সদ্য সংবাদ

  বিকৃত অপু ও মামুনকে নিষিদ্ধ করল ‘লাইকি’  কারাগার থেকে সন্তানকে মুক্ত করতে ৩৫ ফুট টানেল খুঁড়লেন মা   ভারতের অমিত শাহকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগ   সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা  আল-জাজিরার অফিসে মালয়েশিয়ান পুলিশের তল্লাশি   গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল চালু করতে চায় সরকার : খন্দকার মোশাররফ   মেজর সিনহার মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে নোটিশ  পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা  মেজর সিনহার মাকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন   সাঘাটায় বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাদ্য বিতরণ  টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ  ভারতে মাস্ক না পরায় ছাগলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মুক্তি চাইলেন রাহুল গান্ধী  দেশে ৫৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি, মৃত্যু ৪৩ জনের   চিকিৎসকের অবহেলায় ক্রিকেট কোচ তিন্নির মৃত্যু  বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের জনগণ সব সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে : প্রধানমন্ত্রী   সিদ্ধিরগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: আটক ৩  চামড়া: ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে দুস্থরা ও এতিমখানাগুলো   সেই ইন্সপেক্টর লিয়াকতসহ ২০ পুলিশ ক্লোজড  অনুমোদন পাওয়া অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা সংশোধন

টেলিমেডিসিন সেবার নামে শিক্ষিকা রত্নার প্রতারণা

সারাদেশে সক্রিয় প্রতারক সিন্ডিকেট

 Thu, Jul 23, 2020 11:17 PM
টেলিমেডিসিন সেবার নামে শিক্ষিকা রত্নার প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার:: বেসরকারী পর্যায়ে ‘টেলিমেডিসিন’ সেবার নামে সারাদেশে ভয়াবহ প্রতারণায় মেতে ওঠেছে সুযোগ সন্ধানী চক্র।

বিশেষ করে, বর্তমান করোনা ভাইরাস সঙ্কটকালে সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতারকচক্র টেলিমেডিসিন সেবা প্রদানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। টেলিফোনে সকল রোগের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ভিজিট নিচ্ছে তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রায় ৩০টির মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যারা বিভিন্ন কৌশলে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে সারাবছর চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সদস্য সংগ্রহ করছে। এজন্য বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে শাখা অফিস খুলে জনবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদে।


‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (এইচএইচএইচ) প্রোগ্রাম (টেলিমেডিসিন প্রকল্প) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিনজনের একটি চক্র প্রতারণার জাল বিস্তার করে ইতোমধ্যেই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলাধীন দড়িকান্দি গ্রামের মধ্য দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রত্না আক্তারের নেতৃত্বে তার স্বামী মোঃ মহিউদ্দিন ও আত্মীয় আব্দুল মান্নান- এ তিনজনের প্রতারক চক্রটি ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর নাম ব্যবহার করে একটি প্রকল্প অফিস চালু করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করে ও টেলিমেডিসিন স্বাস্ব্যসেবা প্রদানের নামে পাঁচ সহস্রাধিক সদস্য সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে এবং মোটা বেতনের চাকরিতে লোক নিয়োগ করে জামানতের নামে আরো প্রায় কোটি হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তরা পাঁচ মাস চাকরি করে পাঁচ হাজারের অধিক সদস্য সংগ্রহ করলেও তাদেরকে কোন বেতন/ভাতা দেয়া হয়নি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মোঃ মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী মধ্য দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রত্না আক্তার ‘সেতুবন্ধন বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামক একটি ‘এনজিও’ এর মালিক। সরকারী চাকরির পাশাপাশি এনজিও’র নামে প্রতারণা ব্যবসায় জড়িত রত্না। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা মুখরোচক গল্প এলাকার মানুষের মুখে শোনা যায়। মোঃ মহিউদ্দিন ‘মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভ’ পরিচয়ের আড়ালে ইয়াবা সরবরাহের কাজে লিপ্ত বলে জানা যায়। আব্দুল মান্নান কখনো আইসিডিডিআর,বি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনোবা ট্রিপল এইচ-এর টেলিমেডিসিন প্রোগ্রামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ‘প্রকল্প পরিচালক’ বলে নিজেকে জাহির করে। রত্না, মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান গং তাদের প্রতারণা হাসিল করার উদ্দেশ্যে হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রামের টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তিপত্র ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে।


উক্ত চুক্তিপত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ হলো- হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম (টেলিমেডিসিন প্রকল্প) এবং দ্বিতীয় পক্ষ হলো- সেতুবন্ধন বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রত্না আক্তার এবং প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মান্নান। চুক্তিতে বলা হয়, ২য় পক্ষ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শাখা অফিস স্থাপন করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করবে এবং ১ম পক্ষ নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন/ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করবে; যেখানে একজন উপজেলা কো-অর্ডিনেটরের বেতন ধরা হয় প্রতিমাসে ৭৫,০০০/ (পঁচাত্তর হাজার) টাকা, ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেটরের ৩০,০০০/ (ত্রিশ হাজার) টাকা, হেল্থ ওয়ার্কারের ২০,০০০/ (বিশ হাজার) টাকা ও কম্পিউটার অপারেটরের ২০,০০০/ (বিশ হাজার) টাকা। চুক্তিপত্রে তিন মাসের মধ্যে ২য় পক্ষকে প্রতি ইউনিয়ন থেকে কমপক্ষে ২,০০০ (দুই হাজার) সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে প্রথম পক্ষ যেকোন সময় চুক্তি বাতিল করতে পারবে মর্মে শর্ত দেয়া হয়। এসব শর্তের ভিত্তিতে রত্নার নেতৃত্বে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রামের টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর কার্যক্রম শুরু হয়। রত্না আক্তার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে (আনুষ্ঠানিকভাবে) উপজেলা কো-অর্ডিনেটর পদে মোঃ মাহমুদুল হাসান টিপুসহ  ৫ জনকে, ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেটর পদে ৪০ জনকে, হেল্থ ওয়ার্কার পদে ৭৭ জনকে এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে ১ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

শর্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেও অদ্যাবধি তাদেরকে কোন প্রকার বেতন/ভাতা দেয়া হয়নি। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুল মান্নান বেতন/ভাতা বাবদ ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিঃ’ এর ৫২,৭৩,৫০০ (বায়ান্ন লক্ষ তিয়াত্তর হাজার পাঁচশ) টাকার একটি চেক মোঃ মাহমুদুল হাসান টিপুকে প্রদান করলেও একাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকায় চেকটি ‘ডিজঅনার’ হয় (ক্যাশ করা সম্ভব হয়নি)। এ বিষয়ে মোঃ মাহমুদুল হাসান টিপু, পিতা- মোঃ আবদুল কাদির, গ্রাম- জগতপুর, থানা- বুড়িচং, জেলা- কুমিল্লা বাদী হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন (জিডি নং- ৫৫১, তারিখ- ১২/০৭/২০২০ ইং)। অভিযুক্তরা হলেন- ১। মোঃ মহিউদ্দিন (৪৫), পিতা- তিতু মিয়া ২। রত্না আক্তার (৩৫), স্বামী- মোঃ মহিউদ্দিন; সর্ব সাং- দড়িকান্দি (ইমাম নগর), থানা- বাঞ্ছারামপুর, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩। আব্দুল মান্নান ওরফে মনির (৪৯), পিতা- মৃত হাজী দেলোয়ার হোসেন ৪। শারমিন আক্তার বেনু (৪০), স্বামী-আব্দুল মান্নান, সাং-খাগতোয়া, থানা-নবীনগর, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অভিযোগে মোঃ মাহমুদুল হাসান টিপু উল্লেখ করেন যে, উল্লেখিত চারজন ‘সেতুবন্ধন সমবায় সমিতি’র মালিক। অভিযুক্তরা ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম, টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর সাথে একটি প্রকল্পের চুক্তিপত্র দেখিয়ে ১২৩ (একশ তেইশ) জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদান করে এবং বাঞ্ছারামপুরে একটি টাচ পয়েন্ট (মিনি হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে ২২,০০,০০০/ (বাইশ লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা কোন টাচ পয়েন্ট (মিনি হাসপাতাল) স্থাপন করে দেয়নি; এমনকি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এক টাকাও বেতন/ভাতা প্রদান করেনি। বাদীপক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন/ভাতা বাবদ ৯৯,৬০,০০০/ (নিরানব্বই লক্ষ ষাট হাজার) টাকা বিবাদীগণের নিকট পাওনা আছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, বাদীপক্ষ পাওনা টাকার জন্য রত্না, মহিউদ্দিন ও আব্দুল মান্নানের বাড়িতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয় এবং স্থানীয় মাস্তানদের (মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে) তাদের পিছনে লেলিয়ে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায়ও একটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে (জিডি নং- ৬০৩, তারিখ- ১৪/০৬/২০২০ ইং)।

এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয় ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম, টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ রেজাউল করিমের সাথে। তিনি বলেন, “আব্দুল মান্নানচক্র যে চুক্তিপত্রটি দেখিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তাদের সাথে আমার কোন চুক্তিপত্র হয়নি। তবে তারা আমার অনুমতি নিয়েই বাঞ্ছারামপুরে ‘সেতুবন্ধন সমবায় সমিতি’র উদ্যোগে ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম, টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর শাখা অফিস চালু করেছে।” তিনি নিজে শাখা অফিসটি পরিদর্শন করেছেন এবং নিয়মিত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন/ভাতা ও সেতুবন্ধন সমবায় সমিতির কমিশন সেখানকার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুল মান্নানের হাতে পরিশোধ করেছেন বলে জানান মোঃ রেজাউল করিম। তিনি আরো বলেন, “বাঞ্ছারামপুরে সেতুবন্ধন সমবায় সমিতির উদ্যোগে হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম, টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর অধীনে একটি মডেল টাচ সেন্টার (মিনি হাসপাতাল) করার কথা থাকলেও আব্দুল মান্নান এখন পর্যন্ত তা করতে পারেনি।” বাঞ্ছারামপুরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন/ভাতা না দেয়ার প্রসঙ্গে মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “আমিতো সবার বেতন দিয়ে দিয়েছি। প্রকল্প পরিচালক তা আত্মসাত করে ফেললে, আমি কী করবো?” আপনি প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেবেন কিনা- এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম।

সরেজমিন অনুসন্ধানকালে করোনাকালীন ‘কোভিড-১৯’ সেবা প্রদানকারী সরকারী ওয়েবসাইটে (করোনা.গভ.বিডি/টেলিমেডিসিন) সরকারী/বেসরকারী পর্যায়ে প্রায় ৩০টির মতো টেলিমেডিসিন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ১. প্রবাসী হেল্পলাইন ২. এইচএইচএইচ টেলিমেডিসিন (হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন - ট্রিপল এইচ) ৩. ডিজিটাল হেল্থকেয়ার ফাউন্ডেশন ৪. স্বাস্থ্য বাতায়ন, এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫. মিলভিক বাংলাদেশ লিমিটেড ৬. অলঅয়েল ডিজিটাল হাসপাতাল ৭. ২৪/৭ অনলাইন সার্ভিস ফর করোনা ইমার্জেন্সী ৮. জীয়ন ৯. বেস্ট এইড ১০. ‘টনিক’ ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশানস ১১. থাইরোকেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ১২. পাল্স হেল্থকেয়ার সার্ভিসেস ১৩. প্রাভা হেল্থ ১৪. মায়া ১৫. মাম্স ইন্সটিটিউট অফ ফিস্টুলা এন্ড ওমেন্স হেল্থ ১৬. সিমেড ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ১৭. ডাক্তার দেখাও ১৮. ডাক্তারভাই হেল্থকেয়ার ইনফর্মেশন সিস্টেম লিমিটেড ১৯. ডক্টরোলা ২০. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিমেডিসিন কার্যক্রম ২১. ডিজিটাল হেল্থকেয়ার সলিউশনস, গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ২২. মনের বন্ধু ২৩. কিক এন কেয়ার ২৪. যত্ন। স্কয়ার হেল্থ লিমিটেড ২৫. মেডিসিন কাব ২৬. আস্ক ডক্টর - স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা ২৭. টেলিমেডিসিন.কম.বিডি ২৮. মেডিকো ফর পেসেন্ট - ডাক্তার বাড়ি ( হেল্থ এন্ড ফিটনেস) ইত্যাদি। এছাড়াও আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে থাকে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদানের জন্য অনুমতি পেয়েছে। 

আলোচিত ‘হিউম্যান হেল্থ হেল্পলাইন’ (ট্রিপল এইচ) প্রোগ্রাম, টেলিমেডিসিন প্রকল্প-এর প্রাপ্ত ‘অনুমতি পত্র’ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) ও লাইন ডিরেক্টর, এইচআইএস এন্ড ই-হেল্থ ডাঃ আশিস কুমার সেন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-স্বাঃ অধিঃ/এমআইএস/২০১৮/৯১০) এক পত্রে টেলিমেডিসিন সিস্টেমের মাধ্যমে ৫টি শর্তে জনগণকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। শর্তগুলো হচ্ছে- ১. এমআইএস থেকে প্রদত্ত টেলি স্বাস্থ্য-সেবা সংক্রান্ত নীতিমালা (টেলিমেডিসিন ও মেডিকেল কল সেন্টার) অনুসরণ করতে হবে ২. চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসির রেজিসেস্ট্রশনপ্রাপ্ত হতে হবে ৩. অপরপ্রান্তে রোগীকে সহায়তাকারী অপারেটরকে উপজেলা/জেলা পর্যায়ের সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক কর্তৃক পরীক্ষান্তে দক্ষ বলে স্বীকৃত হতে হবে ৪. টেলিমেডিসিন সেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মানসম্পন্ন হতে হবে, যাতে ভুল ডায়াগনসিসের সম্ভাবনা না থাকে ৫. প্রতি তিন মাস অন্তর টেলিমেডিসিন সেবার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বাস্তবে কোন প্রতিষ্ঠানকেই নীতিমালা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। সবাই জনগণের পকেট কেটে কোটিপতি হবার ধান্ধায় লিপ্ত।

‘সেতুবন্ধন বহুমুখী সমবায় সমিতি’র প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মধ্য দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রত্না আক্তার জানান, তিনি এসবের সাথে জড়িত নন। সবই মান্নান ও মহিউদ্দিনের কারসাজি (অপকর্ম)। আবদুল মান্নানের মোবাইলে কল করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। মহিউদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন