সদ্য সংবাদ

  অভিনেত্রী পায়েলের ওপর হামলা   বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক মির্জা ফখরুলের  নারায়ণগঞ্জ ডি‌বি পু‌লি‌শের সোর্স প‌রিচ‌য়ে বেপরোয়া সেই মোফাজ্জল ও মিশু চক্র   দেশে করোনায় ১৩ দিনে ৭৯২ জনের মৃত্যু   গুলিতে ৪ মুসলমানের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ মমতার  একাধিক বিয়ে নিয়ে নাক গলানোর অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে?   অবহেলার জবাব এই স্বর্ণ: মাবিয়া   একদিনে রেকর্ড ৭৬২৬ শনাক্ত, মৃত্যু ৬৩   হেফাজতের তাণ্ডবে ৩ মামলা, মামুনুল হকসহ আসামি ৫৫০   রুহানীর মেডিকেল ভর্তি দায়িত্ব নিলেন পৌর মেয়র মিন্টু  ঝিনাইদহ ট্রাফিক অফিসের অভিযান-   রফিকুল ইসলাম মাদানীকে যে কারণে আটক করা হয়েছে  বিশ্বকাপজয়ী মঈনকে ‘জঙ্গি’ বললেন তসলিমা, আর্চারের প্রতিবাদ  নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে মার্কেট খোলার দাবীতে মানববন্ধন  লকডাউনে সিটিতে গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন  দিয়া মির্জা বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা  লঞ্চডুবিতে ৩৫ লাশ: নৌ চলাচলে জেলা প্রশাসনের ৮ নির্দেশনা   করোনা: বিশ্বে ৩০ লাখ ছাড়াল মৃতের সংখ্যা  মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ মে  রূপগঞ্জে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

সাত খুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

 Tue, Nov 20, 2018 11:23 AM
 সাত খুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

এশিয়া খবর ডেস্ক:: নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

 সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সোমবার বিকালে সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে দুই মামলায় মোট ১৫৬৪ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়।


এতে কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।


প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণার পনের মাস পর এই রায়টি প্রকাশিত হলো। গত বছরের ২২ আগস্ট বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন।


রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, র‌্যাব একটি এলিট ফোর্স। এবং মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য এরা বহুবিধ কাজ করেছে। কথিপয় এই ব্যক্তির জন্য সামগ্রিকভাবে এই বাহিনীকে দায়ী করা যায় না। তাদের ভাবমূর্তি নষ্টেরও কারণ নেই। এবং কতিপর অপরাধী তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এবং তাদের দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।


আদালত বলেন, আসামিরা যে ধরনের অপরাধ করেছে, যদি তারা ছাড়া পেয়ে যায় তাহলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগবে।


এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  জানিয়েছেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি আমরা পেয়েছি। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের বিষয়ে আপিল করবো কিনা রায়টি পুরোপুরি পড়ে সিদ্ধান্ত নেব। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত কপি যাবে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে। রায় প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপিল না করলে রায় কার্যকরের জন্য বিচারিক আদালত সত্যায়িত অনুলিপি কারাগারে পাঠাবে। কারা কর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী রায় কার্যকর করবেন।’’


চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার প্রায় সাড়ে চার বছর পার হয়েছে। তিন বছরে ওই ঘটনার বিচারের দুটি ধাপ অতিক্রম হয়েছে। এখন বাকি আছে শুধু আপিল বিভাগের চূড়ান্ত বিচার। গত বছরের ২২ আগস্ট সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্সে ও আপিলের রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।


মৃত্যুদণ্ড এই খুনের ঘটনায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় শুরু থেকেই এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমনে সংশয় ও সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। মামলার রায় সেই সংশয় দূর করে। একই সঙ্গে সাতজনকে খুন করে লাশ যে কায়দায় নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল, সে খবরে দেশবাসী যেমন শিউরে উঠেছিল, তেমনি পরে এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের একটি ইউনিটের প্রায় সব সদস্যের যুক্ততার অভিযোগ সবাইকে হতবাক করেছে।


অন্যদিকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম আসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনের। সবকিছু মিলিয়ে এই খুনের ঘটনাটি একটি চরম সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখতে দেশবাসী গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।


২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত বাকিরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।


ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।


আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ১১ মে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়। এই মামলার বাদী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।


২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এ মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। দণ্ডিতদের ২৫ জনই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র‌্যাব-১১তে কর্মরত ছিলেন। মামলার পর তাদের নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।


বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে যারা কারাগারে আছেন তারা হাইকোর্টে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন। এছাড়া নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য নথিও ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন।


এরপর প্রধান বিচারপতি এ মামলার শুনানির জন্য ওই বছরের (২০১৭ সাল) ১৭ মে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে তা কার্যতালিকায় আসে। এরপর ২২ মে থেকে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ওই বছরের ২২ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।


রায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া ২৬ জনের মধ্যে র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বাকি ১১জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে দেয়া ৯ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।


মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন, সৈনিক তাজুল ইসলাম। যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন: সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন