সদ্য সংবাদ

 করোনায় আক্রান্ত ৩৫৭৪ জন পুলিশ সদস্য   বলিউডে নাম লেখাতে যাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তীর মেয় দিশানি  ট্রাম্পের সেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ওষুধে করোনা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি   গণস্বাস্থ্য করোনা পরীক্ষা করবে, সবার জন্য উন্মুক্ত   চুমু দিয়ে গ্রে প্রেমিকাকেফতার ইরানি খেলোয়াড়  পোশাক কারখানা মালিকের কান্না আন্তর্জাতিক মাধ্যমে   করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি পুতুল   সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৪   হরিণাকুন্ডু নাগরিক সেবা বন্ধ ঘোষণা ইউপি চেয়ারম্যানদের   ঝিনাইদহের ডালিয়া ফার্মে প্রতিদিন ফ্রি দুধ বিতরন   পাকিস্তানের করাচিতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৭   করোনায় আক্রান্ত র‍্যাব ৪-এর অধিনায়ক  চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর রবিবার  আশুলিয়ার আউকপাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি।  করোনার কারণে প্রবাসীদের ৮৭ শতাংশের আয়ের কোনো উৎস নেই  দুবাই সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ফিরে আসা সাংবাদিক এইচ ইমরান।  কালকিনিতে ১৩১ বাড়িতে লাল নিশানা লাগিয়ে দিলো প্রশাসন  করোনার বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম শান্তির অভিযান শুরু  রংপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  নরসিংদীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২০৫ প্রবাসী

ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ ,চ্যালেঞ্জের মুখে দক্ষিণের মেয়র। এক পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।

 Sun, Oct 30, 2016 1:51 PM
ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ ,চ্যালেঞ্জের মুখে দক্ষিণের মেয়র। এক পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট:: রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন দক্ষিণের মেয়র। প্রাথমিক টার্গেটকৃত গুলিস্তানের হকার অপসারণ করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার প্রায় বছর পার হতে চললেও এখনো তা সম্পন্ন করতে পারেননি মেয়র।

এক দিকে হকারদের পুনর্বাসনে সরকারের চাপ, অন্য দিকে একটি প্রভাবশালী শক্তি হকারদের ইন্ধন দেয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। এ কারণে হকার উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরপরই আবার মালামাল নিয়ে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে নিচ্ছেন হকাররা। তবে হকারদের মদদদাতারা যত শক্তিশালীই হোক তাদেরকে কঠোরহস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন।
রাজধানীর হকার নিয়ে ইঁদুর-বিড়াল খেলা দীর্ঘ দিনের। উচ্ছেদের পরই আবার দখল হয়ে যায় রাস্তা-ফুটপাথ। উপায়ান্তর না পেয়ে বিভিন্ন সময়ে সিটি করপোরেশন থেকে হকারদের জন্য গুলিস্তান এলাকায় এক ডজন মার্কেট তৈরি করে দেয়া হয়েছে। চার-পাঁচতলা বিশিষ্ট এসব মার্কেটে লাখখানেক হকার মাত্র ২-৪ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি করে দোকানের মালিক হয়ে গেছেন। যেসব দোকানের বর্তমান মূল্য কোটি টাকার ওপরে। এদের মধ্যে অনেকে নেতা বনে যাওয়ায় ৪-৫টি দোকানের মালিক হওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিকও হয়ে গেছেন। বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে গাড়ি-বাড়ি-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করেছেন তারা।
সিটি করপোরেশন হকারদের পুনর্বাসন করে রাস্তা ও ফুটপাথ খালি করার পর আবার নতুন হকাররা সেখানে এসে বসে পড়ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুনর্বাসন হওয়া হকাররাই গ্রাম থেকে তাদের আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে এসে গুলিস্তানের রাস্তায় মালামাল নিয়ে বসিয়ে দেন। এমনও আছে অনেকের ১০ থেকে ৩০ জন আত্মীয় বর্তমানে গুলিস্তান এলাকায় হকারি করছেন। সিটি করপোরেশন যদি তাদের আবারো মার্কেট করে পুনর্বাসন করে সে আশায় এসব আত্মীয়কে আনা হয়েছে বলে জানা যায়। অল্প টাকায় রাজধানীর বুকে একটি দোকান পাওয়া যেন স্বপ্নের মতোই। সে কারণে চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার পরও দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকেন তারা।
রাজধানীর ফুটপাথে হকারদের দৌরাত্ম্য বর্তমানে এতই বেড়েছে যে তাদের কারণে সাধারণ পথচারী, গণপরিবহন থেকে সব ধরনের যানবাহন এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে। ফুটপাথ থেকে বাড়তে বাড়তে রাস্তা অবধি দখল করে নেয়ায় সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। রাজধানীর ভয়াবহ যানজটের অন্যতম কারণও এই দখলবাজি। আর এ যানজটের কারণে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সের রোগী মারা যান পথেই। শিক্ষার্থীরা সময়মতো পৌঁছতে পারে না স্কুল-কলেজে। অফিস যাত্রীরা দেরিতে অফিসে গিয়ে বসের বকা খান। হকারদের দখলদারির প্রতিবাদ করতে গেলেই জোটবদ্ধ হকাররা পথচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। গুলিস্তান এলাকায় পকেটমারদের যে দৌরাত্ম্য তার পেছনেও হকারদের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে জানা যায়। হকারির অন্তরালে অনেকে মাদক বেচাকেনাও করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করা হয়। লাইনম্যান নামধারী সরকারি দলের নেতাকর্মীরা এ চাঁদা তোলেন। যার ভাগ সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তার পকেটেও যায়। এ কারণে তাদের বারবার উচ্ছেদ করলেও নেতা ও পুলিশের আশ্বাসে আবার বসে পড়েন। এ নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।
গত বছরের ১২ নভেম্বর এ সমস্যা সমাধানে মেয়র হকার নেতাদের সাথে নগর ভবনে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক করে হকার পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। সভায় প্রাথমিকভাবে গুলিস্তান এলাকার হকারদের ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় দুই মাস আগে দুই হাজার ৫০৬ জনের তালিকা তৈরি করেছে ডিএসসিসি। এ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ছবি, নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০ আগস্ট সিটি করপোরেশনকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে ডিএসসিসিকে হকারদের উচ্ছেদ না করে পুনর্বাসন করতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্য নিয়ে সিটি করপোরেশন ২২টি জায়গাও নির্ধারণ করেছে হলিডে মার্কেট করার জন্য। কিন্তু এরপর আর কার্যক্রম এগোয়নি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, হকারদের পুনর্বাসন করে কোনো লাভ হয় না। এ কারণে এ ব্যাপারে তারা উৎসাহী নন। তা ছাড়া হলিডে মার্কেটের জন্য জায়গা নির্ধারণ করলেও এ নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে। এগুলো তদারকি করা একটি কঠিন কাজ।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটে অভিযান চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ডিএসসিসির কর্মকর্তারা। তারা মার্কেটের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হন। এরপর নগর ভবনে বিক্ষোভ করতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মেয়রের ডাকে সে দিন কমপক্ষে ১০ জন কাউন্সিলর এলাকার নেতাকর্মীদের এনে গুলিস্তানে দফায় দফায় শোডাউন করেন। ছাত্রলীগ নেতাদের অস্ত্র নিয়ে হকারদের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটে।
মেয়র গতকাল এক মতবিনিময় সভায় অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ হকারদের উসকানি ও মদদ দিয়েছে। এ কারণে তারা নগর ভবনে এসে বিশৃঙ্খলা করার মতো সাহস দেখিয়েছে। হকারদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, তিনি মেয়র হিসেবে সফলতা দেখানোয় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তবে যারাই ষড়যন্ত্র করুক তারা সফল হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র বলেন, প্রথমে গুলিস্তান এলাকার হকার উচ্ছেদ করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে সব হকার সরানো হবে। তিনি জানান, গুলিস্তানের হকারদের সাময়িকভাবে কাজী বশির মিলনায়তনের (মহানগর নাট্যমঞ্চ) আশপাশের এলাকায় রাখা হবে। এরপর জায়গা খুঁজে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা হবে।
সভায় গুলিস্তান এলাকার কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, হকাররা কাদের ম্যানেজ করে অভিযানের পর আবার বসে গেছে, কারা তাদের ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, হকারদের পেছনে দলীয় লোকজন রয়েছে। এ জন্য তাদেরও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করলে সমস্যা ৯০ ভাগ কমে যাবে।
এ দিকে হকারদের পুনর্বাসনের খবরে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স লীগের নেতারা সভা করেন। সংগঠনটির সহসভাপতি খোকন মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আরো দু-এক দিন যাক, তার পর আমরাও সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি বলেন, সাধারণ কোনো হকার যেন পুনর্বাসন তালিকা থেকে বাদ না যায় সে বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে দেখতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবারের অভিযানকালে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযানের সময় ছাত্রলীগ নেতাদের অস্ত্রবাজিরও সমালোচনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেনের সভাপতি এম এ কাশেম সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্তের প্রতি সাধুবাদ জানিয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, ফুটপাথে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার চেয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করা ভালো। তিনি গুলিস্তান থেকে হকার সরানোর পর জায়গাটি দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনের আনসার ও হকারদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশ গঠন করার আহ্বান জানান।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন