সদ্য সংবাদ

 কালকিনিতে ১৩১ বাড়িতে লাল নিশানা লাগিয়ে দিলো প্রশাসন  করোনার বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম শান্তির অভিযান শুরু  রংপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  নরসিংদীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২০৫ প্রবাসী  কালকিনির বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন  পঞ্চগড়ে সাড়ে ৭শ’ পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ  রংপুরে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  পার্বতীপুরে শুধুমাত্র পূজার মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা পরব’ উদযাপিত  রংপুরে এরশাদের জন্মদিন পালিত  বিএফআরআইতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস পালিত  করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পঞ্চগড়ে জরুরি বৈঠক  আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে : সাদ এরশাদ এমপি  কালকিনিতে দুই প্রবাসীকে আর্থিক জরিমানা  পঞ্চগড়ে সীমিত পরিসরে মুজিববর্ষ পালিত  রংপুরে ৮টি রাস্তা পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু  কালকিনিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে মুজিব উতসব পালিত  কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে কীটনাশক মুক্ত সবজির চাষ!

পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটছে ভারত ও রংপুরে

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মানুষ

 Sat, Oct 20, 2018 8:35 AM
পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে রোগীরা ছুটছে ভারত ও রংপুরে

পঞ্চগড় থেকে কামরুল ইসলাম কামু॥ : দেশের সর্ব উত্তরের শেষ জেলা পঞ্চগড়ে চিকিৎসা সেবায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

সরকারী হাসপাতালগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ চিকিৎসা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা তৈরী হওয়ায় প্রায় সব ধরনের রোগের সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেনা।  

চরম দূর্ভোগে পড়েছে এ অঞ্চলের রোগীরা ।

পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালটি শুধু নামে নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মানুষের কষ্টের অন্ত নেই। পাশাপাশি এ হাসপাতালটি নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কোথাও গিয়ে ও তারা এর প্রতিকার পাচ্ছেনা। এ নিয়ে সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

প্রতিদিন পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালটিতে শত শত রোগী আসেন। কিন্তু ছোট-বড় সহ জটিল রোগীরা নাম মাত্র চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরছে। আবার কদিন পরেই রোগী আগের অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিনা চিকিৎসায় ধূকে ধুকে অসহায় গরীব ও অস্বচ্ছল পরিবারের রোগীরা নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এছাড়া পরিবারের কর্মক্ষম মানুষটি কাজ কর্ম করতে না পেরে পরিবারটি নি:স্ব হয়ে পড়ছে।

মাঝা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, র্দীঘমেয়াদে জ¦র, হাটু ব্যাথা সহ নানা রকমের রোগের চিকিৎসা দিতে পারছেনা হাসপাতালটি।পঞ্চগড় দেওয়াহাটের মো. আব্দুল খালেক বলেন,আমার ভাতিজাকে সাপে কামড়িয়েছে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলাম কোন চিকিৎসা পেলাম না। রংপুরে নিয়ে গেলাম। সেখানে চিকিৎসা করে সুস্থ করলাম। তবে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত পেলাম না।

এদিকেগাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে গাইনি রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই কোনোমতে সিজারিয়ান অপারেশন করে ইচ্ছামত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। আর রোগীর স্বজনরাও নিরুপায় হয়ে তাদের কাছেই ছুটে যাচ্ছেন প্রসূতি রোগীদের নিয়ে।

এদিকে মহিলাদের নানা রোগীরা বেশী পেরাশানীতে পড়ছে। তাদের রোগ নির্ণয় করতে না পারায় তারা যাচ্ছেন রংপুর অথবা ভারত। যাদের সামর্থ্য নেই তারা বিনা চিকিৎসায় ধূকে ধূকে মুত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

এদিকে মমূর্স রোগীদের জন্য আরো কষ্টের। তাদের ভারতে যেতে হলে সময় লাগে দুই/তিনমাস। কারন পাসপোর্ট ভিসা জটিলতা। তাই রোগীরা অনিরাপদ ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে নানা দূর্ভোগে পড়ছে।

এছাড়া কিছু কিছু রোগের বিষয়ে কোন রকম সিদ্ধান্ত না দিয়েই ছেড়ে রোগীদের বাহিরে চিকিৎসা নিতে বলেন চিকিৎসকরা। ইদানিং অধিকাংশ চিকিৎসককে রংপুর, ঠাকুরগাওঁ রেফার্ড করছেন। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন রোগী ও তার পরিবারের লোকজন।

রেফার্ড করার বিষয়ে অভিযোগ প্রতিদিন প্রতিনিয়ত আছেই। ফলে গরীব মানুষরা জমাজমি, গরু –ছাগল বিক্রি করে রংপুর-ঠাকুরগাঁও যাচ্ছে বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে।সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একাধিক চিকিৎসককে বারবার ফ্রি  দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হয়রানীর শেষ নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে রোগীকে সামাল দিতে হয়। এতে পরিবারের অন্যসব সদস্যরাও রোগীতে পরিনত হয়। এতে গরীর ও অস্বচ্ছল পরিবারের রোগীর করতে গিয়ে ফতুর হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল। এর ২০ বছর পর ২০০৩ সালে ১০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে পরিণত হয় এটি। তবে দীর্ঘ দিনেও বৃদ্ধি পায়নি এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান।

এদিকে পঞ্চগড় সদর আধুনিক হাসপাতালের মেডিসিনি ও হ্্রদ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোশারফ হোসেন চাকুরীতে অবসরে যাওয়ায় আরো সংকট তৈরী হয়েছে।

তবে সম্প্রতি জেলায় ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগের কথা জানালেন সিভিল সার্জন ডা. নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন,জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আমরাও বিপাকে পড়েছি। এখানে জরুরী ভাবে একজন করে গাইনি, হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন। পাশপাশি জনবল সঙ্কটও রয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া ১০ জন মেডিকেল অফিসার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেছেন। আরও চারজন চিকিৎসকের যোগদান করার কথা রয়েছে। আশা করছি, জেলায় স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি পাবে।

পঞ্চগড়ের মানুষ স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় নিতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন