সদ্য সংবাদ

 সরকার ইভিএমের ওপর ভর করেছে: মির্জা ফখরুল  নায়িকা দেখতে পাঁচ রাত ফুটপাতে কাটালেন এক ভক্ত   রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা গণহত্যার শামিল: আইসিজে   দেশকে সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী  বাসাবাড়ির চুলায় নয়, শিল্পে গ্যাস দেব: সংসদে প্রতিমন্ত্রী  মেহেরপুরে ফেনসিডিল রাখার দায়ে যুবকের জেল  মেহেরপুর শ্মশানঘাট মন্দিরে ৩ দিনব্যাপী কালী পূজা  ডুমুরিয়ায় এমপি পুত্রের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন  কালিয়াকৈরে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের কর্মবিরতি  রংপুরে নিবন্ধনকৃত শিশুদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ  পলাশে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অভিভাবকদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  পঞ্চগড়ে কালেক্টরেট সহকারী সমিতি’র উদ্যোগে কর্মবিরতি ও সমাবেশ  কালিয়াকৈরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত  পার্বতীপুরে পল্লীশ্রী’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত  রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে  বাংলাদেশের নতুন বোলিং কোচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের গিবসন  সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলার পলাতক আসামি শরীফ গ্রেফতার  বিমানে লাগেজ হারালে বা নষ্ট হলে কেজি প্রতি লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ  ৯ লাখ নারী কর্মী বিদেশে গেছেন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী  ফতুল্লায় ধর্ষককে ছেড়ে দেওয়া যুবলীগ নেতা শ্যামল গ্রেফতার

মানুষের কষ্টের শেষ নেই, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে

মানুষেরমামানুষের কষ্টের শেষ নেইনুষের কষ্টের শেষ নেই কষ্টের শেষ নেই

 Wed, Nov 13, 2019 8:15 PM
মানুষের কষ্টের শেষ নেই,  নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে

এশিয়া খবর ডেস্ক:: গত দেড় মাস ধরে পেঁয়াজের রেকর্ড দাম বৃদ্ধিতে দেশের মানুষের কষ্টের শেষ নেই।

 পেঁয়াজের ঝাঁজে ভোক্তার চোখের পানি-নাকের পানিতে এক হওয়ার মধ্যেই দাম বৃদ্ধির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা ও সবজির দাম বেড়েছে একই সঙ্গে। এতে করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে টান পড়েছে। তিন বেলার খাবার  জোটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে এসব মানুষের আয়ের টাকা। ফলে নিদারুণ কষ্ট বেড়েছে সাধারণ মানুষের। সাধারণ ভোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় কেউ খাওয়া কমিয়েছে, কেউ পণ্য কিনছে কম করে, আবার কারও কারও সংসার হয়ে পড়ছে ধারদেনানির্ভর। এই যেমন গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যাগ হাতে ভোগ্যপণ্য কিনতে এসেছিলেন মগবাজারের বাসিন্দা হাসিব মাতবর। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তিনি। মাসে আয় ২০ হাজার টাকা। তিন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ আর বাড়ি ভাড়াতেই যার শেষ হয়ে যায় ১৫ হাজার টাকা। বাকি ৫ হাজার টাকায় কোনো রকম টেনেটুনে সংসার চলে। কিন্তু পণ্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসারে খাওয়ার ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অন্য খরচ মেটাতে তিনি বাধ্য হয়েছেন আত্মীয়ের কাছে টাকা ধার করতে।


এসব কথা জানিয়ে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, আমার সংসার এখন ধারদেনানির্ভর হয়ে পড়েছে। এভাবে যদি পণ্যমূল্য বাড়তেই থাকে তাহলে আগামীতে কীভাবে সংসার চলবে আমি জানি না।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রেফতানি বন্ধ করেছে। সে সময় পর্যন্ত দেশের বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৬০-৭০ টাকা। কিন্তু এরপর পার হয়েছে দেড় মাস। এ সময় পেঁয়াজের দাম আরও দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ১৬০-১৭০ টাকা। এর আগে ২০১৭ সালে দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের মূল্য সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু সেবার এই চড়া দাম ছিল সপ্তাহখানেক। এবার টানা দেড় মাস পেঁয়াজের চড়া দামে চরমভাবে ভুগছে দেশের মানুষ। দাম কমা তো দূরের কথা, বেড়েই চলেছে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের মূল্য।

পেঁয়াজ হয়তো এক কেজির জায়গায় আধা কেজি কেনা যায়, কিন্তু চাল তো কমানো যায় না। প্রতিদিন একটি সংসারে যে পরিমাণ চাল লাগে তা কমানো যায় না। কিন্তু দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালেরও দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির মিনিকেট চালের দাম ছিল ২ হাজার ৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫০আর কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা করে। নাজিরশাইলের ২৫ কেজির বস্তা ছিল ১৩০০, এই সপ্তাহে বেড়ে হয়েছে ১৪২০ টাকা। বিআর২৮ চালের ৫০ কেজির বস্তা ছিল ১৬০০, এখন হয়েছে ১৭৫০ টাকা। এভাবে পাইজামসহ অন্য সবধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩-৪ টাকা।

ভোজ্যতেল সরবরাহকারী কেম্পানিগুলোর মধ্যে কোনোটি ইতোমধ্যেই লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। আবার কোনোটি দাম বাড়বে বলে অগ্রিম জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এমনটিই জানান কারওয়ান বাজারের ইউসুফ জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা কবীর হোসেন। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, রূপচাঁদা ও তীর কোম্পানির প্রতিলিটার সয়াবিনে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ১০০ টাকার এসব সয়াবিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। তাছাড়া পুষ্টিসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে বলে অগ্রিম জানানো হয়েছে।

বোতলজাত সয়াবিনের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন এবং পামঅয়েলেরও দাম বাড়ানো হয়েছে। খোলা পামঅয়েল এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৪০০ টাকায়। অথচ গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ ড্রামপ্রতি বেড়েছে ৬০০ টাকা। আরেক নিত্যপণ্য ডালের দামও বাড়ানো হয়েছে। মসুর ডালে বেড়েছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা। ১১৫ টাকার মসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়। মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকার বদলে ১৪৫-১৫০ টাকায়, মাসকলাই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকার বদলে ১৪০ টাকায়। আর বুট ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার বদলে ৯০ টাকায়।

যদিও মসলা প্রতিদিন অতটা দরকার হয় না, তারপরও মসলা ছাড়া বাঙালির রসনাবিলাস চলে না। কিন্তু যে হারে মসলার দাম বেড়েছে তাতে হয়তো বাঙালিকে মসলা ছাড়াই তরকারি খেতে হবে। কারণ এক কেজি এলাচে দাম বেড়েছে ১৪০০ টাকা।
মসলা বিক্রেতারা জানান, ভালোমানের এক কেজি এলাচ সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৭০০ টাকা করে। কিন্তু এখন এর দাম ৩১০০ টাকা কেজি। আর কিছুটা নিম্নমানের এলাচ গত সপ্তাহে ছিল ১২০০, এখন তার দাম ২৪০০ টাকা। তাছাড়া ২০০ টাকার দারুচিনি এখন ৪৫০, ৩০০ টাকার কিসমিস ৫০০ ও ৯০০ টাকার গোলমরিচ ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুলবুল বাড়াল সবজির দাম : পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আরেকদফা বাড়িয়ে দিল সবধরনের সবজির দাম। বাজারে করলা ৬০, বরবটি ৬০, বেগুন ৮০ ও শিম ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, কেজিতে সবধরনের সবজির দাম গড়ে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, পটোল ৬০ ও টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকার ফুলকপি প্রতিপিস ৪৫ ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া কাঁচামরিচের কেজি ৪০ থেকে বেড়ে ১০০, শসা ৬০ ও গাজর ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের বক্তব্য : বাজার বিশ্লেষক ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান পণ্য মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সময়ের আলোকে বলেন, আসলে আমাদের দেশের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা সুযোগসন্ধানী। বাজারে হঠাৎ করে যেকোনো কারণো পণ্যের দাম হয়তো কিছুটা বাড়ে মাঝেমধ্যে। তাই বলে সে সুযোগে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে পণ্যমূল্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া মোটেই সমীচীন নয়। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে অনেকটা এ রকমই ঘটেছে। বাজারে গেলে কোনো দোকানে তো পেঁয়াজের কমতি দেখা যায় ন। যদি সঙ্কটই থাকত তাহলে তো অর্ধেক দোকানে পেঁয়াজই থাকত না। সব দোকানেই তো আছে। তার মানে বাজারে পেঁয়াজ আছে, হয়তো পরিমাণে কিছুটা কম। তাই বলে পেঁয়াজের কেজি ১৭০ টাকা হবে এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। একইভাবে অন্য যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে সেগুলোও ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বাড়ার এখন কোনো কারণ নেই। অতি মুনাফার লোভ আমাদের দেশের ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া করে তুলছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন