সদ্য সংবাদ

 বিজেপি দশটা মারলে আমরা বিশটা মারব: পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী  বন্ধু রোহনকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা কাপুর  অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার বরখাস্ত   যাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয় তাদের সেবা দিতে হবে: ডিসি  বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের  নারীদের নিয়ে ফুর্তি, আ’লীগ নেতা গ্রেফতার  পঞ্চগড়ে করোনা সচেতনতায় সড়কে ক্যাডেটরা   হরিণাকুন্ডু পৌরসভা নির্বাচন ৯টি কেন্দ্র ঝুকিপুর্ন!  করোনা আক্রান্ত হয়ে কালীগঞ্জের সন্তান জাবির সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু!   ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু  বিদেশে টাকা পাচারকারীদের নাম প্রকাশের দাবি সংসদে  সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহোৎসব করছে : মির্জা ফখরুল  ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার বড় দুর্নীতি করেছে : মির্জা ফখরুল   নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন কুষ্টিয়ার সেই এসপি তানভীর   নারায়ণগঞ্জে মৃত ৬ মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক বরাবর  উত্তরবঙ্গ এখন দ্বিতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিনত  করোনা থেকে রক্ষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান-ডেপুটি স্পিকারের   বাংলাদেশে টিকার দাম কত হবে, জানালেন পাপন   কারাগারে হলমার্ক জিএমের নারীসঙ্গী, ডেপুটি জেলারসহ ৩ জন প্রত্যাহার   যে তারকাকে টুইটারে ফলো করেন বাইডেন

নবীনগরে এসএসসির ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ,

অতিরিক্ত টাকা যোগার করতে এক অসহায় মায়ের কান্না

 Fri, Nov 15, 2019 9:39 PM
নবীনগরে এসএসসির ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ,

নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২০ সালের

এসএসসি পরীক্ষার্থী পিতাহারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান আমেনা আক্তার, আমেনার পিতা গনি মিয়া গত ১০ বছর আগে মারা গেছে।ছোট ভাই সুমন সেলুনে কাজ করে সংসার চালাচ্ছে। ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা যোগার করতে গিয়ে চোখের পানিতে ভাসছে তার জনম দুখিনী মা। রাত দিন সেলুনে কাজ করে বড় বোনের পরীক্ষার ফরম পূরনের টাকা জোগার করেছে। 

আমেনার ছোট ভাই ১২ বছরের সুমন বলেন, আমার লেখা পড়ার ইচ্ছা থাকলেও সংসারের অভাবের কারনে লেখা পড়া করতে পারছিনা। রাত দিন সেলুনে কাজ করে বড় বোনের পরীক্ষার ফরম পূরনের টাকা জোগার করেছি,

আমেনার মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অভাবের সংসার এক বেলা খেলে আরেক বেলা খেতে পারি না। ইস্কুলের আপা ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল, গ্রামের কিছু লোকজনের সাহায্য নিয়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে আমার মেয়ের ফরম পূরণ করেছি।

২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার সরকারি নিবন্ধন ফি বিজ্ঞান বিভাগ- ১৯৭০ টাকা, মানবিক বিভাগ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা- ১৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা মানছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষর ধার্য করা টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণ নামে রীতিমতো বাণিজ্য হয়েছে। উপজেলার রতনপুর আবদুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ ফি বাবদ ৩ হাজার ৪ শত টাকা ও কোচিং ফি বাবদ ৬শত টাকা, আবার কোন কোন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে  ৫ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে কোন রশিদই দেওয়া হয়নি।

রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ডাঃ মোঃ শাহজান বলেন, আমি নিজে একজনের ফরম পূরনের জন্য ৩ হাজার টাকা দিয়েছি, কিন্তু আমাকে কোন রিসিট দেওয়া হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসাক মিয়া, ভোমিক, তাহমিনা আক্তার, নাহিদা, আরফিন,খাদিজা বেগম, পপি, মুক্তা, ও সুমাইয়া বলেন, আমাদের কোন বকেয়া বেতন নেই। ফরম পুরনের জন্য ৩৪ শত টাকা আর কোচিং এর জন্য ৬শত টাকা নিয়েছে। আমরা জমা দেওয়ার টাকার রিসিট চাইলে পরে দিবে বলে আমাদেরকে বিদায় করে দেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবু উমর মিল্কী বলেন, প্রধান শিক্ষকের ইচ্ছা মতো ফরম পূরনের টাকা নিচ্ছেন, আমার কাছে অনেকেই অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে রতনপুর আবদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজিনা আক্তার আলেয়া বলেন, ২ হাজার টাকা করে নিয়েছি, যাদের বকেয়া বেতন আছে তাদের কাছ থেকে ৫হাজার টাকাও নিয়েছি। রিসিট না থাকার কারনে রিসিট দিতে পারি নাই। পরে রিসিট এনে সবাইকে দিয়ে দেব।

নবীনগর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণের সাথে জানুয়ারী-মার্চ ২০২০ সালের বেতন সহ আলাদা রসিদে ৮৫০ অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে, নবীনগর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোছা জানান, প্রথমে বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৮৫০ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে বিভিন্ন খরচ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতের জন্য ৪০০টাকা নেওয়া হয়েছে। যাদের কাছ থেকে ৮৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে ৪৫০ টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকারম হোসেন জানান,  অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ে  বুহস্পতিবারে পরিদর্শন করেছি। ফরম পূরনে বোর্ডের নির্ধারিত ফি”র চেয়ে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত আর কোন খাতে টাকা নেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত টাকা যাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তাদের টাকা আগামী সোমবারের মধ্যে ফেরৎ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বলেন, বোর্ড কর্তৃক উল্লেখিত ফি’র অতিরিক্ত কোন প্রকার টাকা নেয়া যাবে না। বোর্ডের নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিকট অনুরোধ করেছিলাম। এরপরও যদি কেউ ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন