সদ্য সংবাদ

 মৌলবাদী শুধু মুসলিম নয়, হিন্দু-খ্রিস্টানরাও হতে পারে :পুলিশ সুপার জায়েদুল  বন্দর ঘাটে ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদের মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি  চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণ, পুলিশ সহ দগ্ধ ৩  দিল্লিতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ   ‘থার্ড ক্লাস’ মেয়ে শাবনূর  চীনের বাইরে ৫৩টি দেশে ভয়াবহ করোনাভাইরাস, মৃত ৭০  ‘১১ বছর পর জানতে পারলাম আমায় বন্ধ্যা করে দিয়েছে'   তেঁতুলিয়ায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ শীর্ষক সেমিনার  কোনো অঘটন ঘটলে দায় কিন্তু সরকারের: মওদুদ   দিল্লির সমস্যা সমাধান করুন: ভারতকে ওবায়দুল কাদের  মেহেরপুরে ফুটবল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত  মেহেরপুর আঞ্চলিক ইজতেমা’র দ্বিতীয় দিনে মুসল্লীর ঢল  দিল্লিতে মুসলমানদের ওপর হামলার সময় পুলিশের নিষ্ক্রীয়তায় উদ্বেগ  কালকিনিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস বিতরণ  পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণে সভা অনুষ্ঠিত  বঙ্গবন্ধুর কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি   স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল, কোল থেকে পড়ে কয়লা হয়ে যায় রুশদি  রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে বাড়ছে অসামাজিক কার্যকলাপ   দিল্লির দাঙ্গায় ৩৪ জন নিহত, মন ভেঙেছে শেবাগ-যুবরাজদের   ঘর-বাড়ি হারিয়ে পালাচ্ছেন দিল্লির মুসলমানরা

নবীনগরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে ৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

 Sat, Dec 7, 2019 6:08 PM
নবীনগরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে ৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা

এক রাজনৈতিক ব্যাক্তি নিজের প্রকৃত নাম পরিচয় ও বয়স গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সেজেঁ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবা মায়ের নাম ঠিক রেখে ওই অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা দুই নামে দুটি জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে আসছেন। তাঁর নাম মোসলেম উদ্দিন মৃধা বাড়ি পৌর এলাকার আলিয়াবাদ গ্রামে। তিনি জাতীয় পার্টির নবীনগর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মুরতুজ আলী সন্তান মুকসুদ আলী খান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার বরাবরে গত বৃহসপতিবার লিখিত এক দরখাস্তে তার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়টি সত্যতা যাচায়ের আবেদন করেন। 

সুত্র থেকে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ও একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নবীনগরের সর্বত্র তিনি মোসলেম উদ্দিন মৃধা নামে পরিচিত থাকলেও, ছবিযুক্ত তাঁর দুটি জাতীয় পরিচয় পত্রের একটিতে লেখা আছে তাজুল ইসলাম মৃধা। উচ্চ মাধ্যমিক পাস। (এনআইডি নম্বর ১৯৬৩১২২৮৫০৭৮০৬৮৮২) জন্ম তারিখ ২৮ অক্টোবর ১৯৬৩। একই ছবিযুক্ত অন্য একটি জাতীয় পরিচয় পত্রে (এনআইডি নম্বর ১৯৫৪১২২৮৫০৫০০০০০১) তাঁর নাম লেখা রয়েছে মোঃ মোসলেম উদ্দিন মৃধা। অষ্টম শ্রেণী পাস। জন্ম তারিখ ২৫ মার্চ, ১৯৫৮। তবে দুটি জাতীয় পরিচয় পত্রেই তার বাবার নাম তঞ্জুবালী মৃধা ও মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন লেখা রয়েছে। তিনি মোসলেম উদ্দিন মৃধা নামেই মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু আরেক অনুসন্ধানে উনার একাডেমিক সার্টিফিকেটে দেখা যায়, ইব্রাহিমপুর স্কুল থেকে অনুষ্ঠিততব্য ১৯৮০ সালে এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছক বিন্যাাস কপিতে তার নাম মো.তাজুল ইসলাম মৃধা,পিতা তঞ্জুব আলী,জন্ম তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৫ইং। একটি পরিচয় পত্রে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ি তাঁর বয়স ছিলো মাত্র ৭ বছর। অন্যটিতে ১৩ বছর। আর একাডেমিক তথ্যে তার বয়স ৬ বছর। ছয় সাত বছরের এই মুক্তিযোদ্ধা গত ৮ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধাভাতা উত্তোলন করছেন। মূলত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার জন্য বয়স বাড়িয়ে এমটা করেছেন বলে ধারনা করছেন এলাকার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের (হালে নারায়ণপুর) মৃত তঞ্জুবালি মৃধার ছেলে তাজুল ইসলাম মৃধা মোসলেম উদ্দিন মৃধা নামে ২০১২ সালের জুলাই মাস মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়ে হন। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নাম্বার ১১৬০০৮.গেজেট নাম্বার ৩৯৯১। 

প্রশ্ন উঠছে একজন লোক দুইটি জাতীয় পরিচয় পত্র কি ভাবে ব্যবহার করেন, আর তার দুইটি এনআইডি ও স্কুলে দেওয়া তথ্যে কোনটি সঠিক? সমাজসেবা দপ্তর সূত্রে আজ রবিবার (০৮/১২) মোসলেম উদ্দিন মৃধাকে ডেকে পাঠাবেন বলে জানা গেছে।   

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন মৃধা তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন,‘আমার নাম মোসলেম উদ্দিন মৃধা, তাজুল ইসলাম মৃধা নয়। জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরীতে তথ্য ভুল ছিল। আমি তাজুল ইসলাম নামে আইডি বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। আমার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ১৯৫৪১২২৮৫০৫০০০০০১। সেই অনুযায়ী: আমার জন্ম তারিখ ২৫ মার্চ ১৯৫৮। তবে আমি এএসসি পাস করিনি। যিনি আমার বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন, তার সাথে আমার জমিজমা নিয়ে মামলা আছে। তাই তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা আজাহারুল ইসলাম লালু বলেন, আমার জানামতে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন,অসাধু উপায়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তুলছেন। মুক্তিযোদ্ধের সময় তার বয়স কোন অবস্থাতেই ৭/৮ বেশী হতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন । 
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার শামসুল আলম সরকার বলেন,‘সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ি ১২ বছরের নীচে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবেন না। কিন্তু  মোসলেম উদ্দিন মৃধা সাত বছর বয়সে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছেন, সেটি বুঝতে পারছিনা। তবে অবশ্যই এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।’
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নবীনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক  ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বলেন,‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।’

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন