সদ্য সংবাদ

  করোনায় পুলিশের ‘বীরত্বগাঁথা’ নিয়ে বই  মিয়ানমার থেকে এলো ২০ টন পেঁয়াজ  আড়াইহাজারে গাঁজার চাষ, দুই সহোদর আটক  এই সরকারকে সরাতে হবে: মির্জা ফখরুল   ইউএনও ওয়াহিদাকে ওএসডি, স্বামীকে বদলি   মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে  বিশ্বে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ আসছে, ক্ষুধায় মরবে ৩ কোটি মানুষ!  আল্লামা শফীর জানাজায় জনতার ঢল, লাখো মানুষের চোখে পানি  মসজিদ বিস্ফোরণে ঘটনায় তিতাসের ৮ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।  ইউএনও ওয়াহিদার বাসায় টাকা ছিল ৪০ লাখ, সেই মালি নেয় ৫০ হাজার   ‘তিশা প্লাস’ বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণ  'ঊর্মিলাকে পর্ন অভিনেত্রী' বললেন কঙ্গনা  যে যাই বলুক, আসলে মানুষ‌‌ পুলিশকে ভালোবাসে   আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করবেন, সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী  ট্রাম্পের নারী কেলেংকারি ফাঁস, মুখ খুললেন মডেল  দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ভারত : জাফরুল্লাহ  তিতাস-ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটি দায়ী: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন  তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে সীমাহীন র্দূভোগ:দেখার কেউ নেই   মসজিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারের মাঝে জেলা আ:লীগের আর্থিক সহায়তা প্রদান   ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

এমপির মামা শ্বশুর ‘জালাল মামা’তেই বিলীন সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগ

 Sun, Aug 9, 2020 10:17 PM
 এমপির মামা শ্বশুর ‘জালাল মামা’তেই বিলীন সিদ্ধিরগঞ্জ আ’লীগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: সিদ্ধিরগঞ্জে আবারও আলোচনায় সেই জালাল মামা। নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে

 সংঘর্ষ, মামলা এবং বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলর এলাকা ছাড়া হওয়ার ঘটনায় ঘুরে ফিরে সবার মুখে জালাল মামা। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়াস্থ জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরীর চেয়ারম্যান হাজী জালাল উদ্দিন। তবে সবার কাছে তিনি ‘জালাল মামা’ হিসেবে পরিচিত। তিনি রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িতও নন। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের সকল অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিত চোখে লাগার মতো। এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার দরজায় কড়া নাড়ে সব সময়। নেক নজর পেতে নিয়মিত তারা হাজিয়া দেন জালাল মামার ব্যক্তিগত অফিসে। দিয়ে আসেন অবৈধ আয়ের একটি অংশ মানে ‘নজরানা’। কেউ কোন মাসে ঠিক মত না দিলেই তার সমস্যা তৈরী হয়। শুধু আওয়ামলীগ নয়, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছেও তিনি পছন্দের জালাল মামা। কিন্তু কে এই রহস্যজনক চরিত্রের জালাল মামা? এই নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই। সবাই জানতে চায় কিভাবে তিনি জালাল উদ্দিন থেকে জালাল মামা হয়ে উঠলেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপির মামা শ্বশুর ও এক শিল্পপতির আপন ভগ্নিপতি হচ্ছেন জালাল উদ্দিন। সেই সুবাদে ওই এমপির অনুসারী নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন জালাল উদ্দিন থেকে জালাল মামা হিসেবে। সেটা ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর। ওই এমপির আত্মীয়তার সুবাধে জালাল মামার পোয়া বারো হয়ে উঠে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। রীতিমত ওই সময়ে প্রভাবশালী ‘মামা’ বনে যান তিনি সিদ্বিরগঞ্জ এলাকায়। যদিও তার আত্মীয় এমপি হওয়ার আগে জালাল উদ্দিন ‘জালাল মামা’ খেতাবটা তার শরীরে তেমন একটা লাগেনি। ৯০ দশকে আদমজীর সালেহা সুপার মার্কেট নির্মান করার মধ্য দিয়ে আদমজী সোনামিয়া বাজার এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন বেশি। আর শিমরাইল টেকপাড়া এলাকায় জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরীর সুবাদে ওই এলাকায় একজন ব্যবসায়ি হিসেবে তার পরিচিতি। কিন্তু তার আত্মীয় এমপি হওয়ার পর একধাপ এগিয়ে যান জালাল মামা। ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে অবৈধ আয়ের নেশা পেয়ে বসে তাকে। জায়গা-জমির সমস্যা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, স্থানীয় রাজনীতির সমস্যা, মহল্লা ভিত্তিক এলাকার নিয়ন্ত্রন নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সমস্যা, জবর-দখল সব কিছুতে নাক গলান জালাল মামা। ওই এমপির অনুসারী নেতারা তাকে খুশি রেখেই চলতে হয়। কারণ মামা যদি ঘোস্যা করেন তাহলে এমপির বিরাগভাজন হওয়ার ভয় থেকেই নেতাকর্মীরা জালাল মামাকে সমীহ করেন। তবে এমপির ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, আগের মতো এমপি সাহেব জালাল মামাকে গুরুত্ব দেন না। আবার ফেলতেও পারেন না। শত হলেও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়।
জালাল মামার যতগুন!
সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার তথ্যমতে, এমপির শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হওয়ার কারণে জালাল মামা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় আওয়ামীলীগের নেতাদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ সময় নুর হোসেনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন জালাল মামা। নুর হোসেনও জালাল মামাকে সমীহ করতেন এমপির মামা শ্বশুর হওয়ার কারণে। আলোচিত সাতখুনের পর নুর হোসেন ও তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার পর নুর হোসেনের এফ প্রিমিয়াম (ঢাকা মেট্রো-২৯-৮৮-৬২) নামে মাইক্রোবাসটি জালাল মামার গ্লাস ফ্যাক্টরীর ভেতর থেকে উদ্ধার করে আইনশৃংখলা বাহিনী। এলাকায় আলোচনা আছে, নুর হোসেনের পতনে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছেন জালাল মামা। রীতিমত স্বঘোষিত ‘ডন’ বনে যান তিনি। ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সহযোগি সংগঠনের সকল নেতারাই জালাল মামার দ্বারস্থ হতে হয়। সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটন-অঘটন সবই জালাল মামার নলেজে থাকতে হবে। কারণ সব কিছু থেকে তার হিস্যা (ভাগ) চাই। মজার বিষয় হলো, বিভিন্নভাবে নানা কৌশলে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে বুঝিয়ে দিতে চান তিনিই সিদ্ধিরগঞ্জে সব। এমপির পরেই তার অবস্থান। তিনি যা বলবেন তাই হবে। এতে করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও এমপির অনুসারী নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানকে তার নিয়ন্ত্রনে থাকতে বাধ্য করেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে সুবিধাও নেন। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসায়ি ও পরিবহন চাঁদাবাজ ভাগিনা দেলোয়ার ও নুর হোসনের ছোট ভাই বালু সন্ত্রাসী জজ মিয়াকে সরাসরি শেল্টার দিচ্ছেন জালাল মামা। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ভালো সুবিধা নিচ্ছেন মাসে মাসে। এছাড়াও কারাবন্দি ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নুর হোসেনের মেসেজে তার ভাই মিয়া মোহাম্মদ নুরুউদ্দিনকে বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে ভিড়িয়েছেন জালাল মামা। এছাড়া শিমরাইলের নাজমুলের কাছ থেকেও সুবিধা নেন। আবার বাড়তি সুবিধার নিতে নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলকে এমপির কাছে ভিড়িয়েছেন জালাল মামা। অথচ সিরাজ মন্ডল আগাগোড়া নাসিক মেয়র আইভীর লোক। এবং জীবনে কোনদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিল না সিরাজ মন্ডল। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুবিধা নেয়ার জন্যই সিরাজ মন্ডলকে শেল্টার দিচ্ছেন জালাল মামা।
এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বাইরেও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায়ও জালাল মামার নিয়ন্ত্রন রয়েছে। এনায়েত নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নিয়মিত জালাল মামার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। মোটকথা জালাল মামা তার আখের গুছাতে গিয়ে এমপির ইমেজ এর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। এমপির অবর্তমানে স্বঘোষিত ‘কর্তা’ বনে যান জালাল মামা। যদিও প্রকাশ্যে এমপির সামনে জালাল মামার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস করেন না। অথচ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ওই এমপি বিদেশে পাড়ি জমালে জালাল মামা বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে মিশে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এমপির অনুসারী নেতারা কোনঠাসা হলেও জালাল মামাকে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু সেই জালাল মামা ওই এমপির অবর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের ‘মড়ল’ বনে যান। মজার বিষয় হলো সিদ্ধিরগঞ্জে এমপির কোন অনুষ্ঠানে জালাল মামাকে খুব একটা দেখা না গেলেও এমপির সহধর্মীনির সকল প্রোগ্রামে জালার মামার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। তবে এমপির অনুসারী নেতাকর্মীরা সব কিছুতে জালাল মামার অযাচিত হস্তক্ষেপ ও সুবিধাভোগি কর্মকান্ড বন্ধে এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গোপনে তদন্ত করলে জালাল মামার অনেক কিছু জানা যাবে। যা প্রকাশ্যে অনেকেই জানে না। সিদ্ধিরগঞ্জে সব কিছুর সাথে জড়িয়ে আছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বালু ও পাথর ব্যবসা থেকে সুবিধা, পরিবহনের চাঁদাবাজির সুবিধাসহ অনেক কিছুর সাথে জালাল মামা। এবারের ঈদের নাসিকের ৫নং ওয়ার্ডে গরুর হাটেও মামার কতৃত্ব ছিল। হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পোস্টারে তার নাম ছিল। জালাল মামার এসব কর্মকান্ড নিয়ে এরআগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জালাল উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্য নয়। এগুলোর কোনটির সাথে তিনি জড়িত নন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন