সদ্য সংবাদ

 দুবাইয়ের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাগদান সারলেন বেনজিরের মেয়ে   বর্তমান সরকারের পতনের অবস্থা চলছে: ডা. জাফরুল্লাহ   বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা  পঞ্চগড়ে কৃষকদের মাঝে সার-বীজ বিতরণ   নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নতুন ওসি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত  ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত  মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিকদের মানববন্ধন  ডেপুটি স্পিকার অ্যাড.ফজলে রাব্বীকে গণসংবর্ধনা  যুক্তরাজ্যে নারীদের 'কুমারীত্ব পরীক্ষার'   পার্বত্য চট্টগ্রামের বছরে ৪শ’কোটি টাকার চাঁদাবাজি   না’গঞ্জে অবৈধ যানবাহনের দাপটে ঘটছে দুর্ঘটনা।   বাল্যবিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ   ‘প্রিয় বন্ধু’র মৃত্যুর দিনেই বিদায় নিলেন ম্যারাডোনা   নারীদের ‘জানোয়ারের’ সঙ্গে তুলনা করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী   কৌশানী মুখার্জির `ফিগার সিক্রেট’  বনানী কবরস্থানে শায়িত হলেন আলী যাকের  বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে এসেছে আমেরিকা: বাইডেন   দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার: কাদের   চাল-তেলসহ বেড়েছে ৮ নিত্যপণ্যের দাম   করোনার মধ্যেই ডেঙ্গুর হানা, ২৪ ঘণ্টায় ১৮ রোগী হাসপাতালে

‘কেন মেরে ফেলা হলো প্রিয় বাবাকে?’

সোহেল তাজের আবেগঘন স্ট্যাটাস,

 Fri, Nov 4, 2016 12:10 PM
‘কেন মেরে ফেলা হলো প্রিয় বাবাকে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

 তিনি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিতে নিজের ফেসবুক পেজের স্ট্যাটাসে বাবাকে নিয়ে তার শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেন।

সোহেল তাজের পুরো স্ট্যাটাস

আজ থেকে ঠিক ৪১ বছর আগে এই দিনে একটি পাঁচ বছর বয়সের ছোট্ট ছেলে হারালো তার প্রিয় বাবাকে। যার হাত ধরে সে যেত বাড়ির পাশে আবাহনির মাঠে। যার হাত ধরে ধানমন্ডির সাতমাসজিদ রোডের রাস্তা দিয়ে হেটে হেটে খুঁজে পেয়েছিল তার প্রথম স্কুল। টেলিভিশনের পর্দায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন আর জাতীয় পতাকা তোলা হলে যিনি সব সময় মনে করিয়ে দিতেন দাঁড়িয়ে স্যালুট করে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে। যিনি কোমলভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতেন মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষের আত্মত্যাগের কথা। যিনি এই ছোট্ট ছেলেটিকে একটি আত্মবিশ্বাসী দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করার গুরুত্ব শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং অনুপ্রেরণা যোগানোর চেষ্টা করেছিলেন নানা কায়দায়।

এ ছেলেটির জীবনটা হঠাৎ করে পাল্টে গেলো একদিন। ছেলেটি দেখতে পেলো একটি লাশ, তার বাবার লাশ। লাশটি রাখা হলো একটি রুমে আর সেই লাশ দেখতে এলো হাজার হাজার মানুষ। সেও অবাক হয়ে দেখতে লাগলো সবার সঙ্গে। পরে সেও গেলো বনানী কবর¯’ানে। সেখানে সবাই তাকে প্রথমে মাটি দিতে বললো, সেও দিলো। তার কাছে মনে হ”েছ এটা যেন একটি স্বপ্ন এবং এই স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে সে ভেসে যা”েছ।

আস্তে আস্তে সময় পার হতে লাগলো আর সেই স্বপ্নের আবরণ ধীরে ধীরে কেটে যেতে লাগলো। তারপর থেকে তার মনে খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন। তার কেন বাবা নেই? অন্য সবার তো বাবা আছে। আরও সময় পার হলো কিš‘ প্রশ্নগুলো আরও জটিল হতে লাগলো। কেন মেরে ফেলা হলো প্রিয় বাবাকে? উনি কি অন্যায় করেছিলেন? তাকে জেলে কেন রাখা হয়েছিল? আর জেলখানায় মেরে ফেললো কারা এবং কেন? এই প্রশ্নগুলো যখন তার মাথায় ঘুর পাক খা”েছ তখন সে তার মাকে বলতে শুনত, ‘আমি আমার স্বামী হারিয়েছি, আর আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে হারিয়েছে, কিš‘ দেশ কী হারালো? আমাদের ক্ষতি থেকে দেশের আরও মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেলো।’

তারপর ৪১ বছর পার হয়ে গেলো। ছোটবেলার সেই দুঃখ, কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়েই বছরগুলো পার করলো। সে বুঝতে পারল যে তার সত্তা, তার সেই হারানো বাবার মাঝেই লুকিয়ে আছে।
আজ ৩রা নভেম্বর ২০১৬। আজ থেকে ৪১ বছর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সারকারের অ¯’ায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী, খাদ্য ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

বাংলাদেশ তার সত্তা খুঁজে পাবে তখনই, যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামানের মতো সব নেতার আত্মত্যাগ, অবদান আমরা সঠিক এবং পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে পারব। তাদের আত্মত্যাগ ও আত্মদান খুলে দিক ইতিহাসের সেই জানালা যার গভীরে ঢুকে এই জাতি খুঁজে পাবে তার সত্তা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ৩ নভেম্বর ছিল জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তাজউদ্দিন আহমদসহ জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যা করা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন