সদ্য সংবাদ

 ইউএনও ওয়াহিদার বাসায় টাকা ছিল ৪০ লাখ, সেই মালি নেয় ৫০ হাজার   ‘তিশা প্লাস’ বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে তরুণীকে গণধর্ষণ  'ঊর্মিলাকে পর্ন অভিনেত্রী' বললেন কঙ্গনা  যে যাই বলুক, আসলে মানুষ‌‌ পুলিশকে ভালোবাসে   আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করবেন, সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী  ট্রাম্পের নারী কেলেংকারি ফাঁস, মুখ খুললেন মডেল  দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে ভারত : জাফরুল্লাহ  তিতাস-ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটি দায়ী: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন  তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে সীমাহীন র্দূভোগ:দেখার কেউ নেই   মসজিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিবারের মাঝে জেলা আ:লীগের আর্থিক সহায়তা প্রদান   ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি ছেলের যাবজ্জীবন কারাদন্ড   পঞ্চগড়ে চা পাতা চুরির অভিযোগ,  প্রজ্ঞাপন দিয়ে হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা  ঝিনাইদহে সন্তান নিখোঁজ: খুঁজছে বাবা-মা   ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার কক্সবাজারে বদলি, যোগদান করলেন মুনতাসিরুল ইসলাম  ইসরাইল-ফিলিস্তিন অশান্তি উসকে দিল ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’  পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: ক্ষতিপূরণের ২ লাখ টাকা জমা দিলেন এসআই জাহিদের পরিবার  আ: লীগের বরকত-রুবেলের দুটি প্রতিষ্ঠানের ২৫ কার্যাদেশ বাতিল   সেই শিশু ইয়ামিনকে জার্সি-ব্যাট দিলেন মুশফিক   জিম্মি করে ব্যাংক লুটের চেষ্টা, বোমাসহ যুবক আটক

র‌্যাব হেফাজতে পুলিশের তিন সাক্ষী, র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওসি নিয়েছে অপহরণ মামলা

সিনহা হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত- র‌্যাব

 Fri, Aug 14, 2020 10:18 PM
 র‌্যাব হেফাজতে পুলিশের তিন সাক্ষী, র‌্যাবের বিরুদ্ধে ওসি নিয়েছে অপহরণ মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার

 ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। কিন্তু সেই সাক্ষী তিন জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে মর্মে মামলা নথিভুক্ত করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ।

অথচ সেই সাক্ষীরা সিনহা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে কারান্তরীণ হয়। তাদের সাত দিন করে রিমান্ডও মঞ্জুর করেছে আদালত। এ ঘটনার পর র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সিনহা হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত।

তাদের মতে, ঘটনার দিন পুলিশের পক্ষ থেকে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেটিও অবৈধ ছিল। কারণ বিধান অনুযায়ী ইউনিফর্ম পরে অভিযান চালানোর কথা; কিন্তু তা করা হয়নি। পাশাপাশি মেজর (অব.) সিনহাকে পুলিশের চেকপোস্টে গুলি করা হয়েছে বলে এতদিন প্রচার করা হলেও সেটি সত্য ছিল না। তাকে যে চেকপোস্টে গুলি করা হয়েছে, সেটি ছিল আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)। অযাচিতভাবে পুলিশ সেখানে গিয়ে গুলি চালিয়েছে। এসব বিষয় উঠে আসছে দেখে হয়তো তদন্ত বিঘ্ন করতে সাক্ষীদের অপহরণ করা হয়েছে বলে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র‌্যাব মঙ্গলবার যে তিন আসামিকে (মো. আয়াছ, নুরুল আমিন ও নাজিমুদ্দিন) গ্রেফতার করেছে তাদের বাড়িতে গিয়ে আসামির স্বজনকে দিয়ে অপহরণের মামলা করতে বাধ্য করে টেকনাফ থানা পুলিশ। ঐ তিন জন ছিলেন পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী।

সিনহা হত্যার পর পুলিশের সাক্ষী নুরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডটি তিনি নিজের চোখে দেখেননি। ঘটনাটি তিনি শোনেনওনি। কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তাকে সাক্ষী বানিয়েছে পুলিশ। মো. আয়াছ বলেছিলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় সাক্ষী হইনি। আমি সেদিন চেকপোস্টেই যাইনি।’

সোমবার বিকালে এই দুই সাক্ষীসহ অপর সাক্ষী নাজিমুদ্দিনের বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন মঙ্গলবার সিনহা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর আগের দিন সোমবার মধ্যরাতে ঐ তিন জনের বাড়িতে গিয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিজাম উদ্দিন নাজুর স্ত্রী শাহেদা বেগম গণমাধ্যমে জানান, স্বামীকে নিয়ে যাওযার পরে টেকনাফ থানার একটি দল রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্থানীয় মেম্বার নিয়ে লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। তার স্বামীর অপহরণের কথা জানিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করেন শাহেদা বেগমকে। থানায় যেতে অনীহা প্রকাশ করলে চলে যান পুলিশ সদস্যরা। পরে রাত তিনটায় আবার এসে নোটিশের কথা উল্লেখ করে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে চলে যায়।

নুরুল আমিনের মা খালেদা বেগম জানান, তার ছেলেকে সাদা পোশাকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভোর রাতে পুলিশ এসে ওসির কথা বলে টেনে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে দুইটি সাদা কাগজে টিপ সই নেন পুলিশ।পুলিশ কর্মকর্তা বলেন তুর ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে যদি তুর ছেলেকে দেখতে চাস মামলা কর, না করলে তুর ছেলের লাশ দেখবি।

এরপর সাদা পোশাকে তিন স্বাক্ষীকে অপরহণ করা হয়েছে দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে মামলার এজহারে স্বাক্ষর করেন সদ্য যোগ দেওয়া টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সাল।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপহরণ মামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঐ তিন আসামি গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা যেতে না-যেতেই পুলিশ কেন অতি উত্সাহী হয়ে মামলা করল? এ ব্যাপারে জানতে টেকনাফের ওসির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিনহা হত্যার তদন্তের বিষয় ঘিরে র‌্যাব ও পুলিশের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে কি না, গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, র‌্যাব এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে করতে চায়। কাজেই এটি নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা রাশেদ খান।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন