সদ্য সংবাদ

  সব দেশ যাতে একসঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন পায় তা নিশ্চিত করুন   মাদক নেয়ার কথা অস্বীকার করলেন দীপিকা  বঞ্চিতদের ৪ অক্টোবর টোকেন দেবে সৌদি এয়ারলাইন্স   নিরাপদ পানি সরবরাহে বিশ্বব্যাংকের ২০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন  ইসরাইল শান্তির শেষ সুযোগ ধ্বংস করে দিচ্ছে : মাহমুদ আব্বাস   এলাকায় অপরিচিত হওয়ায় যুবককে গাছে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন  এমসি কলেজে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তদন্তে কমিটি, ২ গার্ড সাসপেন্ড   মা আমি চলে যাচ্ছি, মাফ করে দিও...  মাদকসেবী ২৬ পুলিশের চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু   অন্য করো বর্ধিত সভা ডাকার বৈধ্যতা নেই : ড. কামাল  শরিক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  মতির সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক, রিফিউজিদের নামে বরাদ্দ জমি ৫০ কোটি টাকায় বিক্রি!   ১৫ বছর ধরে নিজের মেকআপ নিজেই করেন ক্যাটরিনা  টানা বৃষ্টিপাত নাকাল পঞ্চগড় পৌরবাসি  কক্সবাজারে এবার ১১৪১ পুলিশকে একযোগে বদলি  নারায়ণগঞ্জের তল্লায় গ্যাসের লাইনে ৮১৪ লিকেজ  ‘৪৭ মাসে আমি যা করেছি, বাইডেন ৪৭ বছরেও তা পারেননি’  অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর  আল্লামা শফীর মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি  কক্সবাজারের ৩৪ জন পরিদর্শককে একযোগে বদলি

আজাহারীকে নিয়ে সংসদে মেননের প্রশ্ন

 Mon, Feb 10, 2020 10:25 PM
আজাহারীকে নিয়ে সংসদে মেননের প্রশ্ন

এশিয়া খবর ডেস্ক:: শরীয়ত বাউলকে আইসিটি আইনে গ্রেফতার করে জেলখানায় রাখা হয়েছে,

 অথচ সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর স্বপক্ষে ওয়াজকারী মিজানুর রহমান আজাহারী কীভাবে দেশ ছাড়ল তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্ন তুলে ধরেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দেশে শরীয়ত ও মারফতের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এখন সৌদি-পাকিস্তানি ও জামাতীদের ওহাবিবাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করতে এ ধরনের দ্বন্দ্বের সম্পর্কে যখন রাষ্ট্রীয় আইন ব্যবহার করা হয়, তখন তা উদ্বেগের বিষয়। রাষ্ট্র কি অতীতের মতো আবার মৌলবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? না-হলে আজাহারী দেশ ছেড়ে যেতে পারে না। খতমে নবুয়ত নতুন করে হুঙ্কার ছাড়তে পারে না। হেফাজত সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিতে পারে না। এরাই ক’দিন পর পাকিস্তানি কায়দায় ব্লাসফেমী আইন প্রণয়ন করতে বলবে, যেমন এই সংসদেই যুদ্ধাপরাধী নিজামী সেই প্রস্তাব তুলেছিল।

বঙ্গবন্ধু এ দেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার মূল নীতি উপহার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কেবল সোচ্চার ছিলেন না কেবল, বাস্তবে তার অনুসরণ করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিলে আইন তার ব্যবস্থা নেবে। আমি এই সংসদে মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ইউটিউবে প্রচারিত ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি ও বিভাজনের কিছু বক্তব্যের পেন-ড্রাইভ দিয়েছিলাম। সে সবের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই তারা মরিয়া আক্রমণ করবে। ধর্মবাদী তো বটেই, ওই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ডান ও তথাকথিত বামও এক হচ্ছে।

মেনন বলেন, অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে যে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে দেশকে পাকিস্তানি আদলে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তার ছেদ ঘটানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার অবসান হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রচারে, আমাদের আচার-আচরণে, বেশ-ভূষার পরিবর্তনে তার রেশ আমরা দেখি। ফেসবুক, ইউটিউবের নিত্য প্রচারে সেই মনমানসিকতাকে উসকে দেয়া হচ্ছে। ভাষা আন্দোলন যেমন আমাদের জাতিসত্তাকে নির্দিষ্ট করেছে, তেমনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুও নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’।

রাশেদ খান মেনন বলেন, মাধ্যমিক ক্ষেত্রে শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত আমলে একমুখী শিক্ষার নামে মাধ্যমিক সাধারণ শিক্ষার অবনমনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিজ্ঞান, গণিতকে পেছনে ঠেলে শিক্ষা ধর্মীয় ও ব্যবসাভিত্তিক করার চেষ্টা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে সে ধরনের পশ্চাৎপদগামিতা হবে না বলে আশা করি। তবে পাঠ্যবইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা তুলে দেয়া এবং গল্প-কথা-চিত্রে ধর্মভাবের প্রতিফলনের নতুন সব ব্যবস্থা অনেককে আতংকিত করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের শীর্ষে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, গত দশ বছরে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে অর্থমন্ত্রীর আগামী বছরের বাজেট হতো। নিউইয়র্কেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটির গবেষণা মতে ২০১৪ সালে এক বছরেই এই অর্থ পাচারের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৭২ হাজার কোটির সমপরিমাণ অর্থ। এই অর্থ পাচারকারীরা কানাডা, মালয়েশিয়া, ব্যাংককে বেগমপাড়া বানিয়েছে। কানাডা প্রবাসীরা এদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। তালিকা প্রকাশ করতে বলেছে। আমিও বলি সংসদে ঋণ খেলাপিদের মতো এই অর্থ পাচারকারী-বেগমপাড়ার মালিকদের নাম প্রকাশ করা হোক। ব্যাংক নিয়ে একটা সমাধানে আসতে ব্যাংক কমিশন গঠন করা হোক। তিনি ব্যাংক লুটেরাদের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন