সদ্য সংবাদ

 করোনা আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী কবরী  আশা ও তামাশার লকডাউন  কত বছর করোনার সঙ্গে থাকতে হবে কেউ জানিনা- ডা ফাহিম  ডলারের লোভে দুই মেয়েই অপহরণ করেছিলেন ম্যারাডোনাকে!  জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবিশ্বাস্য দুর্নীতি, কঠোর শাস্তি চায় টিআইবি  অভিষেক 'উমরাও জান' ছবিতে ঐশ্বরিয়ার প্রেমে পড়েন।   ছাত্রলীগ নেতার জিন্স প্যান্ট চুরির ভিডিও ভাইরাল   লকডাউনে পুলিশের কাছ থেকে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিতে হবে।   নরেন্দ্র মোদির পরিকল্পনায় ৪ মুসলমানকে গুলি করে হত্যা-মমতা   এক সপ্তাহ সব ধরনের অফিস ও পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে  র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হেফাজতের ৪ নেতা  আহমদ শফীর মৃত্যু: বাবুনগরীসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিল পিবিআই  অপরিকল্পিত লকডাউন বিপজ্জনক পরিস্থিতির : রব  আড়াইহাজারে নবম শ্রেনীর ছাত্রীর ধর্ষক গ্রেফতার   নতুন নির্দেশনা, সাত দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক   অভিনেত্রী পায়েলের ওপর হামলা   বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের  নারায়ণগঞ্জ ডি‌বি পু‌লি‌শের সোর্স প‌রিচ‌য়ে বেপরোয়া সেই মোফাজ্জল ও মিশু চক্র   দেশে করোনায় ১৩ দিনে ৭৯২ জনের মৃত্যু   গুলিতে ৪ মুসলমানের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ মমতার

হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক টানা ১৮ঘণ্টা ধরে অচল, ২০টি গাড়িতে আগুন

 Sun, Mar 28, 2021 11:40 PM
হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক টানা ১৮ঘণ্টা ধরে অচল, ২০টি গাড়িতে আগুন

এশিয়া খবর ডেস্ক:: সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকা থেকে

 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে দিনভর সড়ক অবরোধের কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ছিল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দফায় দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। 


এ সময় ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতরা হলেন মো. শফিকুল ইসলাম (৬৭), শাহাদাত (৩২) ও শাকিলসহ (২৬) কমপক্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন পুলিশসহ ২০ জন। হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে টোকাই, হকারসহ বহিরাগতরাও অংশগ্রহণ করে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে হেফাজত কর্মীদের পক্ষে হকার, টোকাই ও বহিরাগত লোকজনও অংশ নেয়। এ সময় ঢাকা –চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ টানা টানা ১৮ ঘণ্টা ধরে অচল করে রেখেছেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।


হরতাল ডাকার পর আজ রোববার ভোরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতা কর্মীরা। দিনভর ২০টি গাড়িতে আগুন দেন তাঁরা, ভাঙচুর করেন অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদমাধ্যমের গাড়িসহ আরও অন্তত ১০০টি। দফায় দফায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষও বাধে তাঁদের। একাধিকবার গুলিও ছুড়তে দেখা যায় পুলিশ ও বিজিবির সদস্যদের। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এর মধ্যেও রাত সাড়ে ৮টা নাগাদও হেফাজতের কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ছিলেন।

দিনভর সংঘাতের বিষয়টি স্বীকার করলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলছেন, পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।


মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের (সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত) বিভিন্ন জায়গায় টায়ারে আগুন জ্বালায় দুষ্কৃতকারীরা। যানবাহন যাতে চলাচল না করতে পারে, সে জন্য সড়কে বিদ্যুতের খুঁটিও ফেলে রাখে। কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়, ভাঙচুরও করে। ‘তিনি আরো বলেন, হেফাজতের কর্মীরা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন, দুষ্কৃতকারীরা মহাসড়কে যানবাহনে আগুন দিয়েছে।

 এসপি আরো বলেন, হতাহতের কোনো তথ্য আমার জানা নাই। তবে আমারা রাস্তায় যান চলাচলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকা মহানগরের কোনো সমস্যা না থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হরতাল সমর্থক হেফাজতের কর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন। গাড়িতে আগুন দিয়েছেন, গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে দূরপাল্লার যানবাহন এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংঘাতে প্রাণহানির পর রোববার সারা দেশে হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম।


পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হেফাজতের হরতাল সমর্থকেরা ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের (মৌচাক এলাকায়) প্রথম টায়ারে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এরপর সানারপাড়, শিমরাইল ও সাইন বোর্ডে সড়কে টায়ারে আগুন ধরান হরতালকারীরা।


সকাল ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হরতালকারীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তবে তাঁরা সড়ক ছাড়েননি। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সানারপাড়ে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়, সেখানেই প্রথম গোলাগুলি হয় বিজিবির সাথে। এসময় ৩জন গুলিবূদ্ধ হলেও নিহত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পরে চারোদিগে। 

সরেজমিন দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৬টার পর থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় যখনই কোনো যানবাহন ঢুকেছে, তখনই সেই বাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারের তথ্য বলছে, অন্তত সাতটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। তবে সরেজমিন এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের তথ্যমতে, বাস, কভারভ্যান, ট্রাকসহ কমপক্ষে ২০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে পিকেটারেরা।


সকালে থেকে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি সড়কে আছে। তারপরও গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরে।

হরতালকারীদের ঠেকাতে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিজিবি সদস্য দেখা গেছে। রয়েছেন র‍্যাবের সদস্যরাও। পুলিশের সাঁজোয়া যান, জলকামানের পাশাপাশি বিজিবিরও অন্তত পাঁচটি সাঁজোয়া যান দেখা গেছে টহলরত। তবে রাত সাড়ে ৮টার সময়ও মাঠে ছিলেন হরতাল সমর্থকেরা, যদিও হরতাল শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের ছোট ছোট সড়ক ও গলিতে বিপুলসংখ্যক দুষ্কৃতকারী দেখা গেছে।

হরতাল চলাকালিন রাস্তায় দায়িত্বরত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, জায়েদ পারবেজ চৌধুরী, সুভাষ সাহা, ইমরান সিদ্দিকী, বিজিবির লে, কর্নেল হাসান, মেজর হাবিব সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ বারিক।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন