সদ্য সংবাদ

  করোনা: প্রশান্ত মহাসাগরে ১০ মাস নৌকায় ভাসছে শিল্পী দল   রাজশাহী-৪: এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে বিয়ে করে প্রতারণা ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ   ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট   স্পটে কাউকে পাওয়া না গেলে ধরে নেবেন তার চাকরি নেই: মেয়র তাপস   মতামত উপেক্ষা করে গণপরিবহন চালু কার স্বার্থে?  করোনায় তিন ভাগ হবে দেশ   মুন্সিগঞ্জে ইউএনওসহ নতুন করে ২৪ জন করোনা আক্রান্ত  লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: চার’শ মানুষকে লিবিয়ায় পাচারকারী হাজী কামাল গ্রেফতার  কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ৪০ শহরে কারফিউ   রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আসামি ফের হত্যা মামলায় গ্রেফতার  নারায়ণগঞ্জ জেলার করোনাজয়ী ১০১ পুলিশ সদস্যকে সংবর্ধনা দেয়া হবে কাল  ভারতের তাজমহলে বজ্রপাত, ভেঙে গেল দরজাও  ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন পার্নো মিত্র  এবার ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ পাস  গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’   দেশে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫৪৫  বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাখ্যান, পুর্বের ভাড়া বহাল রাখার দাবী যাত্রী কল্যাণ সমিতির   নবীনগরে সেই আমিরুল গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে  যাত্রী নিয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকা গেলো  সাঘাটায় কৃষকের নিকট থেকে বোরো ধান ক্রয়ে উন্মুক্ত লটারী

পঞ্চগড়ের ৫ জয়িতার জীবন কাহিনী

 Fri, Aug 2, 2019 11:23 PM
   পঞ্চগড়ের ৫ জয়িতার জীবন কাহিনী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥: গুলেছা আক্তার বানু। স্বামী নাম-বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী,বিডিআর

সুবেদার (অবসর প্রাপ্ত)। আমি বর্তমানে ৯ সন্তানের জননী। সুদুর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ২নং কুষ্টিয়ার চড় এলাকায় আমি জম্ম গ্রহণ করি। বর্তমান আমার বয়স ৭৯ বছর। ১৬ বছর বয়সে আমার বিয়ে। আমি চড় ঐরাকায় নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ। দুঃখের বিষয় একদিকে নদী ভাঙ্গন এসময় জম্ম নেয় প্রথম সন্তান মর্জিনা বেগম। অমি অসহায় নারী অনেক দুঃখ কষ্টের মাছে আমার পিতা ও স্বামীর সব সম্বল ব্রক্ষপুত্র নদীতে বিলিন হওয়ায় আমার পিতার ও স্বামীর আর্থিক পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়ে।কোন রকম না খেয়ে বহু কষ্ট করে আমার কোলের সন্তানকে নিয়ে চলতে থাকে আমার জীবন। পরবর্তীতে আমার স্বামী পঞ্চগড়ের ভিতরগড় বর্ডার এলাকায় চাকুরী সুবাদে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ২নং হাফিজাবাদ ইউনিয়নের সর্দার পাড়া গ্রামে ১৯৫০ সালে  ময়মনসিংহ থেকে আমার প্রথম সন্তান মোছাঃ মর্জিনা বেগমকে ২ বছর বয়সে কোলে করে নিয়ে হাফিজাবাদ সর্দারপাড়া গ্রামে বসবাসের চলে আসি। আসার পর এই গ্রামে বসত ভিটার জন্য অল্প কিছু জমি ক্রয় করে বসত ভিটা নিমার্ণ করে বসবাস শুরু করি।ধীরে ধীরে প্রথম সন্তান বড় হতে থাকে। এমনতাবস্থায় আরও এক সন্তান কোল জুরে আসে। দ্বিতীয় সন্তানের নাম রাখা হয় মোঃ লিয়াকত আলী বাবুল। বহু কষ্ট করে জীবন চালাতে থাকি। আস্তে আস্তে দ্বিতীয় সন্তান বড় না হতেই কোল জুড়ে তৃতীয় আরেকটি সন্তান জম্ম নেয় । নাম রাখা হয়,মোঃ সাবিনা ইয়াসমিন।সেও বড়  হতে না হতেই কোল জুড়ে আরেকটি চতুর্থ সন্তান হিসেবে জম্ম  নেয় । নাম রাখা হয়,মোঃ আকরাম আলী।জীবন যুদ্ধ চলতে চলতে আরেকটি মেয়ে অর্থাৎ পঞ্চম সন্তান জম্ম নেয়। তার নাম রাখা হয় মোছাঃ ফেরদৌসী আক্তার। ১৯৭১ সালের ভয়াবহ যুদ্ধের সময় আরেকটি ছেলে যষ্ঠ সন্তান জম্ম নেয়। নাম রাখা হয় মোঃ ফারুক হোসেন।যুদ্ধে সবার মনে আতংক। তাই সন্তানদের মুখে দু-মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারিনা। আরেকদিকে আমার স্বামী কোথায় আছে তাও জানি না। কখন পাক হানাদার বাহিনীরা হানা দেয়। তখন আমি ৬ সন্তানের জননী। যেহেতু আমার স্বামী ইপিআর হতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সে জন্য পাক হানাদার বাহিনীরা আমার বাড়িতে মাঝে মাঝে হামরা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। আমি সংবাদ পেয়ে তাড়াহুড়া করে আমার সন্তানদের নিয়ে পালানোর সময় ৫ জন সন্তানকে নিরয় পাক হানাদার বাহিনীর ভয়ে তাড়াহুড়া করে  আমার কোলের শিশু ফারুককে রেখে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমার যষ্ঠ সন্তান নেই। আমি কান্না ভেঙ্গে পরি। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা আমার বাড়িতে প্রবেশ করে আমাদের না পেয়ে আমার ১ মাসের বয়সের কোলের শিমু ফারুককের বুকের উপর গুলি করার জন্য বন্দুক ধরে। এসময় আমারা পার্শ্ববর্তী জ্যা দৌড়ে এসে বলে এটা আমার সন্তান। তাবে প্রাণে মেরো না। এটা আমার সন্তান। আমার ৬ সন্তান নিয়ে আমি ভিতরগর মহারাজা দিয়ে বর্ডার এলাকায় (ভারতের ভিতরে)মরণার্থী হিসেবে ৬ জন সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে থাকি। ৯ মাস যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুনরায় সর্দার পাড়া গ্রামে আমি ফিরে আসি। আসার সময় আরেকটি সন্তান মেয়ে সন্তান জম্ম নেয়। নাম রাখা হয় সুলতানা পারভিন। পরে আরেকটি সন্তান জম্ম নেয় নাম রাখা হয় তাজ উদ্দীন সরকার ও আরেকটি সন্তান জম্ম নেয় নাম রাখা হয় তোফায়েল হোসেন সরকার। আমার ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তান। ৯ জন সন্তান নিয়ে আস্তে আস্তে নতুন করে অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন শুরু করি।পথ চলতে গিয়ে বাধা প্রাপ্ত হয়েছি অনেকবার। কিন্তু একে বারে থেমে যায়নি। এবার প্রশ্ন এর যাত্রা শুরু কবে কোথায় । ৯ জন সন্তানকে অনেক কস্টে সংসারের অভাব অনটনের মধ্যে ও লেখা-পড়া চালাতে থাকি। আমি আমার সন্তানদের সু-শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণপন চেষ্ঠা করি। আমি বর্তমানে সফল জননী হিসেবে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।#


শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী  যে নারী: মমতাজ মহল বিথি-বাবা-মার পাচঁ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। বাবা মোঃ শাহ আলম(শিক্ষক) আর মা মোছাঃ শিরিনা আলম (গৃহিনী),প্রত্যন্ত পাড়াগায়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বড় হওয়ার আশাটা অনুকুল ছিল না তবে মনোবল ও আতœবিশ্বাস ছিল প্রতিকুলার প্রতি পযধষষধহমরহম। দিনাজপুর জেলা খানসামা উপজেলার ১ নং ভেরভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামে ১৯৭৪ সালে আমার জম্ম ।  কবে প্রাইমারি স্কুলে বর্তি হয়েছিলাম তা ঠিক মনে না। স্কুলের স্যার ম্যাডামদের আদর যতেœ এবং সহপাঠিদেরে ভাল বাসায় শীঘ্রই সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠি। ১৯৮৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে খানসামা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। হাই স্কুলে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়াটা অন্যদের মতো সহজ ছিলনা কারণ বাড়িতে স্কুলের দুরত্ব ছিল ৬ কিলোমিাটর। দীর্ঘপথ প্রতিদিন পায়ে হেটে যাতায়াত বর্তমান সময়রে প্রেক্ষাপটে কতটা কঠিন সহজেই সকলের বোধ্যগম্য। এত পরিশ্রম ও ক্লান্তি সত্বে সপ্নের ফলাপল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। ১৯৮৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উর্ত্তিণ হই। আমার বাবর আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে খানসামা ডিগ্রী কলেজে একমাত্র ১ম বিভাগ প্রাপ্ত  ছাত্রী হিসেবে আমার একান্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানবিক বিবাগে ভর্তি করান। বাড়ী থেকে কলেজের দুরত্ব ৬ মাইল হওয়ায় এবং পথের নিরাপত্তা না থাকায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে মাত্র ২৫ দিন কলেজে উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। ১৯৯২ সালে এইচএসসি  পরীক্ষায় ২য় বিভাগে উত্তির্ণ হই। একান্ত নিজের প্রচেষ্টায় বিনা প্রাইভেটে এইচএসসি  পাশ করায় মনে বিশ্বাস জেগেছিলো এবার হয়তো কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সৌভাগ্য হবে। কিন্ত না। বাবা-মার কন্যা দায়গ্রস্থতার দ্বায় এড়াবার ইচ্ছা এতো প্রকট ছিলো তা বুঝতে পারিনী। বাবা-মাকে বুঝিয়ে বলা সত্বেও তার আমার মঙ্গল কামনায় বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেন। নিরুপায় হয়ে আপাতত সকল স্বপ্নের যবনিকা টেনে পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন মরহুম আলহাজ  খামিরউদ্দঅন প্রধানের পঞ্চম পুত্র মোঃ জসিয়ার রহমান প্রধান এর সাথে ১৯৯২ ইংসালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। ধরেই নিয়েছিলাম বৈবাহিক জীবনে স্বামীর সংসারে লেখা-পড়া আর ্এগোবেনা। কিন্ত আমার অভিপ্রায় তাবে বিস্তারিতভাবে জানালাম তিনি খুশি হয়ে হলেন এবং আমার সুযোগ হয়ে গেলে ¤œাতক শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু পঞ্চগড় সরকারী মহিলা কলেজে ভর্তির সময় শেয় হওয়ায় রুহিয়া ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই। সংসার জীবনের ফাকে ফাকে সুযোগমতো পড়াশুনা করে ২য় শ্রেণীতে বিএপাশ করি। স্বামীর ঐকান্তিক প্রেষনায় এবং আমার অন্তিম স্বপ্ন পুরণের লক্ষে রংপুর কারমাইকেল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে মাষ্টার্স এ ভর্তি হই। ইতিমধ্যে ১ সন্তানের জম্মের পর অনেক প্রতিকুলতা পেরিয়ে মাষ্টার্সের চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং ২য় শ্রেণীতে উর্ত্তিণ হই। মাস্টার্স পরীক্ষার পর মাঘই পানিমাছ পুকুরূ হাই স্কুরে প্রোমোটের সাবষ্টিটিউটি শিক্ষক হিসেবে ১০ মাসের জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত হই। চাকুরী শেষে রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজেে বিএড ভর্তি হই এবং কৃতিত্বের সাথে ২০০১ সালে বিএড ডিগ্রী ২য় বিভাগে অর্জন করি। কেপি হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী গ্রহণ করি। অত্র স্কুরে ৬ মসাস চাকুরী করি। ২য় সন্তানের জম্ম হওয়ায় এবং বাসা হতে স্কুলের দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার হওয়ায় চাকুরী ছাড়তে বাধ্য হই। ২০০২ সালে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এবং শহরের কমলাপুর হাই স্কুলে ২০০৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরী গ্রহণ করি। অত্র বিদ্যালয়ে একাধারে ১৪ মাস চাকুরী করা অবস্থায় ২০১২ সালে এমএড ডিগ্রী অর্জন করি। একই বছরে কলেজ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন করি। ২০১৫ সালে টুনিরহাট শহীদ জিয়ার রহমান ডিগ্রী কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগাদান করে অধ্যবদি কর্মরত আছি। এগিয়ে যেতে চাই আরও অনেক দুর। #


 
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী: মোছাঃ মালেকা ইয়াসমিন,পিতা- মৃত এছার উদ্দীন,মাতা: মোছা: জবেদা খাতুন (স্থায়ী ঠিকানা)-গ্রাম : মোহন ঝাড়,ডাকঃ হাড়িভাসা, উপজেলা ও জেলা ঃ পঞ্চগড়। সবুজে শ্যামলে ঘেরা প্রিয় বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোহনঝাড় গ্রামে এক অনাবিল মনোরম পরিবেশে আমার জন্ম হয় ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭ সালে। আমরা ৭ বোন ও ৪ ভাই। আমার পিতা একজন মধ্যবিত্ত কৃষক। পিতা মাতার ৪র্থ কন্যা আমি। শৈশবে পিতা মাতা ও বড় ভাই-বোনদের পরম আদর ¯েœহে দিন অতিবাহিত হতে থাকে আমার। শৈশব কাল থেকে আমি ছিলাম চঞ্চল ও মানব দরদী। সকলের সাথে হাসি খুশি ও খেলার সাথীদের সাথে শৈশব কাল কাটতো এক পরম আনন্দে। হাঁটি হাঁটি,পা পা করে আমি যখন একটু বুঝতে শুরু করলাম এবং আমার বয়স যখন ৬ থেকে ৭ বছর বয়স হলো তখন পিতা মাতা আমাকে ভর্তি করালেন গ্রামের এক মক্তবে। সেখানে আরবি শিক্ষা নিতে না নিতেই ভর্তি হলাম সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয়ে। তারপর সেখান থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করে ভর্তি হলাম ঘাগরাদারিকামারি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। শুরু হলো অধ্যয়ন । ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পাশ করে ভর্তি হলাম নবম শ্রেণীতে । কৃতিত্বের সাথে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হলাম। এর পরে বোর্ড পরীক্ষা ১৯৯৩ সালে এস, এস, সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হলাম। এস,এস,সি পাশ করার কিছুদিন পরে আমাকে নিয়ে শুরু হলো পিতা মাতার চিন্থা। তারপর একদিন হঠাৎ আমার বিয়ের প্রস্তাব আসে বাড়িতে। তখন কতটুকুই আর বুঝি! মো: আমিরুল ইসলাম,পিতা: মৃত: মো: মফিজ উদ্দীন,সাং-নতুনবস্তি,ডাক: পঞ্চগড় উপজেলা ও জেলা: পঞ্চগড়  এর সহিত ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক প্রস্তাবের মাধ্যমে আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর নববধু সাজে চলে আসি স্বামীর বাড়িতে। সেখানে শুরু হলো জীবনের গন্ডি। স্বামীর বাড়িতে এসে কিছুদিন সুখ শান্তিতে দিন কাল কেঁটে যাচ্ছিলো। এক পর্যায়ে স্বামীর আর্থিক অভাব অনটনের কারনে সংসারে নেমে আসে চরম দু:সময়।  বিয়ের এক বছর পরে আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয় নাম : মো: মোমিনুল ইসলাম সোহাগ। প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ার প্রায় ১১ (্এগারো) বছর পর আর একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয় । সন্তানদের লালন পালনের পাশা পাশি আমি থেমে থাকি নি। নিজেকে সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা  সমুন্নত চেষ্টা করতে থাকি। তখন আমি নিজেই কিছু না কিছু করার চিন্থাভাবনা করতে থাকি। আমার স্বামীর প্রচেষ্টায় আমি আবারো কলেজে পড়াশুনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করি। তারপর এলাকায় কিছু স্কুল ছাত্রকে নিয়ে টিউশনি শুরু করি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামিলীগ দলে যোগ দেই। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক জেলা শাখা পঞ্চগড় এর দায়িত্বে কর্মরত আছি । তারপর ১৯৯৯ সালে আশ্রয়ন উন্নয়ন শিশু ও মহিলা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদিকার পদে নিয়োজিত হই। অত্র সমিতির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ এবং সরকারী ও বেসরকারী অফিস সমূহের সহিত পরিচয় ও যোগাযোগ হতে থাকে। সর্ব প্রথম ২০০৬ সালে আশা সংস্থা হতে কিছু ঋণ গ্রহণ করি। আশা সংস্থার মাধ্যমে আমি পঞ্চগড় জেলা হতে সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধকারী সদস্য নির্বাচিত হই। পরে আশা সংস্থার মাধ্যমে আমি “আশা বাংলাদেশ” এর কেন্দ্রিয় কমিটির জেলা প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে সদস্য পদ লাভ করি। এক পর্যায়ে আমি একটি পৃথক সংস্থা গঠনের চিন্থা ভাবনা করি। পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহিত আমার পরিচয় ও যোগাযোগ হয় এবং তৎসময়ে ২০০৮ সালে অঙ্গিকার সমাজ উন্নয়ন মহিলা সমিতি নামে একটি সংগঠন তৈরী করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করি। এছাড়াও ২০০৮ সালে আমার এলাকায় একটি “ঝরে পরা” শিশুদের নৈশ্য বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভুমিকা রাখি এবং বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে আমি অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ পাই। এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক-ুসংস্কার দূরীকরনের পথ সুগম হয়ে ঊঠে। সেই সাথে অঙ্গিকার সমাজ উন্নয়ন মহিলা সংগঠনটির কার্যক্রম বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্টানের নজরে আসে এবং এলাকায় আলোরণ সৃষ্টি হয়। তারপর উক্ত সংগঠনটি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়,পঞ্চগড় হতে সরকারীভাবে রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হয়- যার রেজি নং-৮৭ তাং-১৭/১২/২০০৯ খ্রি:। এই সমিতির মাধ্যমে এলাকার বহু নারীকে তাদের স্বাস্থ্য,পুষ্টি,স্যানিটেশন,পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি,বিশুদ্ধ স্যালাইন তৈরী,বাল্য বিবাহ ও যৌতুকের কুফল, হাস মুরগীর খামার তৈরী,গবাদি পশু পালন, বৃক্ষরোপন, সবজি চাষ ইত্যাদী বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করি এবং সমাজ উন্নয়নে ব্যপক ভুমিকা রাখি। তরুন তরুনীদের নিয়ে নেতৃত্বের অবস্থানে উন্নিত করার লক্ষে (সাবেক গারাতি ছিট মহল) বর্মমান সদ্য বিলুপ্ত ছিট মহলে একটি অত্যাধনিক িিডজিট্যাল ক্লাব প্রষ্ঠিা করি । এই ক্লাবের নাম রাখা হয় রাজমহল ইউথ ডিপ্লোভমেন্ট অর্গানাইজেশন।উক্ত ক্লাবে ২২০ জন যুবক যুবতি নিয়ে নেতৃত্ব বিকাশ,এ্যাডভোকেছি,মানব অধিকার ও কো-অর্ডিট্রেইনিং এর মাধমে একটি তথ্য ঘর প্রতিষ্ঠা করি। এরি মধ্যে ২০১৩ সালে সামাজিক কাজের পাশাপাশি আমি ও আমার ছেলে একই সাথে এইচ এস,সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সাফল্যের সহিত উত্তীর্ণ হই। এরি মধ্যে আমার সন্তানকে ঢাকা কলেজে সোসাল ওয়ার্ক বিভাগে অনার্সে ভর্তি করাই এবং আমি উম্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয় হতে ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেই। উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সুনামে ২০১০ সালে “দুর্বার বাংলাদেশ ” সংগঠন, পঞ্চগড় শাখায় সদস্যপদ পাই এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করি। ফলে সিটিজেন মনিটরিং, এন্টি করাপশন, বাজেট সম্পর্কে সমাজের মানুষকে বোঝানো ইত্যাদী বিষয়ে কাজের সুযোগ সুষ্টি হয়। ২০১১ সাল হতে নতুনবস্তি “সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য” হিসেবে কাজ করে আসছি। ২০১২ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা- এর আওতায় পরিচালিত পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকায় “ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল ” কর্মসূচীর একটি প্রকল্প অনুমোদন পাই এবং তা বাস্তবায়ন করি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র কর্মজিবী দুগ্ধদানকারী উপকারভোগী মহিলাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, শিশু পরিচর্চা এবং গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরিচর্চা ইত্যাদী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি।অতপর ২০১২ সালে “দুর্বার বাংলাদেশ”, পঞ্চগড় শাখার আওতায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঠাকুরগাও,দিনাজপুর শাখায় কাজ করার সুযোগ পাই। শিক্ষা, সংগঠন এবং সমাজসেবার কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম যে, আমি ২০১৫ সালে পঞ্চগড় পৌরসভার আওতায় পঞ্চগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের “বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের” চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাই। উক্ত পদে বলবৎ থেকে অত্র পৌর এলাকার বস্তি এবং বস্তিবাসীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছি। আরো উল্লেখ্য যে, বর্তমানে যুব সমাজের যুবদের মানবাধিকার, ড্রেস মেকিং ও টেইলরিং, কম্পিউটার ও তথ্য বিষয়ক প্রশিক্ষনসহ যুবদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে“ একশন এইড বাংলাদেশ ”এর অধীনে ১০/১১/২০১৭ তারিখ হতে পঞ্চগড় জেলার সদ্যবিলুপ্ত সিটমহলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যুব ডিজিটাল ক্লাব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ২০১৭ সালে বায়োজকোপের সহযোগিতায় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অর্থায়নে কম্পিঊটার সার্ভিসিং এবং মোবাইল সার্ভিসিং বিষয়ে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে সক্ষম হই এবং অদ্যাবতি উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্স চলমান রয়েছে। ইতি মধ্যে প্রথম ব্যাচে ৩০ জন নারী প্রশিক্ষনার্থী সাফল্যের সহিত এই প্রশিক্ষন কোর্স গ্রহণ করে এবং তারা আতœ কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করার যুযোগ পায়।বর্তমানে এই অঙ্গিকার মহিলা সমাজ উন্নয়ন মহিলা সমিতির মাধ্যমে অত্র পঞ্চগড় জেলায় ০৭ (সাত) জন বেকার যুবক যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় এবং তারা কর্মচারী হিসেবে অত্র প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।২০১৮ সালে জাতীয় যুব দবিসে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে সদন ও ক্রেস্ট পাই। পরিশেষে, আমার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজ তথা দেশের জন্য ভবিষ্যৎ স-ুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজের বিভিন্ন বৈষম্য দুর করে সামাজিক উন্নয়নের মহান উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজের নিরলস পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছি। ক্ষূদ্র পরিসরে আজ নিজেকে সামাজিক কাজের সহিত সম্পৃক্ত করতে পেরে সত্যি আমি ফলাফলের ভিত্তিতে দেখতে চেয়েছি। যারা দিনের পর দিন আমার সাথে থেকে আমার এই শ্রম কে পূর্নাঙ্গ রুপ দিতে সহায়তা করেছেন। তিনি হলেন আমার পরম প্রিয় জননী ,আমার স্বামী  এবং আমার এক মাত্র সন্তান । তাদের সকল কে আমার কৃতজ্ঞতা ও আমার সম্মান ।আমার এলাকার পরিকল্পনায় আমি এবাবে এগিয়ে নিয়ে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখতে চাই।এই আমার দৃঢ় বিশ^াস। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরী করা যেখানে ক্ষুদা ও দারিদ্রমুক্ত ন্যায় সমাজ প্রতিষ্ঠা করার মাধমে নারী পুরুষ,শিশু নৃগোষ্টি সহ সকল জনগন তাদের অধিকার মর্যাদার সহিত সুখে সুস্বাস্থ্যে নিরাপদে জীবন যাপন করবে। যে যেকােন বয়সের দরিদ্র ও হত দরিদ্রদের মাঝে জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তাদের প্রান্তিকতা কমিয়ে আনা,ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে মানবধিকার প্রতিষ্টা করে টেকসই জীবন যাপন করাই আমার উদ্দেশ্য।
 অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী যে নারী:নিলুফার ইয়াসমিন, পিতা  মৃত: মীর কাশিম আলী, মাতা: মোছা: মেহেরুন নেছা, বর্তমান ঠিকানা- গ্রাম : পুরাতন মিলগেট, ডাকঃ ধাক্কামারা, উপজেলা ও জেলা ঃ- পঞ্চগড়। দিনাজপুর সদর উপজেলার পাটুয়াপাড়া গ্রামে এক মনোরম পরিবেশে আমার জন্ম হয় ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮২ সালে। শৈশবে পিতা –মাতার পরম আদর ¯েœহে দিন অতিবাহিত হতে থাকে আমার। শৈশব কাল থেকে আমি উদ্দমী ও কঠোর পরিশ্রমী। ৮ম শ্রেণীতে অধ্রয়নকালীন সময়ে ১৫ বয়সে বিয়ের প্রস্তাব আসে। তখন কতটুকুই বা আর বুঝি।  ১৯৯১ সালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার আখতারুজ্জামান এর সহিত ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তার  বিয়ে হয়। বিয়ের পর নব বধু সাজে চলে আসি স্বামীর বাড়িতে। সেখানে শুরু হলো জীবনের ধাপ। স্বামীর বাড়িতে এসে তেমন কিছুই পাইনি। বিয়ের পুর্বে যতটুকু প্রত্যাশা ছিলো তার কোনটি পায়নি স্বামীর বাড়িতে। স্বামীর দরিদ্রতা আর আর্থিক অভাব অনটনের মাঝে দিন কাল অতিবাহিত হতে থাকে আমার। বিয়ের পরে যখন স্বামীর বাড়িতে আসে তখন দু-বেলা ঠিকমত খাবার তো দুরের কথা পরনের জন্য নতুন কোন কাপড় কিংবা বস্ত্র পর্যন্ত ক্রয় করার সামর্থ ছিলো না আমার কিংবা আমার স্বামীর। সুগার মিলে সামান্য চাকরি করতো আমার স্বামী। তার সামান্য আয়ে কোন রকমে সংসার জীবন চলতে থাকে। বিয়ের বছর খানেক পরে তার কোল জুরে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান নাম : এজাজ আল আদিত্ব। কোলের সন্তানকে নিয়ে তিনি মুখোমুখি হন চরম দু:খ ও কষ্টে। আমার স্বামীর সামান্য আয়ে তখন নুন আনতে পানতা ফুরায় এরকম অবস্থা।আর্থিক অভাব অনটনের কারনে কোলের সন্তানকে দুধের পরিবর্ততে ফিডারের মাধ্যমে পানি পানকরিয়ে অতিবাহিত করতে হয়েছে। স্বামীর সংসারে এমন অভাব অনটনের পরিস্থিতি আনমনে উপলব্ধি করতে থাকি। আমি হতাশ হয়ে কোলের শিশুকে নিয়ে দিনাজপুরে পিতার বাড়িতে কিছু দিনের জন্য চলে যান। দিনাজপুর সদর ঊপজেলায় “দিনাজপুর পল্লীশ্রী দর্জি ট্রেইনিং সেন্টারে” ভর্তি হয়ে ০৩ মাসের দর্জি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তার পর চলে আসি স্বামীর বাড়িতে।  মানুষের কাছে ধার দেনা করে ১ টি সেলাই মেশিণ ক্রয় করি এবং পঞ্চগড় মিলগেট বাজারে একটি দর্জি দোকান দেই। চলতে থাকে দর্জির কাজ। কিছু কিছু কাজের অর্ডার আসতে থাকে। এভাবে দর্জি কাজের সুনাম এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে যায়। তখন আর্থিক অবস্থার একটু উন্নতি হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে আসতে শুরু করলো। পরে আরো ২ টি সেলাই মেশিন ক্রয় করে এবং ০৩ জন নারী কর্মী সেলাই কাজের জন্য নিয়োজিত করে। তারা আমার দোকানে কাজ করতে করতে এসময় তারাও দক্ষ দর্জি মাষ্টার হয়ে আতœকর্মস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। ১৯৯৪ সালে নিজ বাড়িতে “ব্র্যাক বাংলাদেশ” এর সহযোগিতায় একটি ব্রয়লার মুরগীর খামার করি। সেখান থেকে আর্থিক লাভবান হই। এর পরে ১৯৯৭ সালে তার নিজের অর্থায়নে একটি ছাগলের খামার করি। সেখান থেকে মোটামুটি আয় আসতে থাকে। পঞ্চগড় মহিলা আলীম মাদ্রাসা থেকে আমি ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাশ করি। পাশাপাশি দর্জি দোকানে সেলাই কাজ করি। ১৯৯৮ সালে “স্বনিভর বাংলাদেশ ” নামে একটি এনজিও তে চাকরি পাই। এর কিছুদিন পর ১৯৯৯ সালে এফপিএবি পঞ্চগড় শাখায় আরো একটি কাজের সুযোগ পাই। এর পাশাপাশি একটি বীমা কোম্পানীর সহিত জড়িত হই। ২০০০ সালে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চগড় শাখা হতে এইচএসসি পাশ করি।  ২০০০ সাল হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত “সুপথ এনজিও তে দীর্ঘদিন চাকুরী করি। তার পর বেশ কিছু সম্পতের মালিক হয়ে উঠলাম। তখন আমার সংসারে আর একটি কন্যা সন্তান জম্ম নেয়। নাম রাখা হয় মোঃ অঙ্গনা খাইরুন আচল। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় শহরে আনোয়ার প্লাজা,তেঁতুলিয়া রোড পঞ্চগড়-এ ২০১০ সালে “অঙ্গনা বিউটি পার্লার” নামে একটি পার্লারের দোকান স্থাপন করি। বর্তমানে ০৫ জন নারী কর্মী এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছে।  এরি মধ্যে পঞ্চগড় মিলগেট থেকে দর্জি দোকানটি স্থানান্তর করে অঙ্গনা বিউটি পার্লার দোকানের সহিত সংযুক্ত করি। সেখানে ৩ জন নারী কর্মী সেলাই এর কাজ করছে। তার পরে ২০১৩ সালে তেলিপাড়া,ধাক্কামারা,পঞ্চগড় এলাকায় “স্বপ্নসিড়ি মহিলা উন্নয়ন সংস্থা” নামে একটি স্বেচ্ছসেবীা মহিলা সংগঠন তৈরী করে। পরবর্র্তীতে উক্ত সংস্থাটি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়,পঞ্চগড় হতে সরকারী ভাবে রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হয়। উক্ত সংস্থায় বর্তমানে ১০-১৫ জন্য নারী সদস্য কাজ করে যাচ্ছে।তিনি আতœকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে নিয়ে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি একজন আর্থিকভাবে সফল নারী । বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ১১ জন নারী কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। অত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারাও খুঁজে পেয়েছে জীবন জীবিকার পথ। পরিশেষে একজন নারী হয়েও পরিবার ও সমাজের কোন বাধাই আমাকে দমিয়ে রাখতে পারে নি। বিধায় অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করতে পেরে আমি মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।#

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী:ভারতি রানী, স্বামী  জিতু বর্মণ,মাতা শিতা রানী,গ্রাম –ডাঙ্গাপাড়া,পোস্ট-বটতলী হাট,উপজেলা-বোদা-জেলা-পঞ্চগড়। আমি এক সময় অসহায় ও নির্যাতিতা নারী ছিলাম। আমার বিয়ে হওয়ার ২ মাসের মধ্যে আমার উপর শুরু নির্যাতন। আমার বিয়ের সময় আমার স্বামীএকটি অন্যের চায়ের দোকানে কারিগর হিসেবে কাচ করত। কিছু দিন পর সে নিজেই একটি ছোট দোকান নেয়। পাশাপাশি সে জুয়া খেলতে খেলতে এসময় দোকানটি বিক্রি করে দেয়।য়  সারা দিন মানুষের বাড়িতে কাজ যা অকায় করতাম  দিন শেষে সব আমার কাছ থেকে নিয়ে আবার জুয়া খেলতো। আমি টাকা না দিলে বা সংসারের ভরন পোশনের কথা বলতে আমার উপর শুরু হয় নির্যাতন। এক সময় আমার স্বামী ও শাশুরী দুজনে মিলে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে মানুষের থেকে খেয়ে পড়ে কোন ভাবে বেঁচে থাকতাম। এভাবে চলতে চলতে আমি অন্তসত্বা হই। এ অবস্থায় মানুষের বাড়িতে কাজ করে একটু একটু করে টাকা জমা করতে শুরু করি। সমাজের বিভিন্ন চাপে সে আমার অর্জিত টাকা নিতে পারতোনা। এভাবে চলতে চলতে আমার মেয়ের জম্ম হয়। তখন পর্যন্ত আমি মানুষের বাড়িতে থাকতাম। কিছু দিন পর আমার জমানো টাকা দিয়ে আমি একটি গরু ক্রয় করি। দিন দিন আমার মেয়ের সাথে  আমার গরুটি বড় হতে থাকে। আমি সব কিছুর পাশাপাশি আমার স্বামীকে বুঝানোর চেষ্ঠা করে ধিরে ধিরে আমার স্বামীকে বুঝাতে সক্ষম হই। এভাবে চলতে চলতে আমার মেয়ের বয়স যখন এক বছর  একদিন আমার স্বামীকে বলি,যে তুমি তো কারিগড়ের কাজ জানো। চলো আমরা আবার একটি দোকান দেই। সে বলল আমার কাছে টাকা নাই। আমি বললাম আমার কিছু টাকা আছে। এবং আমার গরুটি বিক্রি করে তোমাকে দিচ্ছি। সে আমার কথা রাজি হয়। আমার জমানো টাকা,গরু বিক্রি টাকা,আমার বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা  এনে গ্রামের  আমার দুঃসর্ম্পকে  এক শশুরের সহযোগিতায় আমরা আবার একটি দোকান শুরু করি। প্রথমে একটি টেবিল ও একটি ব্যঞ্চ দিয়ে আমাদের ছোট দোকানটি শুরু করি। দোকানটি শুরু করতেই কিছু দিনের মধ্যে খুব চলতে থাকে। কিন্ত অর্থের অভাবে দোকানটি বড় করতে পারছিলাম না। সারা দিন যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার কোন মতে চলে। দিনে দিনে আমার মেয়ে বড় হতে থাকে। তার পেছেনেও খরচ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড আমাকে কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। সেই টাকা দিয়ে দোকানে কিছু টেবিল ও ব্যাঞ্চ ক্রয় করি এবং দোকানের মালামাল বৃদ্ধি করি। বর্তমানে বাজারে আমাদের দোকানটি সব চেয়ে বেশি চলতে থাকে।এর মধ্যে আমার স্বামী পুরোপুরি জুয়া মুক্ত একজন সৎ মানুষে পরিণত হয়েছে। সে এখন আমার উপর আর নির্যাতন করে না। এভাবে আস্তে আস্তে মৃদু মৃদু পায়ে আমাদের সংসার উন্নতির দিকে এগুতে থাকে।কিছুদিন পর আমার আরও একটি ছেওেল সন্তান জম্ম নেয়। সংসারে খরচ আরো বেড়ে যায়। তারপরও কোনমতে সামলিয়ে নেই। সকলের দোয়া ও আশিবার্দে আমার মেয়ে এসএসসি পাশ করে এবং তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরী হয়। বর্তমানে তার চাকুরী বয়স চার বছর। আমার ছেলে এখন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়া-শুনা করে। এভাবে আমি দুই বিঘা জমি বন্ধক নেই দুই লক্ষ টাকা দিয়ে। ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দোকানের পজিশন ক্রয় করি। আমার স্বামী  এখন তার নিজস্ব জায়গায় নিজেই দোকান করে। আমি বাড়িতে মালামাল তৈরী করি। আর সে দোকানে বিক্রি করে রোজ গার করে। পাশাপাশি আমার মেয়ে প্রতি মাসে আমাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। ছেলের পড়া-লেখার জন্য ৪ লক্ষ টাকা জমা করেছি। এবং ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার টাকা জমা আছে। ২ টি গরু রয়েছে যার বর্তমান আনুমানিক ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। সর্ব সাকল্যে আমাদের বর্তমান সম্পদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।আমি আমার স্বামী,আমার মেয়ের প্রচেষ্ঠা ও হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এর সহযোগিতায় আজ আমরা এ সম্পদের মালিক। আমাদের সংসারে এখন সুখি। এখন আমরা সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের সআথে মিশতে পারি চলতে পারি। সবাই আমাদের সম্মান করে। আমাদের ছোট এই সংসারে এখন আর নেই কোন অভাব,নেই অভিযোগ,নেই কোন নির্যাতন। আছে শুধু একটি জিনিস,তা হল সুখ সুখ আর সুখ।#

 

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন