সদ্য সংবাদ

  সব দেশ যাতে একসঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন পায় তা নিশ্চিত করুন   মাদক নেয়ার কথা অস্বীকার করলেন দীপিকা  বঞ্চিতদের ৪ অক্টোবর টোকেন দেবে সৌদি এয়ারলাইন্স   নিরাপদ পানি সরবরাহে বিশ্বব্যাংকের ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন  ইসরাইল শান্তির শেষ সুযোগ ধ্বংস করে দিচ্ছে : মাহমুদ আব্বাস   এলাকায় অপরিচিত হওয়ায় যুবককে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন  এমসি কলেজে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তদন্তে কমিটি, ২ গার্ড সাসপেন্ড   মা আমি চলে যাচ্ছি, মাফ করে দিও...  মাদকসেবী ২৬ পুলিশের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু   অন্য করো বর্ধিত সভা ডাকার বৈধ্যতা নেই : ড. কামাল  শরিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মতির সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক, রিফিউজিদের নামে বরাদ্দ জমি ৫০ কোটি টাকায় বিক্রি!   ১৫ বছর ধরে নিজের মেকআপ নিজেই করেন ক্যাটরিনা  টানা বৃষ্টিপাত নাকাল পঞ্চগড় পৌরবাসি  কক্সবাজারে এবার ১১৪১ পুলিশকে একযোগে বদলি  নারায়ণগঞ্জের তল্লায় গ্যাসের লাইনে ৮১৪ লিকেজ  ‘৪৭ মাসে আমি যা করেছি, বাইডেন ৪৭ বছরেও তা পারেননি’  অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর  আল্লামা শফীর মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি  কক্সবাজারের ৩৪ জন পরিদর্শককে একযোগে বদলি

তেঁতুলিয়ায় হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ; শীঘ্রই অভিযোগপত্র দাখিল

 Thu, Nov 21, 2019 6:03 PM
তেঁতুলিয়ায় হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ; শীঘ্রই অভিযোগপত্র দাখিল

পঞ্চগড় প্রতিনিধি॥: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হত্যা কান্ডের

শিকার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার লক্ষীরারায়নপুর গ্রামের কাচামাল ব্যবসায়ী আব্দুর রবের (৪৮) হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যার ঘটনায় জড়িত তেঁতুলিয়ার তীরইহাট ইউনিয়নের যোগীগছ গ্রামের আব্দুল মজিদর ছেলে মো. মানিক (৪৮), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৪৫) এবং ছেলে আমান (২১) হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হাছান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ৩৪ দিনের মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ তৎপরতায় মূল রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার।

প্রেসব্রিফিং এ পুলিশ সুপার বলেন, বুধবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কামরুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় ব্যাবসায়ী মো. মানিক (৪৮), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৪৫) এবং ছেলে আমান (২১) এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মানিক জানায়, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং স্ত্রীর প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়ার কারণে আব্দুর রবকে হত্যা করে সে। এর আগে তার প্রতি কুদৃষ্টি দেন উল্লেখ করে মানিককে তার স্ত্রী আফরোজা ব্যবসায়ীক পার্টনার আব্দুর রবকে বাড়িতে আনতে নিষেধ করেন। ওই ব্যবসায়ীর সাথে মানিকের আর্থিক লেনদেনও ছিল। তবে ব্যবসায়ীক কারণেই গত ১৭ অক্টোবর মানিকের ব্যাংক হিসাবে ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা জমা দেন নিহত আব্দুর রব। ওই দিন মানিক তার ছেলে আমানকে নিয়ে ইসলামি ব্যাংক পঞ্চগড় শাখা থেকে ওই টাকা উত্তোলন করে ন্যাশনাল ব্যাংকের আরেক হিসাব নম্বরে জমা দেন। রাতে পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার আব্দুর রবকে নিয়ে একটি মটরবাইকে বাড়ি ফিরেন মানিক। রাতের খাওয়া শেষে একই বিছানায় শুয়ে পড়েন। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুর রবের বুক ও পেটে প্রথমে ছুরি বসিয়ে দেন মানিক। এক পর্যায়ে রবের গলা কেটে মাথা আলাদা করে স্ত্রী ও সন্তানকে ডেকে তোলেন। পরে মস্তকবিহীন মৃতদেহ এবং খন্ডিত মাথা একটি ব্যাগে নিয়ে মটরবাইকে ছেলেসহ ছেলে আমানসহ বাড়ি থেকে বের হন। তারা প্রথমে ব্রম্মতল গ্রামের ঝিকদহ ব্রীজের নিকট গিয়ে মস্তকবিহীন মৃতদেহটি ফেলে দেন। সেখান থেকে খন্ডিত মাথাটি নিয়ে আজিজনগর গ্রামের হাইওয়ের পাশে ফেলে যান। 

গত ১৮ অক্টোবর সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ব্রম্মতল এলাকায় মস্তকবিহীন মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের বিশেষ তৎপরাতায় ওই দিন বিকালেই মৃতদেহটি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষীরারায়নপুর গ্রামের মরিচ ব্যবসায়ী আব্দুর রবের বলে সনাক্ত করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে তেঁতুলিয়ায় মরিচসহ বিভিন্ন পন্য কেনে এলাকায় নিয়ে যেতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মানিকের সাথে তার ব্যাবসায়ীক সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। এরই সূত্র ধরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর ঘটনার জড়িত সন্দেহে তেঁতুলিয়ার যুগীগছ এলাকার মো. রুবেলকে (৩২) এবং আব্দুল বারেককে (৫০) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন মানিকসহ তার স্ত্রী এবং সন্তানকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। 

সাংবাদিকরে প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, স্ত্রীর প্রতি কুনজড় এবং টাকার লেনদেনের কারণেই মানিকসহ তার স্ত্রী ও সন্তান মিলে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন বলে তারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রথমে গ্রেফতারকৃত দুইজনের দেওয়া তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যেহেতু হত্যাকার্ন্ডের মূল রহস্য বের করা হয়েছে। এজন্য শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন