সদ্য সংবাদ

 সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত ১১৩০২ পুলিশ সদস্য   দেবীগঞ্জে ভারি বর্ষণ পানি তোড়ে ভেসে গেছে সড়ক  পুরনো এক্স-রে মেশিনে নতুন রঙ: দুর্নীতি ধরলেন সংসদ সদস্য  নবীনগরে চাচাতো ভাইয়ের ঘুষির আঘাতে বড় ভাই নিহত  সাঘাটায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত  প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ডেল্টা কাউন্সিল গঠন   মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি,সাক্ষীরা জানেনা তারা ঘটনার সাক্ষী   দেশে ভয়াবহ দুঃশাসন চলছে: ফখরুল   বাংলাদেশি গার্মেন্টস কর্মীদের টাকা পাঠাচ্ছেন এক ভিনদেশি ব্যবসায়ী   ডিসি পদে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনকে ঘিরে বিতর্ক   দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৬.০১৬ বিলিয়ন ডলার  চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৩ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭   করোনামুক্ত হলেন জোকোভিচ ও তার স্ত্রী  বাজেটে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সুযোগ বেড়েছে : ফখরুল   রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার   করোনা: ঝিনাইদহ জেলা, ৫ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ২৩৬!  প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ইউপি সদস্য ধরা  কুয়েতে এমপি পাপুল ব্যাংক হিসাবে ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা জব্দ।  আড়াইহাজারে মন্দিরে অগ্নি সংযোগ ঘটনা  রূপগঞ্জে হত্যা পর লাশে সিমেন্টের প্রলেপ

এসপি সাজ্জাদ কান্ড: ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেকে সই

 Mon, Feb 17, 2020 11:56 PM
 এসপি সাজ্জাদ কান্ড: ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেকে সই

এশিয়া খবর ডেস্ক:: নারায়ণগঞ্জের বিগত সময়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানকে

চিনেন না এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা খুবই কম । পদন্নোতি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই  নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবে আসার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন অনেকবার । এ ছাড়াও তার পুত্র নিজ বাসার নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করার ঘটনায় আরো অধিক হারে পরিচিতি লাভ করেন সাজ্জাদ ।

সেই সাজ্জাদ এবার অর্থ কেলেংকারী করে আবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন । যা নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড় । অনেকেই বলেছেন কলেজ পড়ুয়া পুত্র হারানোর পরও এই লোকটির শিক্ষা হয় নাই । আর কবে সাজ্জাদ সৎপথে ফিরে আসবেন ?  


মধ্যরাতে বাসায় কলবেল বেজে ওঠে। পরিবারের সবাই তখন আতঙ্কিত। দরজা খোলেন ব্যবসায়ী মেহেদী শেখ। দরজার সামনে দাঁড়ানো পুলিশের দুই দারোগা। তাঁরা জানালেন, পাওনা ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য তাঁকে ধানমন্ডি থানায় যেতে হবে।

মেহেদী শেখ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চান। তা না দেখিয়ে জোর করে তাঁকে গুলশানের কালা চাঁদপুরের বাসা থেকে নেওয়া হয় ধানমন্ডি থানায়। সেখানে একটি কক্ষে রাতভর আটকে রাখা হয় মেহেদীকে। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে জানানো হয়, বাসা থেকে চেক বই এবং ট্রেড লাইসেন্সের মূল কপি আনতে হবে। আটক ব্যবসায়ীর দুই স্বজন এগুলো নিয়ে থানায় হাজির হন। একটি চেকে ৬৫ লাখ, আরেকটি চেকে ৬০ লাখ টাকা লিখে সই করতে বাধ্য করা হয় মেহেদীকে।

এখানেই শেষ নয়, বিকেল পাঁচটার দিকে ধানমন্ডি থানা থেকে ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশের গাড়িতে করে নেওয়া হয় পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমানের কার্যালয়ে। মেহেদী শেখের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গেই তাঁর মূল বিরোধ। উপকমিশনার সাজ্জাদ নিজের ডায়েরিতে কবে, কোন চেক ক্যাশ হবে, সেই তারিখ লিখিয়ে নেন। নিচে মেহেদীকে তারিখসহ সই করতে বলা হয়। আর চেকের পাতায় টাকার অঙ্ক লেখেন উপকমিশনারের শ্যালক মাসুদ হোসেন ওরফে শুভ্র।

গত ২২ জানুয়ারির এ ঘটনার নানা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে । এগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া, ধানমন্ডি থানায় সারা রাত রাখা এবং পরদিন মগবাজারে পুলিশের রমনা বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়ার প্রমাণ মেলে।

তা ছাড়া এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মেহেদী ১২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি জীবনের নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম  বলেন, এই অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

দুই পক্ষের অন্তত পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ী মেহেদীর বিরোধের সূত্রপাত টাকা লেনদেন নিয়ে। এই ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে গুঁড়া দুধসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতেন। সাজ্জাদুর রহমান তাঁকে নগদ ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, প্রতি মাসে এর বিনিময়ে আড়াই লাখ টাকা দিতে হতো। মেহেদী নগদ টাকা বুঝে নিয়ে ৫০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন। প্রতি মাসে লাভের টাকা নিতেন পুলিশ কর্মকর্তার শ্যালক মাসুদ হোসেন।

অভিযোগ রমনার ডিসির বিরুদ্ধে। দুই থানার দুই দারোগাও জড়িত। ডিএমপি কমিশনার বললেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত হবে।

ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় গত বছরের মাঝামাঝি মেহেদী লাভের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর জামানত হিসেবে দেওয়া ৫০ লাখ টাকার চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। চেক প্রত্যাখ্যাত (ডিজঅনার) হলে মামলা করেন সাজ্জাদুর রহমানের শ্যালক মাসুদ হোসেন। সেই মামলায় জামিনে আছেন মেহেদী। এরই মধ্যে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার দুটি চেকে সই নেওয়া হয়। এরপর সোয়া কোটি টাকার ওই চেক দুটি প্রত্যাখ্যাত হলে ৪ ফেব্রুয়ারি মেহেদীকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন সাজ্জাদুর রহমানের শ্যালক মাসুদ ও নিকটাত্মীয় হাদিউজ্জামান।

ব্যবসায়ীর সঙ্গে এমন লেনদেন বা টাকা উদ্ধারের কাজ পুলিশ কর্মকর্তা করতে পারেন কি না, জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ও সাংসদ নূর মোহাম্মদ   বলেন, টাকাপয়সা উদ্ধারের দায়িত্ব পুলিশের নয়। তবে বিপদগ্রস্ত কেউ পুলিশের শরণাপন্ন হলে সাধারণত পুলিশ দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে দেয়। সমস্যাটা হলো, কেউ এটা ভালো মন নিয়ে করে, কেউ করে খারাপ মন নিয়ে। কিন্তু সমস্যা সমাধানে কোনো পুলিশ সদস্য যদি চাপ দেন, ভয়ভীতি দেখান, সেটা নিঃসন্দেহে অপরাধ।

দুই দারোগা যা বলেন

ব্যবসায়ী মেহেদীকে বাসা থেকে ধরে আনেন হাজারীবাগ থানার এএসআই রাজু আহমেদ এবং ধানমন্ডি থানার এসআই জিল্লুর রহমান। সাজ্জাদুর রহমান সাতক্ষীরা, গোয়েন্দা পুলিশ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত থাকার সময় রাজু তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

এএসআই রাজু আহমেদ  বলেন, তিনি মেহেদী শেখ নামের কাউকে ধরতে গিয়েছিলেন, এটা তাঁর মনে পড়ছে না। তবে ব্যবসায়ী মেহেদী শেখ জানান, ঘটনার দিন রাজু তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন।

এসআই জিল্লুর রহমানও  বলেন, এএসআই রাজু তাঁর সঙ্গে ছিলেন। হাজারীবাগ থানার পুলিশ কেন ধানমন্ডি থানার ঘটনায় গিয়েছিল, তা জানতে চাইলে তিনি এর জবাব দিতে পারেননি। জিল্লুর বলেন, ধানমন্ডি থানায় মেহেদী শেখের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন হাদিউজ্জামান (উপকমিশনারের আত্মীয়) নামের এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় মেহেদীকে থানায় ডাকা হয়েছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়া মধ্যরাতে বাসায় যাওয়া এবং থানায় রাতভর আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আপসে বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। এ ছাড়া তাঁর সেখানে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত ছিল। অবশ্য মেহেদী বলেন, জিল্লুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করলেও তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি।

৫০ লাখ টাকার উৎস কী?
ব্যবসায়ী মেহেদীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন সাজ্জাদুর রহমান। প্রশ্ন হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এভাবে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন কি না। মেহেদী বলেন, ‘ব্যবসার জন্য ডিসি স্যারের কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছিলাম। তাঁকে লাভের টাকা দিতাম।’

এ বিষয়ে ডিসি সাজ্জাদুর রহমান  বলেন, ‘টাকা আমি দিইনি, দিয়েছিল আমার শ্যালক। একজন মানুষ যখন টাকা দিয়ে ফেরত পায় না, তখন আমাদের কাছে আসে। আমার শ্যালকও আর ১০ জনের মতো এসেছিল। সে টাকা দিয়ে এখন ফেরত পায় না, লাভও পায় না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয় যা কিছু হয়েছে, তা আইনের মধ্যেই হয়েছে। তা ছাড়া অভিযোগকারীর আমলনামা দেখলে বুঝতে পারবেন, সে কতটা খারাপ প্রকৃতির লোক। এমন লোকের সঙ্গে একজন পদস্থ কর্মকর্তা হয়ে আর্থিক লেনদেন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, তাঁর শ্যালক এই লেনদেন করেছে।

চেক লিখেছেন শ্যালক
ধানমন্ডি থানায় মেহেদীর কাছ থেকে যে দুট

সুত্র- প্রথম আলো

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন