সদ্য সংবাদ

 সানারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ  এবারও ব্রিটেনের নির্বাচনে টিউলিপসহ ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বিজয়ী  কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলায় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার অফিস ভাংচুর   নারায়ণগঞ্জে এসপির তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের চেয়ে ভালো।  ফোর্বসের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা  উত্তাল আসাম : এবার ভারত সফর বাতিল করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী  সংকট মোকাবেলায় ২০ লাখ পাসপোর্ট কিনছে সরকার  মধুচন্দ্রিমায় নার্ভাস মিথিলা!  কারাগারেই থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে  বিএনপি কর্মী ভেবে পুলিশকে পেটালেন ওসি  দেশের রাজনীতিতে স্থায়ী সংঘাত সৃষ্টি হল: মির্জা ফখরুল   থানায় যুবলীগ নেতার জন্মদিন পালন করা সেই ওসি মোস্তফাকে প্রত্যাহার  চাটখিলে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা ,গ্রেফতার ২  আসামে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩   এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিত  গোপালগঞ্জস্থ কোটালীপাড়া সমিতি'র সভাপতি জলিল খান, সম্পাদক গোলাম হায়দার  রেলের সকল ভূ-সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে  রংপুরে দিনব্যাপী ‘আঁশকল’ যন্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  পঞ্চগড়ে কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে পৈত্তিক বাড়ী ও জমি দখলের অভিযোগ  ঝিনাইদহ পৌরসভায় পাইলট প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা

দুর্নীতি: নাসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নজরদারিতে

 Mon, Oct 28, 2019 10:54 PM
দুর্নীতি: নাসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নজরদারিতে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: নজরদারিতে আছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।

 অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রথম পর্যায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের দিয়ে শুরু হলেও আওয়ামীলীগেও শিগগিরই শুরু হবে ঝারাই-বাছাই। এ প্রক্রিয়ায় এবার ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে  গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে।

 

সূত্রমতে, গোয়েন্দাদের নজরদারিতে আছে কমপক্ষে ১৬ জন কাউন্সিলর। এদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত। অন্তত ৭/৮ জন কাউন্সিলর আবার কাকতালীয়ভাবে জনপ্রিয়তার তকমাধারি। নারায়ণগঞ্জে যে সকল কাউন্সিলর বছরজুড়ে নানাভাবে জনগণের কাছে সমালোচিত থাকেন,  সে সকল কাউন্সিলররা সরকারের তালিকায় এগিয়ে।  গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সম্পর্কে  খোঁজ নিতে শুরু করেছে।  কে কোথায় কি করছে, কার কতটুকু সম্পদ,  কে কোন ধরনের ব্যবসা করেন, কে কে মাদক ব্যবসা করেন এবং ভূমিদস্যুতা ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত-সে তথ্য  গোয়েন্দাদের হাতে। বিতর্কিত কাউন্সিলরদের অপরাধের আলামতও তাদের হস্তগত হয়েছে।

 

নানা অপরাধমূলক কর্মে কিশোর গ্যাংকে কাজে লাগায় এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারও ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া গোয়েন্দা সদস্যরা যার যার আমলনামা তৈরী করে ফেলেছেন আগেই। বিতর্কিত কাউন্সিলরদের তালিকা ও তাদের অপকর্মের ফাইল হাতে নিয়েই একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা চষে  বেড়াচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। একাধিক সূত্র জানিয়েছে,  গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাউন্সিলরদের বড় অপরাধ ও অর্জিত সম্পদের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে অর্ধেক এর নাম গোয়েন্দাদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। তদন্ত চলমান। এই তদন্ত সম্পন্ন হলেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ। অনেকের ভাগ্যেই হতে পারে স¤্রাট, আরমান, জিকে শামীম, রাজীব ও সাঈদের মত।

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত কাউন্সিলরা বছরজুড়েই স্থানীয় মিডিয়ার ফোকাসে থাকেন। ফলে তাদের কর্মকান্ড ও এর বিপরীতের অপকর্মের কথা গোপন থাকেনা। তার সচিত্র প্রতিবেদন উঠে আসে গণমাধ্যমে। এ সকল কারণে বিতর্কিতদের নামও সবার মুখে মুখে ফিরে। এলাকার নাম নিলেই বিতর্কিত কাউন্সিলরদের নাম চলে আসে সাধারণ মানুষের মুখে। সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ মাত্রই জানেন বিতর্কিত কাউন্সিলর ওমর ফারুক, শাহজালাল বাদল, মতিউর রহমান মতি, আলী হোসেন আলা, ইফতেখার আলম খোকন এর নাম। শহরে বিতর্কিতদের শিরোমনি আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিসবাবু, শফিউদ্দিন প্রধান, নাজমুল আলম সজল, জমসের আলী ঝন্টু, কবির হোসেনসহ কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর।

 

বন্দরে বহুল আলোচিতরা হলেন, দুলাল প্রধান (যিনি  ফেন্সিডিল নিয়ে ধরা পড়েছিলেন), এনায়েত হোসেন, আফজাল হোসেন ও মুরাদ। বিতর্কিতরা সম্প্রতি নগরবাসীর মুখে মুখে ফিরছে। নিজেদের অপকর্মে কাউন্সিলররা ব্যবহার করেন কিশোর গ্যাং। কিছু কাউন্সিলর কতটা বেপরোয়া তার নিকৃষ্ট উদাহরণ ডিশবাবুর ছেলে।

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আইসিটি আইনে জেল খাটছে ডিশবাবুর ইচরে পাকা ছেলে। যে নিজেই সারাক্ষণ কিশোর গ্যাং এর আদলে চলাফেরা করে। শহরে ডিশবাবুর নাম বেশ ঘৃনার সাথে উচ্চারিত হয়। তার নিকট অতীত ভাল নয়। নানা অভিযোগের তীর তাঁর উপর। এরউপরে ডিশ ক্যাবল ব্যবসাও কাউন্সিলর ডিশবাবুর।

 

অন্তরালে সে নানা অপরাধ কর্মকান্ডের হোতা বলে তথ্য রয়েছে। নাজমুল আলম সজল। উপরে হোসিয়ারী সমিতির নেতা ও  স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। তার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ। একটি শিশু গুমের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। শফি উদ্দিন প্রধান নিজেকে ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতা পরিচয় দিলেও এলাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ। যদিও তদন্ত চলছে। হয়তো আরো তথ্য আসবে গোয়েন্দাদের হাতে।

 

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ হারুণ অর রশীদ বলেছেন, ‘পুলিশের কাছে তথ্য আসে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করতে চায়’। শনিবার দুপুরে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘কমিউনিটি পুলিশিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা জানান।

 

এসপি হারুন বলেন, কিছু উঠতি বয়সী পোলাপান স্কুলে না  গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তারা ইভটিজিং করছে। এসব ছেলেপেলে কিছু সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তারা মিশে যাচ্ছে এবং মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করছে। কিছু ওয়ার্ড কাউন্সিলদের নামও আমাদের কাছে আসে। আমরা জানিনা ওইসব ওয়ার্ড কাউন্সিলররা তারা মাদক ব্যবসা করে কি না । আমি পরিষ্কারভাবে বলবো আমরা কাউকে কিন্তু ছাড় দিচ্ছিনা। কোন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে আমরা ছাড় দিচ্ছিনা।

 

যদি মনে হয় ওইসব ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারা উঠতি বয়সী ছেলেদের ব্যবহার করছে আপনারা এসব তথ্য আমাদের সাথে সাথে জানান। প্রমাণ পেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আর মেম্বার কেন যে যেই পদেই থাকুক না কেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর একশন হবে। যেহুতু কোন এমপি, মন্ত্রী আমাকে বলে দেননি আমার লোক মাদকব্যবসা, ভূমি দখল করলে ধরা যাবেনা সুতরাং আমাদের ভয় নেই। যে যেই ভাইয়ের লোক হোক না কেন আপনারা ধরে পুলিশকে খবর দিবেন। পুলিশ জড়িত থাকলে পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে এটা আমার ওয়াদা।  

 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, যারা দলের নাম ব্যবহার করে মনে করে এই এলাকার জমির ব্যবসার দালালি করবে, মাদক ব্যবসা করবে, জমি দখল করবে, বালু ব্যবসা করবে সেই সকল উঠতি মাস্তানদের আমরা ছাড় দেই নাই, আর দিবোনা। পুলিশকে কারো কাছে লিজ দেয়া হয়নাই। পুলিশ পুলিশের কাজ করবে। পুলিশ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজির কথায় চলবে। 

 

নারায়ণগঞ্জের মানুষ মুখ ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে পুলিশ সুপার বলেন,  এখানকার মানুষ একসময় অসহায় ছিলো। নারায়ণগঞ্জে যোগ দেয়ার পর দেখলাম কোন মানুষ, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নেতা, কমিউনিটি পুলিশের নেতারা আমাদের কাছে আসেনা। কারণটি কি তা আমি খতিয়ে দেখতে চেয়েছি। ভেবেছিলাম এখানে বাল্যবিবাহ, মাদক, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাসী এখানে নেই। কিন্তু কালের পরিক্রমায় আমরা দেখলাম জনগণের মধ্যে পুলিশকে নিয়ে একটি ভীতি কাজ করছিলো।

 

মানুষ কথা বলতে পারছিল না। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষ বিচার চায়। আমি সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিন একঘন্টা সময় রাখি শুধুমাত্র তাদের কথা শোনার জন্য। নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কাজ করছি। অবৈধ বালু ব্যবসা, তেলচোর, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীদের দমন করতে আমরা কাজ করছি। আপনারা সাহসী হোন, তথ্য জানান। ব্যবস্থা অবশ্যই নিবো। 

 

পুলিশ সুপার বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি নারায়ণগঞ্জে যুগে যুগে বছরের পর বছর পুলিশের কিছু এসআই, এএসআই, কনস্টেবল পার করছে। অনেক অপরাধীর সাথে তারা যোগসূত্র স্থাপন করছে। তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেন। তাদের বিরুদ্ধেও একশন হচ্ছেনা, তবে তা আপনারা দেখেননা। জমি দখলের আগেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

মামলা হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়ার নিয়ম। জনগণ পুলিশের কাছে না আসলে একটি সমাজের বাস্তব চিত্র জানা যায়না। জনগণের সাথে আমাদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। নারায়ণগঞ্জে  পুলিশের সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা।

 

পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের সদস্যরা চাকরি আজ হয়তো এখানে করবো না তো অন্য জেলায় করবো। চাকরি তো হবেই। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজকে ধরার পর ওই পুলিশ সদস্যকে হয়তো বদলি করবে, তিনি চলে যাবেন। তারমানে এই নয় অপরাধীদের ছাড় দিতে হবে। পুলিশের সাথে সখ্যতা মানে দালালি করার জন্য নয়। আগে থানার দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। থানার দালালদের আগে জেলে ঢোকাতে হবে। দালালদের কারণে মানুষ সেবা পাচ্ছেনা। জনগণ দালালদের কারণে কষ্ট পাচ্ছে।

 

পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, সরকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অনেক রথি-মহারথি ধরা পড়েছেন। অনেকের মুখোশ খুলে গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে অভিযান শুরু হবে। তথ্য উপাত্ত সরকারের হাতে। দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিভীষণদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি দলের প্রভাবে ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে অনেক বিতর্কিত লোক জনপ্রতিনিধি হয়েও অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পাহাড় গড়ছেন।  জেলা পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযানে এদের অনেকেরই ঠিকানা হবে  জেলখানা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন