সদ্য সংবাদ

  করোনায় পুলিশের ‘বীরত্বগাঁথা’ নিয়ে বই  মিয়ানমার থেকে এলো ২০ টন পেঁয়াজ  আড়াইহাজারে গাঁজার চাষ, দুই সহোদর আটক  এই সরকারকে সরাতে হবে: মির্জা ফখরুল   ইউএনও ওয়াহিদাকে ওএসডি, স্বামীকে বদলি   মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে  বিশ্বে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ আসছে, ক্ষুধায় মরবে ৩ কোটি মানুষ!  আল্লামা শফীর জানাজায় জনতার ঢল, লাখো মানুষের চোখে পানি  মসজিদ বিস্ফোরণে ঘটনায় তিতাসের ৮ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।  ইউএনও ওয়াহিদার বাসায় টাকা ছিল ৪০ লাখ, সেই মালি নেয় ৫০ হাজার   ‘তিশা প্লাস’ বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণ  'ঊর্মিলাকে পর্ন অভিনেত্রী' বললেন কঙ্গনা  যে যাই বলুক, আসলে মানুষ‌‌ পুলিশকে ভালোবাসে   আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করবেন, সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী  ট্রাম্পের নারী কেলেংকারি ফাঁস, মুখ খুললেন মডেল  দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ভারত : জাফরুল্লাহ  তিতাস-ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটি দায়ী: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন  তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে সীমাহীন র্দূভোগ:দেখার কেউ নেই   মসজিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারের মাঝে জেলা আ:লীগের আর্থিক সহায়তা প্রদান   ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

করোনাকালে ও তেঁতুলিয়ার মহানন্দায় পাথর শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য

 Sat, Aug 8, 2020 9:42 PM
করোনাকালে ও তেঁতুলিয়ার মহানন্দায় পাথর শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য

পঞ্চগড় থেকে কামরুল ইসলাম কামু॥: একশ্রেনীর পাথর খেকোদের কড়াল থাবায় ক্ষত বিক্ষত দেশের

সর্ব উত্তরের শেষ জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা। দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে ড্রিল ড্রেজার মেশিন বা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ফলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মূখে এ উপজেলাটি। তবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিগত কয়েক মাস ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ জেলার সব এলাকায় সমতল ভূমির মাটি খনন করে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে মহামারী করোনাকালেও নদী থেকে পাথর আহরণ করে এখনও সংসার নির্বাহ করছে হাজার হাজার পাথর শ্রমিক। যদিও করোনার কারণে প্রশাসনের নির্দেশে কয়েক মাসের জন্য এই নদী থেকে পাথর তোলা বন্ধ ছিল। কয়েক মাস বিরতির পর তেঁতুলিয়া উপজেলার ভারত সীমান্ত ঘেষা মহানন্দা নদী এখন পাথর শ্রমিকে ভরপুর। আগের শ্রমিকদের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সমতল ভূমি থেকে পাথর উত্তোলন করা শ্রমিকরাও। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে বিকেলে পর্যন্ত বয়া নিয়ে পাথর তোলার যন্ত্রপাতি নিয়ে পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও যেন উপভোগ করার মত।
তেঁতুলিয়া উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম দিক দিয়ে ভারত থেকে এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ৩২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পুরাতন তেঁতুলিয়া বাজারের দক্ষিণ দিক দিয়ে আবারো এই নদীটি প্রবেশ করেছে ভারতে। বাংলাদেশ-ভারত সীমানা নির্ধারণ করেছে এই নদী। নদীর মধ্যস্থল থেকে পূর্বে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমে ভারত। বর্ষায় ভারত থেকে আসা পানিতে দু’কুল ছাপিয়ে আবাদি জমি তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসূমের পরও প্রায় সারা বছরই খর¯্রােতা থাকত এই নদীটি। কিন্তু প্রতিবেশি ভারত এই নদীর পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় এখন এটি দেখতে সরু খালের মত। চারদিক শুধু ধু-ধু বালুচর। প্রতিবছর বর্ষা মৌসূমে খরস্রোতা এই নদীটি বয়ে আনে প্রচুর ছোট বড় পাথর। নদীর পানি কমে গেলেই পাথর শ্রমিকরা দল বেধে নেমে পড়ে পাথর তুলতে। আগে নদীতে পানি বেশী থাকায় বিশেষভাবে তৈরী ‘বয়া’ দিয়ে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করত। এখন পানি কমে যাওয়ায় দল বেধে নদীর বালি সরিয়ে গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পুরাতন বাজার পর্যন্ত সড়কপথে ১৮ কিলোমিটার হলেও নদীটি প্রায় ৩২ কিলোমিটার। নদী পাড়ের বাংলাবান্ধা, ঝাড়ুয়াপাড়া, জায়গীরজোত, সন্যাসীপাড়া, উকিলজোত, কাশিমগঞ্জ, দক্ষিন কাশিমগঞ্জ, জামাদার গছ, ভক্তিডাঙ্গী, খয়খাটপাড়া, দৌলতপাড়া, দরগাসিং, রনচন্ডি, ইসলামপুর, কালারাম জোত, বুড়িমুটকি, সর্দারপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার পাথর শ্রমিক মহানন্দা নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আর তাদের সাথে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে সমতল ভূমি থেকে পাথর তোলা শ্রমিকরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমতল ভূমির পাথর উত্তোলণ বন্ধ থাকায় তারাও জীবিকার তাগিদে এখন নেমে পড়েছে মহানন্দায়।
সিপাইপাড়া গ্রামের পাথর শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন জানান, মহানন্দা আমাদের প্রাণ, রুটি রুজির স্থান। বর্ষায় কয়েকদিন বাদে আমরা সারাবছর এই নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। এই নদীটি দুই দেশের সীমানা হওয়ায় অনেক সময় বিএসএফ’র তাড়াও খেতে হয়। তারপরও আমাদরে পেটের তাগিদেই র নদীতে নামতে হয়।
তীরনই হাট ইউপি’র ডেমগছ গ্রামের পাথর শ্রমিক ইব্রাহিম ও হাবিবুল্লাহ জানান, প্রতিদিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মহানন্দায় পাথর তুলে ৮শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করি। কম সময়ে বেশী পাথর পাওয়ায় অধিকাংশ শ্রমিক মহানন্দা থেকে পাথর উত্তোলন করে আসছে। সমতল ভূমিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সেখানকার শ্রমিকরাও মহানন্দায় পাথর উত্তোলনে নামছে। 
তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিক নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু জানান, তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদী এই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আশীর্বাদ। এই নদীর ওপর নির্ভর করে হাজারও পরিবার বেঁচে আছে। মহামারী করোনার কারণে প্রায় চারমাস বন্ধ থাকার পর মধ্য জুলাই থেকে শ্রমিকরা আবারও মহানন্দায় পাথর তুলছে। ড্রেজার ও সমতল ভূমি থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এখানকার পাথরই এখন নির্মাণ কাজের একমাত্র ভরসা।  বাংলাবান্ধাস্থলবন্দর যেতে দূশ্যমান মহানন্দা নদীটি। #

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন