সদ্য সংবাদ

 ‘ব্যারিস্টার সুমন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসতে মামলা করেন’  সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত, ৪ বগিতে অগ্নিকাণ্ড   প্রধানমন্ত্রীর দুবাই সফরে ৩ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা : মোমেন  পেঁয়াজের দাম নিয়ে যা বললেন পার্থ  রোহিঙ্গা নির্যাতন: এবার সু চির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার আদালতে মামলা   পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ  তেঁতুলিয়ায় বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী  রেলের গেটম্যানকে মারধরের ব্যাখ্যা দিলেন সেই নারী ইউএনও  নবীনগর পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ  ত্যাগী নেতা অয়েজুদ্দীন বিশ্বাসকে পাশে চায় গোদাগাড়ীর মানুষ  সিদ্ধিরগঞ্জে গৃহবধূ তানিয়া হত্যা, স্বামী ইমন পলাতক   গায়িকার সমর্থনে নগ্ন ছবি শেয়ার পাক অভিনেত্রীর   পর্যটকদের আকর্ষণে নারী পুলিশদের হট প্যান্ট পরার উদ্যাগ!  প্রতিবন্ধী মানুষের চক্ষু সেবার মান উন্নয়নে রংপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  মানুষ জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী দেখতে চায়: জিএম কাদের  সরকারি তিন ব্যাংকে নতুন এমডি   দুই কোটি টাকায় পাওয়া যাবে সৌদির আবাসন ভিসা  সিদ্ধিরগঞ্জে ট্রাকে মিলল ৩ হাজার ইয়াবা, আটক ১   আবরার হত্যা মামলার বিচার হবে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে: আইনমন্ত্রী  মানুষের কষ্টের শেষ নেই, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে

ক্যাসিনো সম্রাট কারাগারে, সহযোগী দেলোয়ার হোসেন দেলু কোথায়?

 Sun, Nov 3, 2019 11:41 PM
 ক্যাসিনো সম্রাট কারাগারে, সহযোগী দেলোয়ার হোসেন দেলু কোথায়?

এশিয়া খবর ডেস্ক:: ক্যাসিনো সম্রাট ও জিকে শামীম গ্রেফতারের পর অপরাধ জগতে তদের সহযোগী কুশীলবদের নাম

 গোয়েন্দাদের কাছে প্রকাশ হওয়ায় পালিয়েছে বহু অপরাধী । আড়ালে থাকা গডফাদারদের প্রশ্রয়ে অল্পদিনেই টাকার পাহাড় গড়েছেন সম্রাটের সহযোগীরাও। ওই টাকার ভাগ পেতেন আড়ালে থাকা কুশীলবরা। সেই কুশীলব, টাকা ও অস্ত্রের সন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রিমান্ডে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সম্রাট ও জিকে শামীমকে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন যুবলীগ নেতা সম্রাটরা। সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রমনা থানায় দায়েরকৃত মামলা দুটি থানা পুলিশ থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে র‌্যাবে।

 ডিবির হেফাজতে থাকা সম্রাট ও আরমানকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ক্যাসিনো কারবারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করে র‌্যাব। র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) মিজানুর রহমান জানান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে র‌্যাবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা দুটি তদন্ত করবে র‌্যাব। বুধবার রাতে র‌্যাবকে মামলা দুটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্রমতে, শুরু থেকেই সম্রাট ও আরমানের রিমান্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। রিমান্ডের প্রথম দিনই ডিবির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টিম সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। শিগগিরই তাদের জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে মুুখোমুখি (জেআইসি) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি ছিলো ডিবি পুলিশের। এরমধ্যেই মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে র‌্যাবে। তবে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন সম্রাট। সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ স্থানীয় একডজনেরও বেশি নেতার নাম প্রকাশ করেছেন। যারা নিয়মিত তার কাছ থেকে টাকার ভাগ নিয়েছেন। সম্রাটের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এরকম কয়েক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট বলেছেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগতো অনেকেই পেয়েছেন।

  এ জন্য শুধু আমাকে দায়ী করা হচ্ছে কেন? কাকরাইল, ফকিরাপুল, কমলাপুর, মতিঝিল এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলেই চাঁদা দিতো হতো সম্রাটকে। চাঁদার জন্য হুমকি-ধমকি দিতো তার লোকজন। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি মার্কেট থেকে আসতো কোটি কোটি টাকা। সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোতে অবৈধভাবে দোকান তৈরি করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করতো সম্রাটের অনুসারীরা। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে গুলিস্তানের বঙ্গবাজারের সিটি প্লাজা, জাকের মার্কেট, নগর প্লাজা, মহানগর কমপ্লেক্স, আদর্শ মার্কেট, সুন্দরবন স্কয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেট থেকে এসব টাকা আসতো সম্রাটের কাছে। সিটি প্লাজা, জাকের মার্কেট ও নগরপ্লাজায় সহস্রাধিক অবৈধ দোকান তৈরি করে প্রতি দোকান থেকে ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছে এই চক্র। টাকা না পেলে দোকানে তালা দিয়ে দিতো চক্রের সদস্যরা। এমনকি সিটি করপোরেশন থেকে বৈধ কাগজ করে দেয়ার নামে দ্বিতীয় দফা গত ফেব্রুয়ারতিে আরও ১০ থেকে ১৫ লাখ করে টাকা নেয়। অনেক ব্যবসায়ী দোকান কিনে টাকা পরিশোধ করলেও  দোকানসহ সঠিক কাগজপত্র বুজিয়ে দেয়নি দেলু - ফিরোজ চক্র। আর এ সবই হতো সম্রাটের প্রশ্রয়ে। সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পরপর এসব মার্কেট চক্রের হোতা দেলোয়ার হোসেন দিলুসহ অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।

জানা যায়, সম্রাটের অন্যতম সহযোগী  দেলোয়ার হোসেন দিলু ৮০ শতকের দিকে গুলিস্তান রেলওয়ে কলোনীতে থাকাকালীণ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ৯০ সালে আদর্শ মার্কেটে শাড়ীর ব্যবসা শুরু করেন। ৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসলে চৌধুরী আলমের  মাধ্যমে শুরু করেন ঠিকাদারি ব্যবসা। সেই থেকেই  দেলুর উথান। বিএনপি সরকার ক্ষমতা হারানোর পর দেলোয়ার হোসেন দেলু তার অপরাধ জগত ধরে রাখতে হাত মিলান যুবলীগ নেতা সম্রাটের সাথে। অপরদিকে ঠিকাদারি ব্যবসা করতে গিয়ে  জিকে শামীমের সাথে ঘনিষ্টতা ছিলো আগে থেকেই। তখন জিকে শামীম যুবদল করতেন। এরপর একে একে  কাজ ভাগিয়ে নিয়ে তৈরি করেন উপরে  উল্লেখি মার্কেট গুলো। নগর ভবনের প্রকৌশলীদের ম্যানেজ করে সম্রাটের সেকেন্ড ইন কমান্ড দেলোয়ার হোসেন দেলু আদর্শ মার্কেট , সিটি সুপার, নগর প্লাজা, জাকের মার্কেট, ট্রেড সেন্টার সহ সবকয়টি মার্কেটে রাজউকের নকশা বর্হিভুত ভবন নির্মাণ করে। এছাড়াও নির্মাণকারী মার্কেট গুলোতে আন্ডারগ্রাউনের গাড়ি পাকিং ও মার্কেটের বেইজমেন্টে অবৈধভাবে দোকান তৈরী করে পজিশন বিক্রি ও ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এছাড়াও দেলু পল্টন জামান টাওয়ারের অর্ধেক মালিকানা হলেও পুরো মার্কেট জবর দখল করে নিয়ে সেখান  ৯ ও ১৩ তলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের সহযোগীতায় ক্যাসিনো ব্যবসা করতেন। পল্টন আজাদ টাওয়ারের ৩ তলায় আলীশান অফিসে বসেই চাঁদাবাজি, টেন্ডার বানিজ্য ও ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে দেলু তার সেকেন্ড হোম মালয়েশিয়ায় পালাতক থাকলে ও তার অন্যতম সহযোগী ফিরোজ জাকের মার্কেটের ৬ তলায় বসে দেলুর অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছেন।  এসব মার্কেট থেকে কত টাকা আসতো, এই চক্রে কারা জড়িত? কোন কোন ভবন নির্মাণে চাঁদাবাজি করেছেন? এসব বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সম্রাটকে। তবে এখনো অধরা দেলু - ফিরোজ চক্রের অনেকে। জানা গেছে, বিভিন্ন অবৈধ খাত থেকে উপার্জিত টাকার ভাগ যারা নিতেন তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ কয়েক নেতার নাম প্রকাশ করেছেন সম্রাট।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন