সদ্য সংবাদ

  মালয়েশিয়া কারাবন্দি অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবে মালয়েশিয়া  করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়ছে -ফখরুল  ভারতে এক খুন লুকাতে ৯ খুন!   দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১১৬৬, মৃত্যু ২১  করোনায় আক্রান্ত ৩৫৭৪ জন পুলিশ সদস্য   বলিউডে নাম লেখাতে যাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তীর মেয় দিশানি  ট্রাম্পের সেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ওষুধে করোনা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি   গণস্বাস্থ্য করোনা পরীক্ষা করবে, সবার জন্য উন্মুক্ত   চুমু দিয়ে গ্রে প্রেমিকাকেফতার ইরানি খেলোয়াড়  পোশাক কারখানা মালিকের কান্না আন্তর্জাতিক মাধ্যমে   করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি পুতুল   সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৪   হরিণাকুন্ডু নাগরিক সেবা বন্ধ ঘোষণা ইউপি চেয়ারম্যানদের   ঝিনাইদহের ডালিয়া ফার্মে প্রতিদিন ফ্রি দুধ বিতরন   পাকিস্তানের করাচিতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৭   করোনায় আক্রান্ত র‍্যাব ৪-এর অধিনায়ক  চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর রবিবার  আশুলিয়ার আউকপাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি।  করোনার কারণে প্রবাসীদের ৮৭ শতাংশের আয়ের কোনো উৎস নেই  দুবাই সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ফিরে আসা সাংবাদিক এইচ ইমরান।

‘না বলা কথা: ভালবাসা দিবসে পিতৃহীন জীবনে যেটুকু পেলাম

 Fri, Feb 15, 2019 11:17 PM
‘না বলা কথা: ভালবাসা দিবসে পিতৃহীন জীবনে যেটুকু পেলাম

হাবিব সরোয়ার আজাদ:: ১৪ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ২০১৯ সাল বরাবরের মতই বিশ্ব ভালবাসা দিবসের নামে

 হয়ত কারো কারো চরিত্রে শ্লীলতা-কিছুটা অশ্লীতার মধ্যেই দিবসটি কেটেছে। 

আমি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কিছুটা মনমরা ছিলাম। কারন গ্রামের বাড়িতে রয়েছে আমার বয়োবৃদ্ধ মা, শিক্ষক স্ত্রী আর ছোট মেয়ে আদ্রিতা। আমি পড়ে আছি ইট পাথরের শহরে বড়ছেলে শিপুর নিকট। ওই একই শহরে আরেকটি ছাত্রী হোষ্টেলে পৃথক ভাবে থেকে লেখাপড়া করছে আমার বড় মেয়ে আনিকা। আমার প্রিয় শহর সিলেটের ভাল মানের দুটি প্রতিষ্ঠানেই ওরা দুই ভাইবোন লেখাপড়া করছে। 

বৃহস্পতিবার কথিত বিশ্ব ভালবাসা দিবসে আমি যে, আমার পুরো পরিবারের সদস্যদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসত পারব না সে ভাবনাই আমাকে হতাশায় ফেলেছে দিন কয়েক পুর্ব থেকেই। 

অপরদিকে আমার পিতাও প্রয়াত হয়েছেন বছর দুই গত হয়ে গেল, সেই অভাব তো আর কোনদিন পুরণ হবারই নয়! 

যাই হোক নানামুখী হতাশার মাঝেও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ছেলেকে স্কুল ক্যাম্পাসে দিয়ে ফিরে আসি বাসায়। এরপর কথা ছিল মেয়ের ওখানে যাব। যাওয়া হলনা। রাতে আমার ছেলেকে পাঠিয়ে হোষ্টেল থেকে মেয়েকে আমাদের আশ্রিত (ভাড়া) বাসায় নিয়ে আসা হয়। আমি ততক্ষণে মেয়ের মুখ দর্শন না করেই আমার যান্ত্রিক দ্বি-চক্র  যানটি নিয়ে ইট পাথরের শহরে ব্যাক্তিগত কিছু কাজে বের হয়ে যাই।

রাত তখন ৯টা ১৫  মহানগরীর শহরের একটি ব্যস্ততম মোড়ে যানজটে আটকা পড়েছি। ওই সময় দ্বিচক্র যানে বসেই দেখলাম শহরের একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকানের ভিড়। শার্ট প্যান্ট পড়া কয়েকজন ভদ্রলোক দলবদ্ধ হয়ে মিষ্টি মুখ করছেন আর অদুরেই দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছেন একজন থলে হাতে সাদা দাড়িওয়ালা বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক।’ 

ভদ্রলোকেরা পেছনে ফিরেই দেখছেন না হালকা কনকনে শীতের এতরাতে হয়ত দাড়িয়ে আছেন কয়েকটি টাকা না হয় একটি মিষ্টি খাওয়ার একবুক আশা নিয়ে ওই বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক লোকটি।, 

আমিও যানযট থেকে কোন রকম উদ্ধার হয়ে ওই মিষ্টির দোকানের একপাশে আমার যানটি সাইট করে নেমে পড়লাম। ডাকলাম বয়োবৃদ্ধ পিতৃতুল্য ভিক্ষুক লোকটিকে।  তিনি কাছে আসলেন।

এরপর দোকানের সামনের ওই ভদ্র লোকদের ভিড় পাড় করে ওনাকে নিয়ে দাড় করালাম মিষ্টির দোকানের বারান্দায় কারন ভেতরেও ছিল ভিড়। 

এক পর্যায়ে দোকানের ভেতর গিয়ে দোকানে ডেলিভারী দেয়া ছেলেটিকে ডেকে দুটি প্লেটে করে দুটি চমচম জাতীয় মিষ্টি নিয়ে আসলাম। কোন কথাবার্তা ছাড়াই নিজের পাশে রেখে নিজ হাতে মিষ্টির একটি প্লেট বৃদ্ধ মানুষটিকে হাতে দিয়ে বললাম, ‘নেন বাবা এবার একটু মিষ্টি মুখ করেন, সাথে আমিও শুরু করলাম। 

কিছুক্ষন পর দেখলাম তিনি মিষ্টি না খেয়ে আমার মুখের পানে তাকিয়ে আছেন। আবারো বললাম আরে বাবা, আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস , আমার পিতা নেই , আপনাকে আমার পিতা মনে করেই ভালবেসে আজ আপনাকে মিষ্টি খাওয়ানোর ইচ্ছে হল। 

ততক্ষণে ওই দলবদ্ধ ভদ্রলোকেরা কিছুটা হুশ ফিরে পেয়ে আমাদের দিকে তাকালেন এবং মনে হল কিছুটা লজ্জাবোধ আসায় উনারা আরো কিছুদুরে চলে গেলেন। 

এরপর অন্যএকজনকে মুঠোফোনটি দিয়ে বললাম ভাই দয়া করে আমাদের বাপ-বেটার কয়েকটি  ফটো তুলে দেন ,ফটো তুলাও হল। 

এরপর ওই ভ্ক্ষিুক পিতাকে বললাম আপনি কী পান খাবেন? তিনি সম্মতি দিলেন আর জানতে চাইলেন এখানে তো পান নেই তুমি কোথা থেকে আনবে?। আমি বললাম আপনি আমার যানটির নিকট দাড়ান আমি নিয়ে আসছি। কিছুদুর গিয়ে ওনার জন্য একটি পানও নিয়ে এসে উনার হাতে দিলাম।, 


এবার দেখি উনার ছোখ চলচল করছে।

জানতে চাইলাম উনার পারিবারীক অবস্থার কথা?। 

তিনি বললেন আমার বয়স ৯০, বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ এলাকায়, নাম সমশেদ আলী, চার মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন, বাড়িতে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছোট ছেলে আর ওনার স্ত্রী রয়েছেন। উনি এও বললেন শারিরীক অসুস্থতা ও বার্ধক্যের জন্য কাজ কর্ম করতে পারেন না। তাই হযরত শাহজালাল রহ.’র মাজার শরীফে থেকে ভিক্ষে করেন, আজ মাজারে জিয়ারতির সংখ্যা কম থাকায় মাজার থেকে শহরে বের হয়েছেন লোকজনের নিকট থেকে কিছু পাবার আশায়, সেই সাথে ওই ভদ্রলোকগুলোর মিষ্টি খাওয়া দেখে উনারাও ইচ্ছে জেগেছিল মিষ্টি খাওয়ার কিন্তু সামর্থ বা চেয়ে খাওয়ার মত দু:সাহস তিনি দেখাননি। ,

তিনি এও বললেন আল্লাহ মানুষের  মনের আশা অপুর্ণ রাখেন না , তা না হলে তুমি কেন বাবা এতরাতে কোথা থেকে ্এসে হঠাৎ আমার মুখে মিষ্টি তুলে দিলে? , এ যে আল্লাহর দয়া! বলেই কাঁদতে লাগলেন!। 

আমি উনার কান্না থামানোর চেষ্টার এক পর্যায়ে উনাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম, উনিও বুকে জড়িয়ে ধরলেন, এ যেন পিতা-পুত্রের মহামিলনের স্বাদ পেলাম , উনিও পুত্রের ভালবাসার স্বাদ পেলেন।, 

এরপর কিছু টাকা উনার হাতে গুজে দিলাম, উনি  তা নিতেও রাজি নন, একপ্রকার জোর করেই উনাকে টাকাগুলো দিয়ে বিদায় নিলাম ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটা রাত ৯টা ৫০ ছুই ছুই করছে।

বিদায় বেলায় উনি বললেন, আমি দরগার মসজিদের পাশেই থাকি, শহরে থাকলে তুমি আমায় দেখতে এসো।, আমিও কথা দিলাম উনাকে দেখতে যাব দরগায়, শহরে থাকলে অবশ্যই উনার সাথে দেখা করব, খোঁজ নেব কথাও দিলাম। 


এবার বিদায় বেলায় নিজের অজান্তেই কয়েক ফোটা আনন্দ অশ্রু আমার চোখ থেকেও গড়িয়ে পড়ল।, 

ভাবছিলাম কী করব ?আমার সাধ আছে কিন্তু সাধ্য ও সীমাবদ্ধার কারনেও তো আমার শেখলে বাধা পারিবারীক জীবন। 

বিদেয় লগ্নে বুঝলাম আসলেই আমি আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ১৮ কোটি মানুষের মন জয় না করতে পালেও অনন্ত একজন বয়োবৃদ্ধ পিতৃতুল্য ভিক্ষুক পিতার মন জয় করতে পেরেছি সেইসাথে পিতৃস্নেহের পরশে সন্তানের ভালবাসাটুকু আদায় করেই নিলাম!  


জানিনা আমার এ লেখা হয়ত কারো কারো নিকট ভালো না লাগতে পারে তবুও  কথিত ভালবাসা দিবসে নিজের প্রাপ্তির কথাটুকু বন্ধু মহল ও শুভাকাস্খিদের না জানানোর ইচ্ছে দমন করতে পারিনি।

সারমর্ম: হয়ত আমার এ লেখা বা বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক পিতাকে মিষ্টি মুখ করানোর মত সামান্য কাজটুকু  হয়ত কারো নিকট কোন ধরণের শিক্ষনীয় এমন কিছুই নয়, কেউ কেউ হয়ত আমাকে নিয়ে উপহাস বা ব্যঙ্গও করতে পারেন। 

কারন কথিত ওই দিবসকে ঘিরে ফুল কিনে কারো খুপায় বাধিনী, অহেতুক আড্ডা দিয়ে হোটেলে গিয়ে ভুরিভোজের নামে অর্থের অপচয় করিনি, প্রতারণা করে নিজেকে অবিবাহিত সাজিয়ে কোন তরুণীকে নিয়ে  সাইলেনসারের বিকট শব্দ তুলে দ্বিচক্র যানের পেছনে বসিয়ে পর্যটন কিংবা আড়ালে আবঢালে নোংরামীতে মেতে উঠার মত যোগ্য লোক আমি যে আজো হতেই পারিনি।,

সবশেষে বন্ধু মহলকে বলব, আমার এ লেখায় যদি কোন ভুলক্রুটি হয়েই থাকে তবে মার্জনার চোখে দেখলে কৃতার্থ হব।। 

বিনীত ।।

হাবিব সরোয়ার আজাদ, ‘দৈনিক যুগান্তর’ ষ্টাপ রিপোর্টার ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ‘দ্যা বাংলাদেশ টুডে’ ১৫.০২.২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ  ।।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন