সদ্য সংবাদ

 কালকিনিতে ১৩১ বাড়িতে লাল নিশানা লাগিয়ে দিলো প্রশাসন  করোনার বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম শান্তির অভিযান শুরু  রংপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  নরসিংদীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২০৫ প্রবাসী  কালকিনির বিভিন্ন হাট-বাজারে হাতধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন  পঞ্চগড়ে সাড়ে ৭শ’ পিস হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ  রংপুরে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  পার্বতীপুরে শুধুমাত্র পূজার মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যবাহী ‘বাহা পরব’ উদযাপিত  রংপুরে এরশাদের জন্মদিন পালিত  বিএফআরআইতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস পালিত  করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পঞ্চগড়ে জরুরি বৈঠক  আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে : সাদ এরশাদ এমপি  কালকিনিতে দুই প্রবাসীকে আর্থিক জরিমানা  পঞ্চগড়ে সীমিত পরিসরে মুজিববর্ষ পালিত  রংপুরে ৮টি রাস্তা পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু  কালকিনিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে মুজিব উতসব পালিত  কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালিত  পঞ্চগড়ে কীটনাশক মুক্ত সবজির চাষ!

সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ে ধস নামলেও কর্মকর্তারা কোটিপতি

 Thu, Mar 5, 2020 11:02 PM
 সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ে ধস নামলেও কর্মকর্তারা কোটিপতি

এশিয়া খবর ডেস্ক:: সিটি করপোরেশনের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত গৃহকর ও বাজার সালামি,

যে আয় দিয়ে সিটি করপোরেশন তাদের নিজস্ব ব্যয় মেটায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বাজেট ধরা হলেও এ খাতে রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় বিভাগের কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে অসাধু কিছু কর্মকর্তার কারণে বাজেট অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছেন না বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ খাতে সঠিক তত্পরতা না বাড়ালে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আর্থিকভাবে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে বলে জানান তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত পাঁচ বছরের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিছু বছর বাজেটের অর্ধেক বাজার সালামি ও গৃহকরের অর্থও আদায় করতে পারেনি ডিএসসিসি। গত পাঁচ বছরের রাজস্ব বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ৩০৫ কোটি টাকা; আদায় হয়েছে মাত্র ৬১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) ধরা হয় ৩৩০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ২১১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার সালামিতে ৩১৩ কোটি টাকা আয় ধরা হলেও আদায় হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। আর কর (গৃহ) ধরা হয় ৫১৫ কোটি টাকা, যেখানে আদায় হয়েছে মাত্র ১৮০ কোটি টাকা।

এর আগের অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৬৫০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১০৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা, আর আদায় হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা, আদায় হয় মাত্র ১৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) খাতে আয় ধরা হয়েছিল ২৮৫ কোটি টাকা, আদায় হয় মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ৫৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) আয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা মাত্র। ২০১৯-২০ চলতি অর্থবছরেও বাজার সালামি থেকে ধরা হয়ে হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। আর এ খাতে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ৩০ কোটি টাকা। এ বছর কর (গৃহ) খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ১৪৫ কোটি টাকা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, শুধু লোকদেখানো বাজেট দেওয়া হয় রাজস্ব খাতে। কর্মকর্তারা এর মাধ্যমে অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর টাকা ঠিকমতো আদায় না হলেও কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না সংস্থাটি। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদটি মূলত সরকারের উপসচিব পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু এই পদে ইউসুফ আলী সরদারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে ডিএসসিসি তার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না। এ পদে জনপ্রশাসন থেকে প্রেষণে কর্মকর্তা দেওয়া হলেও তিনি সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এই পদে রয়েছেন।

অন্যদিকে ভুয়া চালান তৈরি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসি) একটি ওয়ার্ডে গৃহকরের ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬১ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযোগে ইতিমধ্যে সংস্থাটির সাময়িক বরখাস্ত রেভিনিউ সুপারভাইজার ফাহিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. ইউসুফ আলী সরদার কর্মকর্তাদের অসত্ উপায়ের কথা স্বীকার করে  বলেন, ‘অবৈধভাবে অনেকে অনিয়মের আশ্রয় নেয়। এছাড়া আমরাও বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করতে পারছি না। বিশেষ করে বাজার সালামি আদায়ে সমস্যা বেশি হয়। এর কারণ হলো, আমরা যে পরিমাণ মার্কেট তৈরি করার টার্গেট নিই, সে অনুযায়ী আমরা মার্কেট তৈরি করতে পারছি না। এ কারণে আমরা যে পরিমাণ এই খাতে টার্গেট নিই, তার এক ভাগও পূরণ হয় না। এছাড়া আদালতে গৃহকর নিয়ে কিছু মামলা থাকার কারণে অনেক জায়গা থেকে কর আদায়েও অসুবিধা হয়।’

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন