সদ্য সংবাদ

 নারায়ণগঞ্জে ত্রিমুখী ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা-জেলা প্রশাসক   যা বললেন মেলানিয়া   শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি সংসদে   প্রেমিকের দেয়া ফ্ল্যাটে থাকছেন পপির, বিয়ের গুঞ্জন   শেষে হোয়াইট হাউস ছাড়লেন ট্রাম্প  “বঙ্গবন্ধু হিমালয় ওয়াচ টাওয়ার এন্ড কমপ্লেক্স” স্থাপনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন  রাহুল স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  হরিণাকুন্ডু সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত  ঝিনাইদহে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ২৩ লাখ টাকা জরিমানা  নবীনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চাচা ভাতিজার মৃত্যু  তাহিরপুরে কিশোরকে হত্যাচেষ্টা  কালিয়াকৈরে গৃহহীন বিধবার জন্য দুইটি ঘর নির্মাণ করে দিলেন পল্লীবিদ্যুৎ  দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করল মিয়ানমার  মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক ও সেতুর নামকরণ করা হবে   ঘুষ কেলেঙ্কারিতে স্যামসাং প্রধানের কারাদণ্ড  জমি দখল-জালিয়াতি প্রতিকারে নতুন আইন হচ্ছে   নারায়ণগঞ্জে হিরাঝিল, রাজধানী হোটেলসহ ৫ প্রতিষ্ঠানে অভিযান  বাইডেনের শপথ ঘিরে মুসলিমদের সতর্ক থাকার পরামর্শ  কাদের মির্জাকে পাবনা পাঠাতে বললেন নিক্সন চৌধুরী   ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হোক: টিআইবি

 Sun, Jul 26, 2020 10:38 PM
 ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হোক: টিআইবি

এশিয়া খবর ডেস্ক:: রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতার জন্য দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসাসহ

 দায়িত্বপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠান সমানভাবে ব্যর্থ বলে দাবি করেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলছে, এই অব্যবস্থাপনার জন্য একে অন্যের কাঁধে দায় না চাপিয়ে সংকট সমাধানে এককভাবে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

রবিবার টিআইবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।  এতে বলা হয়, ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকায় সমন্বয়হীনতা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইন অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে প্রধান ড্রেন লাইনগুলো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। শাখা লাইনগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত। ঢাকা শহরের মোট ড্রেনেজ লাইনের মধ্যে ৩৮৫ কিলোমিটার ঢাকা ওয়াসার অধীনে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে। এর বাইরে ৭৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২৬টি খাল ও ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ঢাকা ওয়াসার।

আইনের এই মারপ্যাঁচে বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বর্ষা এলে জনগণের ভোগান্তি বছর বছর আরও তীব্র হয়। তাই অবিলম্বে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে একক প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্পূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন খাল ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে নাগরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুই সিটি করপোরেশনকেই এই দায়িত্ব প্রদান করা উচিত।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসার একটি প্রতিবেদনে তাদের আওতাধীন ২৬টি খালের মধ্যে ২০টির প্রবাহ পূর্ণ সচল দাবি করা হয়। এর মধ্যে কাটাসুর খালকেও সচল উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু টিআইবির গবেষণায় দেখা যায়, উল্লিখিত খালের প্রবাহ সচল নেই। বিভিন্ন কঠিন বা ভারী বর্জ্য ড্রেনের উপরিভাগ এবং খালের মুখে জমে রয়েছে যা চিত্রসহ গবেষণা প্রতিবেদনে তুলেও ধরা হয়। এছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যেও দেখা যায় সর্বশেষ (২০১৯-২০) অর্থবছরে ঢাকা ওয়াসার ২৬টি খালের মধ্যে অন্তত ১০টিতে কার্যত পুনঃখনন ও পরিষ্কারের কাজ করা হয়নি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ওয়াসার আওতাধীন খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত তদারকির ঘাটতিও লক্ষণীয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে কমপক্ষে দুবার খাল ও ড্রেন পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না। ফলে দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে খাল ভরাট হয়ে থাকে। তাই ওয়াসার ব্যর্থতা অস্বীকারের কোন সুযোগই নেই। আবার ওয়াসার ওপর এককভাবে সব দোষ চাপিয়ে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতার দায় সিটি করপোরেশনও কোনভাবেই এড়াতে পারে না।

টিআইবির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ওয়াসা তার দায়িত্বে থাকা খাল ও ড্রেনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে একথা যেমন সত্য তেমনি এই খাল ও ড্রেনগুলোতে পতিত কঠিন বর্জ্য অপসারণের পর সেগুলো পাড় থেকে অপসারণ না করে ওয়াসার ওপর দায় চাপানোর নজিরও সিটি করপোরেশনের আছে।

আবার সিটি করপোরেশনের অধীনে যে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ড্রেন আছে সেগুলোও কতটা বর্জ্যমুক্ত বা সচল সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও কার্যকর কোন পদ্ধতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা, ড্রেনগুলোর সংস্কার কাজে অযথা সময়ক্ষেপণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্ন না করা, নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যর্থতা ইত্যাদি বিষয়ে সিটি করপোরেশনের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী ড্রেনেজ সম্পর্কিত যে কোনো সংস্কারের ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সাথে সমন্বয়ের কথা থাকলেও সিটি করপোরেশন ড্রেন কিংবা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণের ক্ষেত্রে বাস্তবে তা অনুসরণ করে না। আবার সিটি করপোরেশন কর্তৃক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ওয়াসার কোনো ড্রেনের ক্ষতি হলেও সে বিষয়ে ওয়াসাকে অবগত করে না। এর ফলে কোন প্রতিষ্ঠানেরই কাজের পূর্ণ সুফল জনগণ ভোগ করতে পারে না।

ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের মে মাসে ‘ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অপারেশনাল/অ্যাকশন কমিটি’ শীর্ষক একটি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির অন্যতম কাজ নির্ধারণ করা হয় জলাবদ্ধতা নিরসনে বিদ্যমান খাল- ড্রেন অবৈধ দখলমুক্ত, পরিষ্কার, খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই এই সমন্বয়হীনতার জাল ছিন্ন করতেই সংশ্লিষ্টক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কিত করে প্রণীত সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের সার্বিক দায়িত্ব একক প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্ত করতে হবে বলে মনে করছে টিআইবি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন