সদ্য সংবাদ

 কালকিনিতে ১৩১ বাড়িতে লাল নিশানা লাগিয়ে দিলো প্রশাসন  করোনার বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম শান্তির অভিযান শুরু  রংপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  নরসিংদীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২০৫ প্রবাসী  কালকিনির বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন  পঞ্চগড়ে সাড়ে ৭শ’ পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ  রংপুরে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  পার্বতীপুরে শুধুমাত্র পূজার মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা পরব’ উদযাপিত  রংপুরে এরশাদের জন্মদিন পালিত  বিএফআরআইতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস পালিত  করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পঞ্চগড়ে জরুরি বৈঠক  আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে : সাদ এরশাদ এমপি  কালকিনিতে দুই প্রবাসীকে আর্থিক জরিমানা  পঞ্চগড়ে সীমিত পরিসরে মুজিববর্ষ পালিত  রংপুরে ৮টি রাস্তা পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু  কালকিনিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে মুজিব উতসব পালিত  কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে কীটনাশক মুক্ত সবজির চাষ!

সৌদির ওমরাহ ভিসা বন্ধ, বাংলাদেশের ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা!

 Thu, Feb 27, 2020 10:31 PM
সৌদির ওমরাহ ভিসা বন্ধ, বাংলাদেশের ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা!

এশিয়া খবর ডেস্ক:: করোনার প্রাদুর্ভাব অঞ্চলের দেশগুলোর ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।

 এমন সিদ্ধান্তে ভিসা হওয়া পরও বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর মক্কা গমন আটকে গেল।

বৃহস্পতিবার সকালে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে শাহজালাল বিমানবন্দরে অপেক্ষামান যাত্রীদের কাউকেই বোর্ডিং পাস দেয়া হয়নি। সকালে সৌদির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিমানগুলোতেও কোনো ওমারাহ যাত্রী ছিলেন না।

এদিকে সৌদি সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

প্রায় ২০ কোটি টাকা ওমরাহ ভিসা ফি, হোটেল ভাড়া ও নন রিফান্ডেবল বিমান ভাড়া আর ফেরত পাওয়া যাবে না বলে এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘ আজ সকালে আকস্মিক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে আমাদের ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সকালে বিমানবন্দরে আমাদের যে যাত্রীরা গিয়েছেন তারা সবাই অপেক্ষামান আছেন, কাউকেই বোর্ডিং পাস দেয়া হয়নি।’

অর্থাৎ নতুন কোনো ভিসা ইস্যু তো হচ্ছেই না বরং আজ সকালের যাত্রীদেরও সৌদি যেতে দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে হাব সভাপতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের বিষয়ে সকালে সৌদি দূতবাসের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে দূতাবাস যাদের ভিসা আছে তাদের ব্যাপারেও কিছু বলতে পারেনি।’

এদিকে সৌদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চিন্তার রেখা দেখা গেছে বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সির মালিকদের কপালে।

এ বিষয়ে গালফ ট্রাভেলের মালিক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘প্রায় ৫০০ ওমরাহ ভিসা করেছি আমরা। আজকেই অনেকের ফ্লাইট ছিল। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরো কয়েকটি ফ্লাইটে সব যাত্রী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেউই যেতে পারছে না। অনেক বড় ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম।’

সিদ্ধান্তটি সাময়িক জানালে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক। এর গ্রাস থেকে কবে বিশ্বের মুক্তি মিলবে জানা নেই। এর ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত বদলাবে সৌদি সরকার। আর আমাদের ওমরাহ ভিসার মেয়াদ এক মাস। এক মাসের মধ্যে খুলে দেয়া হলে বিপদ মুক্ত হবো। এছাড়া আর নয়।’

এ বিষয়ে আহসান ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পুরো বিষয়টি সৌদি সরকারের ওপর নির্ভর করছে। সৌদি সরকার চাইলে পরবর্তী সময়ে এ ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েও দিতে পারবে। তখন আমরাও ভুক্তোভোগী হব না। তবে এসবই এখন ভবিষ্যতের বিষয়।’

তিনি যোগ করেন, ‘ভিসা ফি ও হোটেল ভাড়া তো আর পাচ্ছি না। তাই আপাতত বিমান ভাড়াটা ফেরত পাওয়ার জন্য চেষ্টা করা হোক।’

সৌদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানার পর অনেক ট্রাভেল আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মারওয়া ট্রাভেলের মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আজই আমরা আরও একশ ভিসার আবেদন করার কথা। খবর শোনার পর তড়িঘড়ি করে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। সে নোটিশে বলা হয়েছে, ওমরাহ পালন ও মসজিদে নববী পরিদর্শন এবং টুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদির সরকার।

এ বিষয়ে একটি টুইটও করেছে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সেখানে লেখা হয়েছে, ‘সৌদি আরবে করোনাভাইরাস প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশহিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে জানা গেছে, আটকে যাওয়া ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রীর ভিসার বিপরীতে প্রায় ৫ হাজার টিকিট কাটা হয়ে গেছে। এদের মধ্যে লো-কস্ট এয়ারলাইন্সের নন-রিফান্ডেবল টিকিটগুলোর মোট মূল্য ৯ কোটি টাকা।

এ যাত্রীদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে কি না প্রশ্নে হাব সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘সব মিলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। যে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এ ক্ষতি এখন এজেন্সি ও ওমরাহ যাত্রীদের বহন করতে হবে।’

বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিসাগুলোর জন্য সৌদি সরকারকে আইবিএনের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সৌদিতে হোটেল ভাড়া বাবদ মূল্য আগেই পরিশোধ করা হয়েছে। সেই ভিসা ফি আর হোটেল ভাড়া আর ফিরে পাওয়া যাবে না।’

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন