সদ্য সংবাদ

 নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা তোফার ইয়াবা সেবন!   বাল্য বিবাহমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা জরুরি  আড়াইহাজারে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর  নবীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং উদ্বোধন   অচিরেই জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে   লাদাখ থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ভারতের ১০০ কিলোমিটার টানেল  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহবান প্রধানমন্ত্রীর  আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় হাসান বরখাস্ত   পত্রিকার ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’র মাধ্যমে ওসি পরিচয় প্রতারণা  এবার বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না, সবাই উঠবে পরবর্তী ক্লাসে   সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী গ্রেফতার   পঞ্চগড়ে তৃতীয় চায়ের বাজার স্থাপন করা হবে   রায়হান হত্যার বিচার চান প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী  দুবাই সৈকতে উষ্ণতা ছড়ালেন শাহরুখকন্যা  ইসলাম-মুসলমানদের আক্রমণ করা ম্যাঁক্রোর নীতি: এরদোগান  ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিচার শুরু   ‘বাংলাদেশ এখন পুলিশ স্টেট’  সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  'প্রতারক' লিটন শিকদার গ্রেপ্তার  ফতুল্লার ভূইঘরে রক্সি ফোম কারখানায় আগুনের ঘটনায় মামলা ॥ গ্রেফতার ১

দুর্বৃত্তদের ফসল কর্তন, নতুন আতঙ্ক ঝিনাইদহের চাষীরা

 Fri, Oct 16, 2020 11:53 PM
 দুর্বৃত্তদের ফসল কর্তন, নতুন আতঙ্ক ঝিনাইদহের চাষীরা

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ : গত ৪ মাসে প্রায় ২১ কৃষকের ফসল কেটে সাবাড়

 করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে কোনভাবেই প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না এই ফসল সন্ত্রাসদের। প্রতিদিনই যেন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ফসলের ক্ষতি করতে মাঠে নেমেছে এসব দল।

তবে প্রমাসন বলছে, ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, গোষ্টিগত বিরোধের জেরে এমনটি হয়ে থাকে। এসকল অপরাধীদের ফৌজদারী আইনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেষ্টা করছে পুলিশ। কালীগঞ্জ উপজেলায় ফসলের সঙ্গে শত্রুতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস ধরে শত্রুতা করে মানুষের অগোচরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে সাবাড় করছে। পুকুরে কখনও কীটনাশক দিয়ে আবার গ্যাস বড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছ নিধন করছে। কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করলেও সমাজের গুটি কয়েক দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ দ্বারা স্বপ্ন ভাঙছে তাদের। তারা বলছেন, শত্রুতার মাধ্যমে কৃষকের ভরা ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। এটা মনুষ্যত্বহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কালীগঞ্জে গত ২০ জুন বাবরা গ্রামের আলী বকসের ২ ছেলে কৃষক টিপু সুলতান ও শহিদুল ইসলামের দুই ভায়ের ১৫ কাঠা জমির কাঁদিওয়ালা কলাগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।

একই ভাবে ৩ জুলাই মল্লিকপুর গ্রামের মল্লিক মন্ডলের ছেলে সবজি চাষী মাজেদুল মন্ডলের বেথুলী মাঠের আড়াই বিঘা জমির ৩ শতাধিক ধরন্ত পেপে গাছ কেটে দেয়। এর ঠিক ৪ দিন পরে ৭ জুলাই পৌর এলাকার ফয়লা গ্রামের তাকের হোসেনের ছেলে আবু সাঈদের ১৫ শতক জমির ধরন্ত করলা ক্ষেত কেটে দেয়। ১৩ জুলাই বারোবাজারের ঘোপ গ্রামের মাহতাব মুন্সির ছেলে আবদুর রশিদের দেড় বিঘা জমির সিমগাছে কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেয়। ৯ আগস্ট তিল্লা গ্রামের সতীশ বিশ্বাসের ছেলে কৃষক বিকাশ বিশ্বাসের ১৫ শতক ধরন্ত করলা ক্ষেত কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৮ আগস্ট সাইটবাড়িয়া গ্রামের মাছচাষী ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম নান্নুর পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করে। একই তারিখে খামারাইল গ্রামে মাছচাষী মমরেজ আলীর ৮ বিঘার পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে মাছ নিধন করে দুর্বৃত্তরা। এর ৩ দিন পর ৩১ আগস্ট একই ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৪৮ শতক মুল্যবান দার্জিলিং লেবু ও থাই পেয়ারার কলম কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২৫ আগস্ট বলরামপুর গ্রামের মাছচাষী মমরেজ আলীর পুকুরে একই ভাবে বিষ দিয়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দেয়। ৬ সেপ্টেম্বর সাইটবাড়িয়া গ্রামের আনছার আলী মোল্যার ছেলে হতদরিদ্র কৃষক বাপ্পি মোল্যার ৯ শতক ধরন্ত বেগুন ক্ষেত কেটে দিয়ে সর্বশান্ত করে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৌর এলাকার খয়েরতলা গ্রামের রফি বিশ্বাসের পুকুরে গ্যাস বড়ি প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করে দুর্বৃত্তরা। ২১ সেপ্টেম্বর রাতে পৌর এলাকার চাপালী গ্রামে মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আতিয়ার রহমানের প্রায় ১ বিঘা জমির লাউ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ১০ অক্টোবর ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধের জের ধরে কালীগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামে লিংকন বিশ্বাসের শতাধিক ধরন্ত লাউগাছ কেটে সাবাড় করা হয়। একই তারিখে উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে বিশারত মন্ডলের ক্ষেতে ফুলকপির বীজতলার চারা কেটে কে বা কারা। ১১ অক্টোবর রাতে উপজেলার বড় শিমলা গ্রামে নূর ইসলামের ২৩ শতক জমির ধরন্ত লাউ গাছ কেটে দেওয়া হয়। ১৩ অক্টোবর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে বাপ্পি হোসেন নামে এক কৃষকের ১৪ কাঠা জমির পুইশাক কেটে ফসলের ক্ষতি করা হয়

১৪ অক্টোবর বিজয়পুর গ্রামে মকিদুল ইসলামের প্রায় ১ বিঘা জমির ধরন্ত কলাগাছ কেটে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে আলম হোসেন নামে এক কৃষকের ২৬ শতক জমির ধনস্ত লাউগাছ কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। মাছ চাষী সাইটবাড়িয়া গ্রামের কবিরুল ইসলাম নান্নু জানান, ধারদেনার মাধ্যমে মাছ চাষ করেছিলাম। পুকুরের মাছও বেশ বড় হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দিয়েছে। সকালে পুকুর থেকে মরা মাছ তোলার সময় গ্যাস বড়ি পেয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমি কারও শত্রু হতে পারি। অথবা আমার কোন অপরাধ থাকতে পারে কিন্তু পুকুরের মাছ গুলো কি অপরাধ করেছে?। তাছাড়াও একজনের ক্ষতি করে তাদেরই বা কি লাভ?। এখন কোন ভাবেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছিনা। নান্নু আরও জানান, রাতের আঁধারে কে বা কারা মাছ নিধন করেছে। আমি কাউকে দেখিনি ফলে শুধু থানায় একটি সাধারন ডাইয়েরী করেছি।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহাঃ মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, কৃষকের ভরা ক্ষেত কেটে দেয়ার মত ক্ষতি পুশিয়ে উঠার নয়। সম্প্রতি এমন ঘটনার কথা শুনছি। কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির এ মানুষ গুলোর বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থরা সন্দেহ করলেও তা অনুমান নির্ভর হওয়ায় কেউ অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। বিগত ৩/৪ মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলহানী ঘটলেও মাত্র ৩ জন থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন। তারাও বলতে পারছেন না কারা এমন জঘন্য কাজ করছে। ফলে এক ধরনের জটিলতা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও পুলিশ সামাজিক ও গোষ্টিগত বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে এটা হতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে। তবে এটা সামাজিক অস্থিরতা সৃস্টির জন্য কোন বিশেষ মহল করছে কিনা সেটাও উড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন