সদ্য সংবাদ

  অভিনেত্রী পায়েলের ওপর হামলা   বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের  নারায়ণগঞ্জ ডি‌বি পু‌লি‌শের সোর্স প‌রিচ‌য়ে বেপরোয়া সেই মোফাজ্জল ও মিশু চক্র   দেশে করোনায় ১৩ দিনে ৭৯২ জনের মৃত্যু   গুলিতে ৪ মুসলমানের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ মমতার  একাধিক বিয়ে নিয়ে নাক গলানোর অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে?   অবহেলার জবাব এই স্বর্ণ: মাবিয়া   একদিনে রেকর্ড ৭৬২৬ শনাক্ত, মৃত্যু ৬৩   হেফাজতের তাণ্ডবে ৩ মামলা, মামুনুল হকসহ আসামি ৫৫০   রুহানীর মেডিকেল ভর্তি দায়িত্ব নিলেন পৌর মেয়র মিন্টু  ঝিনাইদহ ট্রাফিক অফিসের অভিযান-   রফিকুল ইসলাম মাদানীকে যে কারণে আটক করা হয়েছে  বিশ্বকাপজয়ী মঈনকে ‘জঙ্গি’ বললেন তসলিমা, আর্চারের প্রতিবাদ  নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে মার্কেট খোলার দাবীতে মানববন্ধন  লকডাউনে সিটিতে গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন  দিয়া মির্জা বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা  লঞ্চডুবিতে ৩৫ লাশ: নৌ চলাচলে জেলা প্রশাসনের ৮ নির্দেশনা   করোনা: বিশ্বে ৩০ লাখ ছাড়াল মৃতের সংখ্যা  মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ মে  রূপগঞ্জে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটছে ভারত ও রংপুরে

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মানুষ

 Sat, Oct 20, 2018 8:35 AM
পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটছে ভারত ও রংপুরে

পঞ্চগড় থেকে কামরুল ইসলাম কামু॥ : দেশের সর্ব উত্তরের শেষ জেলা পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

সরকারী হাসপাতালগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ চিকিৎসা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা তৈরী হওয়ায় প্রায় সব ধরনের রোগের সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেনা।  

চরম দূর্ভোগে পড়েছে এ অঞ্চলের রোগীরা ।

পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালটি শুধু নামে নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মানুষের কষ্টের অন্ত নেই। পাশাপাশি এ হাসপাতালটি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কোথাও গিয়ে ও তারা এর প্রতিকার পাচ্ছেনা। এ নিয়ে সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রতিদিন পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালটিতে শত শত রোগী আসেন। কিন্তু ছোট-বড় সহ জটিল রোগীরা নাম মাত্র চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরছে। আবার কদিন পরেই রোগী আগের অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিনা চিকিৎসায় ধূকে ধুকে অসহায় গরীব ও অস্বচ্ছল পরিবারের রোগীরা নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এছাড়া পরিবারের কর্মক্ষম মানুষটি কাজ কর্ম করতে না পেরে পরিবারটি নি:স্ব হয়ে পড়ছে।

মাঝা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, র্দীঘমেয়াদে জ¦র, হাটু ব্যাথা সহ নানা রকমের রোগের চিকিৎসা দিতে পারছেনা হাসপাতালটি।পঞ্চগড় দেওয়াহাটের মো. আব্দুল খালেক বলেন,আমার ভাতিজাকে সাপে কামড়িয়েছে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলাম কোন চিকিৎসা পেলাম না। রংপুরে নিয়ে গেলাম। সেখানে চিকিৎসা করে সুস্থ করলাম। তবে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত পেলাম না।

এদিকেগাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে গাইনি রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই কোনোমতে সিজারিয়ান অপারেশন করে ইচ্ছামত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। আর রোগীর স্বজনরাও নিরুপায় হয়ে তাদের কাছেই ছুটে যাচ্ছেন প্রসূতি রোগীদের নিয়ে।

এদিকে মহিলাদের নানা রোগীরা বেশী পেরাশানীতে পড়ছে। তাদের রোগ নির্ণয় করতে না পারায় তারা যাচ্ছেন রংপুর অথবা ভারত। যাদের সামর্থ্য নেই তারা বিনা চিকিৎসায় ধূকে ধূকে মুত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

এদিকে মমূর্স রোগীদের জন্য আরো কষ্টের। তাদের ভারতে যেতে হলে সময় লাগে দুই/তিনমাস। কারন পাসপোর্ট ভিসা জটিলতা। তাই রোগীরা অনিরাপদ ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে নানা দূর্ভোগে পড়ছে।

এছাড়া কিছু কিছু রোগের বিষয়ে কোন রকম সিদ্ধান্ত না দিয়েই ছেড়ে রোগীদের বাহিরে চিকিৎসা নিতে বলেন চিকিৎসকরা। ইদানিং অধিকাংশ চিকিৎসককে রংপুর, ঠাকুরগাওঁ রেফার্ড করছেন। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন রোগী ও তার পরিবারের লোকজন।

রেফার্ড করার বিষয়ে অভিযোগ প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আছেই। ফলে গরীব মানুষরা জমাজমি, গরু –ছাগল বিক্রি করে রংপুর-ঠাকুরগাঁও যাচ্ছে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে।সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একাধিক চিকিৎসককে বারবার ফ্রি  দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানীর শেষ নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে রোগীকে সামাল দিতে হয়। এতে পরিবারের অন্যসব সদস্যরাও রোগীতে পরিনত হয়। এতে গরীর ও অস্বচ্ছল পরিবারের রোগীর করতে গিয়ে ফতুর হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল। এর ২০ বছর পর ২০০৩ সালে ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে পরিণত হয় এটি। তবে দীর্ঘ দিনেও বৃদ্ধি পায়নি এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান।

এদিকে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালের মেডিসিনি ও হ্্রদ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোশারফ হোসেন চাকুরীতে অবসরে যাওয়ায় আরো সংকট তৈরী হয়েছে।

তবে সম্প্রতি জেলায় ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানালেন সিভিল সার্জন ডা. নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন,জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আমরাও বিপাকে পড়েছি। এখানে জরুরী ভাবে একজন করে গাইনি, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। পাশপাশি জনবল সঙ্কটও রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ জন মেডিকেল অফিসার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেছেন। আরও চারজন চিকিৎসকের যোগদান করার কথা রয়েছে। আশা করছি, জেলায় স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি পাবে।

পঞ্চগড়ের মানুষ স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় নিতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন