সদ্য সংবাদ

 সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত ১১৩০২ পুলিশ সদস্য   দেবীগঞ্জে ভারি বর্ষণ পানি তোড়ে ভেসে গেছে সড়ক  পুরনো এক্স-রে মেশিনে নতুন রঙ: দুর্নীতি ধরলেন সংসদ সদস্য  নবীনগরে চাচাতো ভাইয়ের ঘুষির আঘাতে বড় ভাই নিহত  সাঘাটায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত  প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের ডেল্টা কাউন্সিল গঠন   মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি,সাক্ষীরা জানেনা তারা ঘটনার সাক্ষী   দেশে ভয়াবহ দুঃশাসন চলছে: ফখরুল   বাংলাদেশি গার্মেন্টস কর্মীদের টাকা পাঠাচ্ছেন এক ভিনদেশি ব্যবসায়ী   ডিসি পদে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনকে ঘিরে বিতর্ক   দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৬.০১৬ বিলিয়ন ডলার  চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৩ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭   করোনামুক্ত হলেন জোকোভিচ ও তার স্ত্রী  বাজেটে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সুযোগ বেড়েছে : ফখরুল   রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার   করোনা: ঝিনাইদহ জেলা, ৫ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ২৩৬!  প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ইউপি সদস্য ধরা  কুয়েতে এমপি পাপুল ব্যাংক হিসাবে ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা জব্দ।  আড়াইহাজারে মন্দিরে অগ্নি সংযোগ ঘটনা  রূপগঞ্জে হত্যা পর লাশে সিমেন্টের প্রলেপ

আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৮ বছর।

শ্রমিকদের পদচারণায় কর্মমূখর ইপিজেড

 Mon, Jun 29, 2020 11:17 PM
আদমজী জুট মিল বন্ধের ১৮ বছর।

কবির হোসেন: : ৩০ জুন এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল আদমজী জুট মিল বন্ধের দেড় যুগ।

তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আদমজী জুট মিলটি ২০০২ সালের ৩০ জুন চিরতরে বন্ধ করে দেয়। রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত বন্ধ হওয়া আদমজী জুট মিল এলাকাটিকেই আদমজী রপ্তানী প্রক্রিয়া করণ এলাকা করা হয়েছে যা ২০০৬ সালের ৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আদমজী ইপিজেড এলাকাটি ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সহজেই আকৃষ্ট হয়। ফলে দ্রুতই আদমজী ইপিজেডে প্রায় র্ধশত কারখানা ছালু ও লক্ষাধীক শ্রমিক কর্মরত আছেন।

জানা যায়, প্রায় ২৯১ দশমিক ১২ একর জমির ওপর আদমজী ইপিজেড (এইপিজেড) স্থাপিত। এতে মোট প্লটের সংখ্যা ২২৯টি। ইতিমধ্যে ৭০টি দেশী-বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দেশী মালিকানাধীন ২৩টি, বিদেশী মালিকানাধীন ২৭টি এবং যৌথ মালিকানাধীন ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কারখানায় গার্মেন্ট, জিপার, কার্টন, হ্যাঙ্গার, লেভেল, ট্যাগ, জুতা, সোয়েটার, টেক্সটাইল, মুজা, জুয়েলারি, পলি ও ডায়িংসহ ইত্যাদি পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। যা শতভাগ রপ্তানিযোগ্য। আদমজী ইপিজেডে হংকং, কানাডা, জাপান, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, ইউইএ, আমেরিকা, থ্যাইল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, পর্তুগাল, চীন ও মরিশাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ বিনিয়োগ করেছে।  

পেছনের কথা : তৎকালীন পাকিস্তানের ২২ পরিবারের অন্যতম ধনাঢ্য আদমজী পরিবারের তিন ভাই ওয়াহেদ আদমজী ওরফে দাউদ আদমজী, জাকারিয়া আদমজী ও গুল মোহাম্মদ যৌথভাবে ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ২৯৪ দশমিক ৮৮ একর জমি নিয়ে আদমজী জুট মিল নির্মাণ করেন। ১৯৫১ সালের ১২ই ডিসেম্বর ১৭শ’ হেসিয়ান ও এক হাজার সেকিং লুম দিয়ে উৎপাদন শুরু হয়। তখন মিলে ৩ হাজার ৩০০টি তাঁতকল বসানো হয়। ওই সময় মিলের উৎপাদন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। আদমজীর চটের ব্যাগ ও বস্তার একটি অংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। ৪ নং মিলে তৈরি উন্নতমানের ব্রডলুম, জিও নামে পাটজাত পণ্য পুরোটাই বিদেশে রপ্তানি হতো। ৫নং মিলে (এবিসি) তৈরি হতো লেমিনেটেড পলি ব্যাগ। ৬নং মিলটি ছিল ওয়ার্কশপ। শুরুতে প্রায় ১০০ টন পাটজাত পণ্য উৎপাদন হলেও ধীরে ধীরে তা বেড়ে আড়াই শ’ টনে উন্নীত হয়। ওই সময় মিলটিতে ২৪ হাজার ৯১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করতেন।

মিল কম্পাউন্ডের মধ্যে ছিল আদমজী হাইস্কুল, আদমজী গার্লস হাইস্কুল, আদমজী শ্রমিক কল্যাণ হাইস্কুল এবং আদমজী ইসলামীয়া সিনিয়র মাদরাসা। এ ছাড়াও খাজা মইনুদ্দিন হাফেজি মাদরাসা, হিলফুল ফজুল কওমি মাদরাসা, আশ্রাফুল উলুম নূরানী মক্তব, মুক্তিযোদ্ধা প্রাইমারি স্কুল এবং পথকলি শিশু কল্যাণ প্রাইমারি স্কুল ছিল। এর মধ্যে চালু রয়েছে শুধু পথকলি শিশু কল্যাণ প্রাইমারি স্কুলটি। আর ভবন হিসেবে টিকে আছে আদমজী হাইস্কুল ভবনটি। এ ছাড়া পুরানো আর কোন প্রতিষ্ঠানেরই অস্তিত্ব নেই।

৭০ দশকে ২নং ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন হাজী আলেক চান। গতকাল কদমতলী দক্ষিণ পাড়ায় তাঁর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ১৯৭২ সালের ৪ঠা এপ্রিল মিলে ওয়ার্কশপ শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। তার সমসাময়িক জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা রেহান উদ্দিন রেহান ও রিয়াজ উদ্দিন রেনু। তিনি জানান, ৯০দশকে শ্রমিক নেতৃত্ব নিয়ে অব্যাহত শ্রমিক অন্তোষ ও এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের দূনীতির কারনে মিলটি লোকসান দিতে থাকে। মিলের অনেক শ্রমিক এখনও  বেকার অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মাঝে দিন কাটাচ্ছে। কোন কাজ না পেয়ে আমি এখন বাবুর্চির পেশা নিয়ে বেচেঁ আছি।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন