছে বিষয়টি তারই বা ওই সংস্কারের অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। যারা রক্ষণশীল তারা সিনেমাকে মনে করেন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি একটি আঘাত, তারা ৮০’র দশক থেকে এধরনের উদ্যোগে বাধা দিয়ে আসছেন। গত জানুয়ারিতে সৌদি আরবের এক শীর্ষ আলেম জানান, সিনেমা একধরনের ‘ভ্রষ্টাচার’ ও তা মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনবে। তবে সৌদি আরবে যারা সংস্কার আনছেন তারা এসব বাক্যে কান দিবেন না বলেই মনে হচ্ছে। তাদের যুক্তি হচ্ছে, সৌদি দ্রুতগামী বাস আসবেই যারা এতে চড়ে বসতে পারবেন বসবেন আর যারা হোঁচট খাবেন তাদের জন্যে করার কিছুই নেই।


ইদানিং সৌদি আরবে কনসার্টের আয়োজন হচ্ছে। পপ সংস্কৃতির উৎসবেও কমতি নেই। দেশটির জাতীয় দিবসে এই প্রথম নারী ও পুরুষকে এক সঙ্গে রাস্তায় পশ্চিমা ধাঁচের অনুকরণে নেচে গেয়ে আনন্দ করতে দেখা যায়। এক সৌদি চলচ্চিত্রকার বলেন, ইউ টিউবের যুগে সিনেমা নিষিদ্ধ করে রাখার কোনো মানে হয় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইতিমধ্যে সৌদি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে। তা কখনো সেন্সরের খপ্পড়েও পড়েছে। ‘ওয়াদজদা,’ সৌদি এ চলচ্চিত্রটি নারী পরিচালক হাইফা আল-মানসুরকে ২০১৩ সালে প্রথম একাডেমি এ্যাওয়ার্ড এনে দেয়। চলচ্চিত্রটিতে ১০ বছরের এক কিশোরী তার সমবয়সী আরেক কিশোরের মতই সাইকেল চালনার সুযোগ পান এবং এ নিয়েই কাহিনী বিবৃত হতে থাকে।


সৌদি আরবের প্রথম রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘ বারাকাহ মিটস বারাকাহ’ বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে আলোচনার ঝড় তোলে। এই চলচ্চিত্রের মূল অভিনেতা হিশাম ফাগি বলেন, সিনেমা ছাড়া একটি দেশের সমৃদ্ধ শিল্পী প্রতিভা মৃত্যু বরণ করে। ধর্মীয় প্রতিফলনের বাইরে সৌদি আরবে একটি সূক্ষ্ণ সাংস্কৃতিক পরিচিতি প্রয়োজন।


তবে সৌদি সরকার এখনো সিনেমার অনুমতি না দিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিয়াদে সে সুযোগ মিলতে যাচ্ছে বলে আলোচনা শুরু হওয়ার পর অধীর আগ্রহে রয়েছেন দর্শকরা। তেল নির্ভর অর্থনীতির বাইরে যে অর্থনীতির সংস্কারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সৌদি শাসকরা তাতে বাহরাইনে ও দুবাইতে যেয়ে দেশটির দর্শকরা যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বছরে খরচ করেন তারও সাশ্রয় ঘটবে। চলচ্চিত্রকাররা বলছেন, চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ, টিকিট কেটে দর্শকদের হলে যাওয়ার ভেতর থেকে মুনাফা অর্জনের মত বিষয় অনুপস্থিত থাকায় সৌদি সমাজ এখনো উগ্র বা সাংস্কৃতিকভাবে আদিম যুগে রয়ে গেছে বলে বিদেশে এমন ভুল ধারণা রয়েছে।


সৌদি চলচ্চিত্রকার আলী কালথামি যিনি সি-থ্রি ফিল্ম ও তেলফাজ ওয়ানের সহ প্রতিষ্ঠাতা তিনি বলেন, সিনেমা মানুষকে মানবিক করে তোলে। তিনি ইউ টিউবে কমেডি ভিডিও পোস্ট করেন। তার ‘ওয়াস্তি’ চলচ্চিত্র মধ্য নব্বই দশকের বাস্তব জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচিত। তবে এ চলচ্চিত্রটি মাত্র একবারই সৌদি আরবে প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়ার পর আর প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। তরুণ সৌদিদের চলচ্চিত্র সামাজিকভাবে দিক নির্দেশনা দিতে পারে বলে বিশ্বাস আলীর। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে সৌদি দর্শকরা সাড়া দেয় অবিশ্বাস্য রকমের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন