সদ্য সংবাদ

 করোনায় আক্রান্ত ৩৫৭৪ জন পুলিশ সদস্য   বলিউডে নাম লেখাতে যাচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তীর মেয় দিশানি  ট্রাম্পের সেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ওষুধে করোনা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি   গণস্বাস্থ্য করোনা পরীক্ষা করবে, সবার জন্য উন্মুক্ত   চুমু দিয়ে গ্রে প্রেমিকাকেফতার ইরানি খেলোয়াড়  পোশাক কারখানা মালিকের কান্না আন্তর্জাতিক মাধ্যমে   করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি পুতুল   সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৪   হরিণাকুন্ডু নাগরিক সেবা বন্ধ ঘোষণা ইউপি চেয়ারম্যানদের   ঝিনাইদহের ডালিয়া ফার্মে প্রতিদিন ফ্রি দুধ বিতরন   পাকিস্তানের করাচিতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৩৭   করোনায় আক্রান্ত র‍্যাব ৪-এর অধিনায়ক  চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর রবিবার  আশুলিয়ার আউকপাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি।  করোনার কারণে প্রবাসীদের ৮৭ শতাংশের আয়ের কোনো উৎস নেই  দুবাই সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ফিরে আসা সাংবাদিক এইচ ইমরান।  কালকিনিতে ১৩১ বাড়িতে লাল নিশানা লাগিয়ে দিলো প্রশাসন  করোনার বিরুদ্ধে সাইফুল ইসলাম শান্তির অভিযান শুরু  রংপুরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক বিতরণ  নরসিংদীতে হোম কোয়ারেন্টিনে ২০৫ প্রবাসী

করোনার কারণে প্রবাসীদের ৮৭ শতাংশের আয়ের কোনো উৎস নেই

ব্র্যাকের জরিপ

 Fri, May 22, 2020 10:31 PM
করোনার কারণে প্রবাসীদের ৮৭ শতাংশের আয়ের কোনো উৎস নেই

এশিয়া খবর ডেস্ক:: করোনার কারণে কর্মীদের ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই।

 নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। আর ৫২ শতাংশ বলছেন, তাদের জরুরিভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ‘বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশে ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ জন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ফিরেছেন মার্চে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের ২০ জন কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, করোনার কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫ শতাংশ বলেছেন, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮ শতাংশ বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ফেরার সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক নেই। কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। ১৪ শতাংশ বলেছেন, তারা কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো মানতে পারেননি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

এদিকে দেশে ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ জন কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ অভিবাসী বলেছেন তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭ শতাংশ বলেছেন, এক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জরিপে অংশ নেয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯ শতাংশ জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরও এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ১৪ শতাংশ প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের শতকরা ৮৪ ভাগ এখনো জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকিরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন।

বিদেশফেরত এই অভিবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পেয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে ৯১ শতাংশ বলেছেন, তারা এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো জায়গা থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বাকি ৯ শতাংশ সরকারি বা বেসরকারি কোনো না কোনো জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সঙ্কট এবং করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এই জরিপ। ফেরত আসা ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই।

৫২ শতাংশ বলছেন, তারা জরুরিভিত্তিতে সহায়তা চান। আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছে। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এই প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন।

শরিফুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে ধরলে মোট তারা পাঠিয়েছেন ৫৫ হাজার কোটি টাকা। কাজেই এই সঙ্কটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন এবং যারা ফিরে আসছেন।

এদিকে সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এগুলো হল- ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা। দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সহজ শর্তে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা। গন্তব্য দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন