সদ্য সংবাদ

  ডিএমপির মিরপুর বিভাগে ১২ পুলিশ কর্মকর্তা বদলি   এমপির মামা শ্বশুর ‘জালাল মামা’তেই বিলীন সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগ   স্কটিশ সুন্দরীর ‘টোপ’, সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ী  পাবনার আমিনপুর থানার সেই বিতর্কিত ওসিকে অব্যাহতি, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ  বকসিস না দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ার অভিযোগ, শিশুর মৃত্যু  নারায়ণগঞ্জ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা  ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই: ডা. জাফরুল্লাহ  গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী আর নেই  হাসপাতালে ‘অভিযান’ চালানোর বিপক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ইসরাইলে নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে বড় বিক্ষোভ  আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি নাকচ লেবানন প্রেসিডেন্টের  ওসি প্রদীপের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন চান্দিনার ওসি আবুল ফয়সল   সিফাতের মুক্তির দাবিতে ডাকা মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০   ওসি প্রদীপ: ৩০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে ক্রসফায়ার  করোনাকালে ও তেঁতুলিয়ার মহানন্দায় পাথর শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য  আড়াইহাজারে অটো চালকের লাশ উদ্ধার  মায়ের কারণেই বাবা দেশের জন্য কাজের সুযোগ পেয়েছেন : শেখ হাসিনা   কীভাবে পুলিশ সদস্যরা বিপথে যায়? গোয়েন্দা সংস্থাও ঘুষের টাকা পায়?   করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে সানাই   ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৭ পুলিশ চাকরি থেকে বরখাস্ত

আরব আমিরাতে নারী পাচারকারী ড্যান্সবারের মালিক কে এই আজম খান

নারী পাচারে আরব আমিরাতে বিশাল সাম্রাজ্য ড্যান্সবার আর বালাখানা গড়ে তোলে

 Tue, Jul 14, 2020 12:38 AM
 আরব আমিরাতে নারী পাচারকারী ড্যান্সবারের মালিক কে এই আজম খান

এশিয়া খবর ডেস্ক:: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে

 নারী ও মানব পাচার চক্রের হোতা আজম খানের। কয়েক বছর আগেও ‘নুন আনতে পানতা ফুরাত’ যে পরিবারের, তারা এখন এলাকার বড় ধনী, বড় দানবীর। থাকেন বিলাসবহুল বাড়িতে। চড়েন দামি গাড়িতে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে হয়েছে তাদের অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক উত্থান। যে উত্থানকাহিনি শুনে ‘চক্ষু চড়কগাছ’ হবে যে কারও।

জানা যায়, মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আজম খানের অর্থনৈতিক অবস্থা এক সময় খুব খারাপ থাকলেও, আমিরাতের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে কয়েক বছর আগে। এখন তাকে সবাই আজম খান নামে চিনলেও তিনি খান বংশের কেউ নন। বিদেশে মানব পাচার শুরু করার পর নিজেই নামের শেষে খান উপাধী যুক্ত করেন। গ্রেফতার হওয়া আজমের অন্তত তিনটি নামের হদিস পাওয়া গেছে। এলাকার লোকে তাকে আজম ছাড়াও মোজাহের ওরফে আজিম উদ্দিন ওরফে ডন আজিম নামে চেনে। তার পিতার নাম মাহবুল আলম ও মায়ের নাম সবিল খাতুন। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি পৌরসভার খেরু মুহুরীর বাড়িতে। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া আজম খান লেখাপড়ায় প্রাইমারির গি  পেরোতে পারেননি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার রাজনীতির হাতেখড়ি হয় ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। ফটিকছড়িতে যখন শিবিরের রাজত্ব চলত, তখন ওই এলাকার দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকে তার হাতে খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১০ সালের শুরুর দিকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানের মুখে এলাকাছাড়া হন আজম। পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচের দেশ আবর আমিরাতে। সেখানে থাকা জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেমে পড়েন নারী পাচারে। অল্প সময়ের মধ্যেই কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক বনে যান হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান আজম। নামের সঙ্গে যুক্ত করেন খান উপাধী। মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেন হাতে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। যে পরিবারে এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত, তারাই এলাকায় বনে যান দানবীর। পৌরসভার খেরু মুহুরীর বাড়িতে তৈরি করেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন। চলাচলে ব্যবহার করেন দামি গাড়ি।
আমিরাতে আজম খানের সাম্রাজ্য : দেশ থেকে আমিরাতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয় নেন আজম খান। এরপর দেরা দুবাইয়ের একটি ডান্সবারে চাকরি করেন কিছু দিন। একপর্যায়ে আমিরাতের এক প্রভাবশালী নেতার সহায়তায় শুরু করেন নারী পাচার। পরে তার সঙ্গে যুক্ত হয় ইউসুফ, ডন রাশেদ, কায়েদ ওরফে ইকবাল এবং শিবলী নামে চার বাংলাদেশি প্রবাসী। তাদের সিন্ডিকেট সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেরা দুবাই, ফজিরা এবং রাস আল খাইমায় গড়ে তোলেন কমপক্ষে ১০টি ডান্সবার ও হোটেল। যদিও সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে আজম খান ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স বার, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড এবং হোটেল সিটি টাওয়ারের সন্ধান দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমিরাতের একাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটি নেতা বলেন, আজম খান জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হলেও বর্তমানে তার ওঠাবসা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে। মানব পাচারের এই সিন্ডিকেট ভালো বেতনের টোপ দিয়ে বাংলাদেশি নারীদের আমিরাতে নিয়ে আসে। এর পর তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট কেড়ে নিয়ে বাধ্য করা হয় ডান্সবারে চাকরি করতে। আবার অনেক নারীকে আমিরাতে আনার পর ১৫ থেকে ২০ হাজার দেরহামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিক্রি হওয়া এসব নারীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। 


 দুই সঙ্গীসহ গ্রেফতার



দুবাই ড্যান্স ক্লাবে নারী পাচার চক্রের গডফাদার আজম খানকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজমের দুই সহযোগী হলেন- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড এবং ময়না। সিআইডি বলছে, আজম দীর্ঘ ৮ বছর ধরে দুবাইতে কম বয়সী নারীদের পাচার করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুবাইতে উচ্চ বেতনে কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাবে নারী পাচার করে আসছে। ওই অভিযোগ তদন্তে নেমে গডফাদার আজম খান ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
দুবাইতে ড্যান্স ক্লাবে, হোটেলে উচ্চ বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দেশ থেকে কমবয়সী নারীদের দুবাই পাচার করতেন আজম। আজমের সহযোগীরা তরুণীদের ড্যান্স প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখাতেন। এজন্য তাদের অগ্রিম ১ মাসের বেতন বলে ২০, ৩০ অথবা ৫০ হাজার টাকাও দিতেন তারা। দুবাইতে ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ারের মালিকদের একজন আজম। এসব ক্লাব ও হোটেলে কাজের নামে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কম বয়সী সুন্দরী তরুণীদের আনা হতো। এরপর তাদের নানা অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন আজম ও তার সহযোগীরা। ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, গডফাদার আজম গত ৮ বছর ধরে সহস্রাধিক বাংলাদেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছেন। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য দেশে তার অর্ধশতাধিক সহযোগী দালাল রয়েছে। নারী পাচারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি আছে এবং একটি বিশেষ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তিনি নারী পাচার করতেন। নারীরা তাদের কথামতো কাজ করতে রাজি না হলে মারধর করা হতো। নারীদের নির্যাতনের অনেক ভয়েস রেকর্ড আমরা আজমের মোবাইল থেকে পেয়েছি।


এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই সরকার আমাদের অ্যাম্বাসিকে জানালে চক্রের গডফাদার আজমের পাসপোর্ট জব্দ করে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, নারী পাচারের অভিযোগে দুবাই পুলিশ আজমকে গ্রেফতার করেছিল। এক মাস তিনি জেলে ছিলেন। সেখানে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এরপর তাকে দুবাই থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে আসার পর আজম আত্মগোপনে যান। বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। নতুন পাসপোর্ট করে তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই দুই সহযোগীসহ তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আজম স্বীকার করেছেন, গত ৮ বছরে তিনি সহস্রাধিক বাংলাদেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছেন। আজমের বিরুদ্ধে দেশে ১৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি হত্যা মামলা। সিআইডি বাদী হয়ে গত ২ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানায় আরও একটি মামলা করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন