সদ্য সংবাদ

  করোনায় পুলিশের ‘বীরত্বগাঁথা’ নিয়ে বই  মিয়ানমার থেকে এলো ২০ টন পেঁয়াজ  আড়াইহাজারে গাঁজার চাষ, দুই সহোদর আটক  এই সরকারকে সরাতে হবে: মির্জা ফখরুল   ইউএনও ওয়াহিদাকে ওএসডি, স্বামীকে বদলি   মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে  বিশ্বে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ আসছে, ক্ষুধায় মরবে ৩ কোটি মানুষ!  আল্লামা শফীর জানাজায় জনতার ঢল, লাখো মানুষের চোখে পানি  মসজিদ বিস্ফোরণে ঘটনায় তিতাসের ৮ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।  ইউএনও ওয়াহিদার বাসায় টাকা ছিল ৪০ লাখ, সেই মালি নেয় ৫০ হাজার   ‘তিশা প্লাস’ বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণ  'ঊর্মিলাকে পর্ন অভিনেত্রী' বললেন কঙ্গনা  যে যাই বলুক, আসলে মানুষ‌‌ পুলিশকে ভালোবাসে   আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করবেন, সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী  ট্রাম্পের নারী কেলেংকারি ফাঁস, মুখ খুললেন মডেল  দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ভারত : জাফরুল্লাহ  তিতাস-ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটি দায়ী: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন  তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে সীমাহীন র্দূভোগ:দেখার কেউ নেই   মসজিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারের মাঝে জেলা আ:লীগের আর্থিক সহায়তা প্রদান   ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

শাকিল এবং তাহারা

 Tue, Dec 13, 2016 2:17 PM
     শাকিল এবং তাহারা

সৈকত এম তানভীর :: মাহবুবুল হক শাকিলের আত্মহত্যা কিংবা স্ট্রোক কোনোটাই হয়তো আজ আর সেদিনের মতো অবাক করা দেয়া বিতর্ক নয় ।

 যে যাবার সে চলে যায়, এভাবেই ভাবা যেতো কিন্তু
যারা তাকে চিনতো, তাদের কাছে কবি শাকিল  বেঁচে থাকবেন অনেকদিন যার শুরুটা একজন
 রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ।  এই সম্ভাবনাময় মানুষটিকে শুধুমাত্র কয়েকজন
উচ্চাভিলাষী নারী তাদের নিজেদের প্রয়োজনে, তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার
করেছে যখনি শাকিলের দল ক্ষমতায় এসেছে। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে  ঠেলে দিয়েছে
মৃত্যুর দুয়ারে যেখান থেকে শাকিল আর ইচ্ছে থাকলেও ফিরতে পারেননি ।
তাদের সংখ্যা একদম কম নয়।
তবে শুধু চার /পাঁচ জনের  কথা বলবো।

১. সোনিয়া গাজী : শেখ হাসিনা যখন প্রথমবার প্রধান মন্ত্রী হলেন, তখন শাকিল
ছাত্র লীগের  সিনিয়ার সভাপতি। ক্ষমতার  কাছাকাছি। তখনই  নাখাল পাড়ার উঠতি
 মডেল সোনিয়া গাজী  তার উপরে ওঠার হিসাবটা করে ফেলে , শাকিল হয়ে যায় তার
অঘোষিত বয়ফ্রেন্ড।  শাকিলকে তখন দেখা যেত ঢাকার বিভিন্ন ডিজে পার্টিতে সোনিয়ার
সঙ্গে , রাতভর  এলকোহলে ড্রাঙ্ক দুজনেরেই গন্তব্য এক। সোনিয়ার খালি বাসা কিংবা
শাকিলের ব্যাচেলার এপার্টমেন্ট। ৯৯ এর শেষে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই  সোনিয়া
"মিস বাংলাদেশ" হয়ে যায় ! মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করে  শাকিলকে
 শুধু শারীরিক সম্পর্কের বৃত্তে আবদ্ধ রেখেই। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে
 হেরে  গেলে শাকিলকে ছুঁড়ে ফেলে সোনিয়া তার জীবন থেকে।  ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ
আবার ক্ষমতায় আসলে সোনিয়া আবার শাকিলকে ফিরিয়ে নেয় তার জীবনে। প্রায়ই দুজনের
দেখা হতো  সোনিয়ার পৈতৃক নাখালপাড়ার বাসায়, ব্যাংকার  স্বামীর অগোচরে। ২০০৯
সালে শাকিলের জীবনে উচ্চ  শিক্ষিত সুন্দরী স্মার্ট কূটনীতিক শাহনাজ গাজীর
 (এলা) অধ্যায় শুরু হয়। এবার  ছিটকে পড়ে সোনিয়া গাজী। তবে তা শুধু দুই বছরের
জন্য। ২০১০ এর শেষে শাকিলের জীবন থেকে শাহনাজের প্রস্থানে সোনিয়া তার হারানো
রক্ষিতা পদমর্যাদা ফেরত পায় , এবং  তা চলে ২০১৬ পর্যন্ত। এই সম্পর্কটি শুধুই
শারীরিক। মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব  কিংবা সুনীলের নাম সোনিয়ার পরিচিত নয়,
যতটা সে চেনে লিপস্টিকের  রং।

২. মডেল আঁখি : মধ্য ৯০-এ   সম্ভাবনাময়ী মডেল তিন বারের ডিভোর্সি আঁখির সাথে
শাকিলের দেখা হয় এক ডিজে পার্টিতে। ততদিনে ক্ষমতাকেন্দ্রিক  যৌনতা শাকিলকে
ট্রান্সফর্ম করেছে এক প্রমোদবালকে।  আঁখি  তার ক্যারিয়ারের  উর্ধগামিতার
স্বার্থে  ব্যক্তিগত  বহুগামিতায় শাকিলকে ঈশারা দেয় বন্ধনহীন যৌনতার। তারা
 শরীরী প্রেমের নৌকা বেয়ে যায় বেশ কিছুটা সময় । সুন্দরী অথচ এসএসসি পাস নয়,
মডেল আঁখি  শাকিলের জীবনে স্থায়ী হতে পারেনি। চতুর্থ   স্বামীর সাথে নিউ
ইয়র্কে স্থায়ী হয় সে, কিন্তু যখনই দেশে এসেছে  সে, গুলশানের সামদাদো
 রেস্তোরাঁর দোতালায় শাকিলের ফুল সাজানো কক্ষে  কিংবা ওয়েস্ট ইনের  বিশেষ ভিআইপি
সুইটে  তাদের সারারাত নিমিষেই সকাল হয়ে যেত।

৩. শাহনাজ গাজী (এলা ) : সে ছিল শাকিলের জন্য পারফেক্ট ম্যাচ। জাহাঙ্গীরনগর
ইউনিভার্সিটির ইংলিশ লিটারেচারে এম এ , ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিনিস্টার
ইউনিভার্সিটি থেকে ফরেন রিলেশনস -এ দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রী নেয়া অসম্ভব
 মেধাবী  এই নারী আসলেই  বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের জন্য একটি অ্যাসেট । বিউটি
এবং ব্রেইনের সত্যিকার সমন্বয়। ২০০৯এ   শাকিল ও শাহনাজের পরিচয়   প্রধান
মন্ত্রীর অফিসে। দুজনেরই কর্মক্ষেত্র। শাহনাজে মুগ্ধ শাকিল। শেক্সপীয়ার  থেকে
 রবীন্দ্রনাথ , ওমর খৈয়াম থেকে মায়া  এঞ্জেলো , শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে সমকালীন 
কবিতা, লস এঞ্জেলেসের স্যান হোসে ক্রিক থেকে  পূর্ব এশিয়ার মেকং নদী  সবই  যেন
শাহনাজের  প্রসারিত দিগন্তের অংশ। দুজনেই পরকীয়ায় হারিয়ে যায়। শাহনাজ এই
সম্পর্কের পরিণতি  নিয়ে ভাবেনি কখনো, আর শাকিল  যিনি তার বৈধ স্ত্রীর প্রতি
ছিলেন বিকর্ষিত এবার সিরিয়াস। প্রধান মন্ত্রীর  সঙ্গে শাকিল আর শাহনাজ দুজনেই
যান নিউ ইয়র্কে। সেটা ২০১০ সাল । ম্যানহাটানের  গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে  গভীর
রাতে শাহনাজের রুমে তার বিশ্ববিদ্যালয়  জীবনের এক বন্ধু ,যে নিজেও ফরেন
সার্ভিসে কর্মরত, তাকে দেখে  শাকিল চড়াও হয় শাহনাজের  উপর। শাকিল ভুলে যান
শাহনাজের জীবনে তিনি  নিজেও আইনগতভাবে সামাজিকভাবে "বৈধ" নন । কলিগের সামনে
বিব্রত  লাঞ্চিত  শাহনাজ হোটেল সিকিউরিটিকে কল করে।  গ্রেফতার এড়াতে শাকিলকে
দ্রুত  দেশ ফিরতে হয়। ভেঙে যায় শাকিল আর শাহনাজের লাভ অ্যাফেয়ার , শাহনাজের
পোস্টিং হয় চায়না ও পরে ফিলিপিন্স -এ। একাকিত্ব সঙ্গী হয় শাকিলের, হারিয়ে যেতে
থাকে  সুলতান বদুয়ানির শায়েরি ,হেমন্তের সকাল  ,তার ভালোবাসার ঘর হয়ে যায়
সাহারার মতো বৃষ্টিহীন মরুভূমি।

৪. শারমিন লাকি : বরিশালের মেয়ে লাকি  ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসাবে বিজ্ঞাপনের
জগতে পরিচিত প্রায় দুই যুগ ধরে। তার আবৃত্তির কণ্ঠ , তার কণ্ঠে কোলকাতার
পুরোনো দিনের গান শাকিলকে  কাছে টানে , শাহনাজ গাজীর দেশ ছেড়ে বিদেশে পোস্টিং
-এর পরে। শাকিলের শূন্য হৃদয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চেয়েছিলো  এই নারী, যদিও
শাহনাজের শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয় তা জানা স্বত্বেও ।  কখনো ঢাকায় ,কখনো
কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে তাদের পরস্পরকে আবিষ্কারের ব্যর্থ চেষ্টা ছিল
নিরন্তর।

৫. ফারাহ হোসেন : ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে  সম্ভবত  সোসিওলজি  ডিপার্টমেন্টে পড়তো
ফারাহ। ততদিনে শাকিল ইউনিভার্সিটির পাট চুকিয়েছেন , যদিও ছাত্ররাজনীতির কারণে
ক্যাম্পাসে যাওয়া আসা নিয়মিত। দুই দশক  আগের সেই সম্পর্কে আবার জোয়ার আসে
ফারাহ দেশে আসার পর , যখন শাকিল প্রধান মন্ত্রীর অফিসে। এই  অনিয়মিত শারীরিক
বন্ধুত্ব কবি শাকিলের বাউল হৃদয়ে  শোনাতে পারেনি কোনো চঞ্চলা পাখির ডাক।

সোনিয়া গাজী, শারমিন লাকি , ফারাহ হোসেন , আঁখিরা  কেউই পারেনি শাকিলের
সৃষ্টিশীল সৃজনশীলতার সত্যিকার অংশীদার হতে। শাহনাজের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে এক
প্রগাঢ় দীর্ঘশ্বাস , অবয়বহীন সেই  দীর্ঘশ্বাসের অস্তিত্ব ভারী হতে হতে
 কাঁদাবে তাকে সারা জীবন।

"মৃতদের কান্নার কোন শব্দ থাকে না, থাকতে নেই,
নেই কোন ভাষা, কবরের কোন ভাষা নেই।
হতভাগ্য সে মরে যায় অকস্মাত বুকে নিয়ে স্মৃতি,
তোমাদের উত্তপ্ত সৃষ্টিমুখর রাতে।” - মাহাবুবুল হক শাকিলের  লেখা শেষ কবিতার
শেষ চারটি লাইন।

সৈকত এম তানভীর : সিটিজেন জার্নালিস্ট , ঢাকা
ছবি : শাহনাজ গাজী , শারমিন লাকি,
       সোনিয়া গাজী  ও আঁখি


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন