সদ্য সংবাদ

 লাগাম টানা যাচ্ছে না সিন্ডিকেটের, দিশেহারা ভোক্তারা  কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৫ বিদ্রোহী নিহত  ব্যবসা নাই তবুও কোটি কোটি টাকার মালিক : আইভী  স্ত্রী-ছেলেসহ ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের   সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থীর পোষ্টার লাগাতে বাধা, মারধর  শাহরুখপুত্রকে গ্রেফতার করা সেই কর্মকর্তা নজরদারিতে   হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া   করোনায় আক্রান্ত শিক্ষকের বেতন কাটলো দুর্নীতিগ্রস্ত জহিরুল হকের কমিটি   ছিনতাই ও খুনি চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করছে পিবিআই নাঃগঞ্জ   খুনি নূর হোসেনের ভাতিজা বাদল ভালো, মেয়র আইভী ব্যর্থ!   সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতির বিধান কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট  বাড়ি ভারতে, অফিস করেন সিলেটে  আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের   ই-কমার্সের প্রতারনায় ভুক্তভোগী বাণিজ্যমন্ত্রী  সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু   ১০ হাজার ৫০০ শ্রমিককে ভিসা দেবে যুক্তরাজ্য  দেবীগঞ্জে বাসর রাতে পাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু  ‘চুনকা কুটির নয়, আইভীর হোয়াইট ওয়াশের জ্বালা বিরোধী পক্ষ  বিয়ের পর আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হচ্ছে: মাহি  বাংলাদেশে কেউ ভালো নেই : মির্জা ফখরুল

করোনায় আক্রান্ত শিক্ষকের বেতন কাটলো দুর্নীতিগ্রস্ত জহিরুল হকের কমিটি

 Fri, Oct 1, 2021 12:11 AM
 করোনায় আক্রান্ত শিক্ষকের বেতন কাটলো দুর্নীতিগ্রস্ত জহিরুল হকের কমিটি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ: অনিয়ম,দুর্নীতি আর বিতর্কের বাইরে কোনোভাবেই বের

হতে পারছেনা সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১২ সালে রহস্যজনক প্রক্রিয়ায় জহিরুল হক প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম,দুর্নীতি আর বিতর্কের ধারাবাহিক সিরিয়ালে পরিনত হয়েছে স্কুলটি।তৎকালীন সভাপতি তোফায়েল হোসেনের সময় স্কুলটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ২০১৭ সালে বর্তমান কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল স্কুলের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পর থেকেই স্কুলটিতে সর্বাধিক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী অভিমত ব্যক্ত করেছেন।স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী রওশন আরা সভাপতি থাকাকালীন কয়েক কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।আর বর্তমান সভাপতি সামশুল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুরো কমিটিকে অচল বানিয়ে রেখে সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী সদস্য দুজনকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক স্কুলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।এখন তিনি যা ইচ্ছে তা-ই করেন। যখন ইচ্ছে শিক্ষকদেরকে শোকজ করেন, সাসপেন্ডও করেন। এ বিষয়ে কোনো শিক্ষক প্রতিবাদও করতে পারেনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী সদস্যের ভয়ে।করোনাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষক নিজে মাসের পর মাস স্কুলে না আসলেও অনেক শিক্ষককে এবসেন্ট করে,বেতন আটকিয়েছেন। এ বিষয়ে শিক্ষকরা সভাপতির কাছ থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে সমাধান করেন।কিন্তু সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক গত আগস্ট/২১ মাসে করোনায় আক্রান্ত তিনজন শিক্ষকের ১০-১২ দিন করে বেতন কর্তন করেন। জানা যায় এসময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুল বন্ধ থাকা স্বত্বেও আনঅফিসিয়ালি স্কুল চালু থাকলেও শিক্ষকদের কোনো হাজিরা ছিলোনা। ভুক্তভোগী ঐসব শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত থাকাকালীনও স্কুলের এ্যাসাইনমেন্ট ও অন্যান্য দায়িত্ব কোয়ারেনটাইনে থেকেও করে গেছেন।

এসময়ে তারা অসুস্থতার কথা সহকারী প্রধান শিক্ষককে জানান এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিধি ও কোয়ারান্টাইন মেনে চলার কথা জানানোর পরও প্রধান শিক্ষক তাদের আগস্ট মাসের বেতন কর্তন করেন।নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকের এই অমানবিক আচরণের শিকার শিক্ষকরা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য উর্ধতন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন।সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৮/০৯/২১ তারিখ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব প্রাইভেট কার ভাড়া করে সানারপাড় স্কুলে এসে তদন্ত করেন।এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উভয় পক্ষের ভুল ত্রুটি আছে বললেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।তবে কমিটির মিটিং ছাড়া সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষক একক ক্ষমতায় কোনো প্রকার কৈফিয়ত তলব না করে শিক্ষকদের বেতন কর্তন করা ঠিক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আগমনে খাবার দাবারের বিশাল আয়োজন ও প্রধান শিক্ষকের সাথে গোপনীয় সম্পর্ক এবং তদন্তে এসে আবু তালেবের তার অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য জিজ্ঞেস করা নিয়ে ঐসব শিক্ষকরা সঠিক প্রতিবেদন ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে একই বিষয়ে আরেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম আজ নিজেই এ বিষয়ে সানারপাড় হাইস্কুলে তদন্তে আসেন।সকল শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হলে প্রধান শিক্ষক ও কমিটির নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় প্রকাশ পায়।করোনাকলীন এই দুর্যোগের সময় আক্রান্ত শিক্ষকদের বেতন কর্তনের বিষয় বাংলাদেশে এটাই একমাত্র ঘটনা।এরকম অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিনি বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করেন।এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী সহ সকল শিক্ষকদেরকে আলাদাভাবে নিজনিজ মতামত লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়ে যান।
এদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পরপরই প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক ও বিতর্কিত সভাপতি সামশুল আলম সহকারী প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ও শামীমকে দিয়ে অভিযোগকারী শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা ও মেহের আফরোজের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়ে স্কুলে এসে এ বিষয়ে আপোষ করার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।তবে ঐ দুই শিক্ষক তাদের অভিযোগের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আপোষ করবেননা বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক সবসময়ই কিছু স্থানীয় সন্ত্রাসী লোকজন আয়ত্ত করে রাখেন বিধায় এ বিষয়ে ঐসকল শিক্ষক যেকোনো সময় হুমকি, হামলা ও হেনস্তা হওয়ার আশংকায় নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা ব্যক্ত করেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন