সদ্য সংবাদ

 দুদকে যেতেই হবে ডিএজি রুপাকে   জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা  সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা  ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, এএসআই প্রত্যাহার   পাকিস্তানের ১৯৭১ সালের নৃশংসতা অমার্জনীয় : প্রধানমন্ত্রী  ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষকে হতাশ করেছে’   ২৫ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার কোটি টাকা  ঢাকার যাত্রীদের জন্য গুগল ম্যাপে নতুন ফিচার  নবীনগরে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ উদ্ধার   ভাসান চর যেতে জড়ো হচ্ছে শত শত রোহিঙ্গা   পিরামিডের সামনে ‘আপত্তিকর’ ছবি, মিসরীয় মডেল গ্রেপ্তার   সিদ্ধিরগঞ্জে প্রো-অ্যাকটিভ ডাক্তারের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ   প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করুন : প্রধানমন্ত্রী  করোনার টিকা সরবরাহে হানা দিতে পারে দুর্বৃত্তরা: ইন্টারপোল   এমসি কলেজ হোস্টেলে গণধর্ষণে অভিযুক্ত ৬, চার্জশিট বৃহস্পতিবার   মার্কিন দূতাবাসের কাছে ফেলে যাওয়া সেই ব্যাগে ছিল বালু ও তার   সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংবিধান পরিপন্থী: ফখরুল   হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা, নেপথ্যে প্রেম?  দুর্নীতিবাজ রুই-কাতলদের আইনের আওতায় আনতে হবে : হাইকোর্ট  সিদ্ধিরগঞ্জে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার জমি দখল করতে হামলা ও ভাংচুর ॥

রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামীকে বাঁচাতে ডাক্তারের ভুয়া সনদ

 Sun, Oct 25, 2020 8:23 PM
রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামীকে বাঁচাতে ডাক্তারের ভুয়া সনদ

রাজশাহী প্রতিনিধি:: রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার ভুগরইল পশ্চিমপাড়া

 এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী এক যুবককে মাথায় রামদার কোপ ও শাবল ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে রাজশাহী সরকারি পিএন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এমএলএসএস (মালি) সুজন আল হাসানকে গ্রেফতার করে নগরীর শাহমুখদুম থানা পুলিশ। হত্যা মামলায় এজাহারভূক্ত ৩নং আসামী জানা সত্তে¡ও সুজনকে মিথ্যে প্রত্যয়ন প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। ওই প্রত্যয়নের সত্যতা প্রমাণে আরও একটি ভুয়া মেডিকেল প্রত্যয়নের বন্দবস্ত করেন তিনি, এতে সাংবাদিকদের হাতে ধরা খান প্রত্যয়ন প্রদানকারী রাজশাহী মডেল হাসপাতালের ডাক্তার।

সুজনের মিথ্যে মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং ছুটির দরখাস্ত দেখতে চাইলে সাংবাদিকদের তা দেখাননি প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরা। আবার সুজনকে কবে ও কোন তারিখে এবং কি কারণে ভর্তি হয়েছেন তা বলতেও ব্যর্থ হন তিনি। সুজনের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিলে সেখানে তিনি কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন? কোন ডাক্তারকে দেখিয়েছিলেন? সেটাও বলতে গিয়ে কথা আটকে যায় হত্যা মামলার আসামী সুজনের। কিন্তু হঠাৎ অলৌকিকভাবে চলতি মাসের ৫ তারিখে অফিসের কারণ দর্শানো নোটিশ, মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ কারণ দর্শানো নোটিশের ব্যাখ্যা দেন মালি সুজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিএন স্কুলের অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে সুজনের অস্বুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন সুজনের সাথে আমরা কাজ করেছি, কিন্তু সুজনের মেরুদন্ড ও মাজা ব্যাথার সমস্যা আছে এটা শুনি নাই। জেল থেকে বের হয়ে আসার পর থেকে শুনছি তার মেরুদন্ড ও মাজা ব্যাথার সমস্যা আছে।’

হত্যা মামলায় জড়িত পিএন স্কুলের মালি সুজনকে প্রত্যয়ন ও চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেন রাজশাহী মডেল হাসপাতালের ডা: এবিএম কামরুল আই সরকার (কনসালটিং ফিজিশিয়ান)।

চিকিৎসকের ভাষ্য, ‘কার শারিরীক সমস্যা আছে, আর কার নেই তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। আবার, কে অপরাধী বা নিরপরাধ সেটা দেখার সময়ও আমার নেই। তবে পিএন স্কুলের মালি সুজন আল হাসান আমার কাছে ১২/১০/২০১৯ তারিখে মেরুদন্ড ও মাজা ব্যাথাজনিত কারণে হাসপাতালে আসেন চিকিৎসার জন্য। তাকে প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট অনুযায়ী ঔষধ দেই। সেই সাথে তাকে দুই মাসের বেড রেস্ট সাজেস্ট করি।’

এদিকে সুজনের কারাভোগকালীন সময়ে তাকে প্রত্যয়ন দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলছেন, ‘সুজন জেলে থাকাকালীন সময়ে তার স্ত্রী আমার কাছে আসে। তিনি জানান তার স্বামীর শারিরীক অবস্থা আবারও খারাপ হয়ে পড়েছে। আমি তাকে একটি চিকিৎসা ফরম দেই। সেটা পুরণ করে তিনি আমাকে দিলে সেই অনুযায়ী আমি সুজনকে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রেসক্রাইব করি এবং আবারও দুই মাস রেস্ট নেওয়ার পরামর্শ দেই।’

সুজন তার রোগী ছিল তা প্রথার্ধে ডাক্তার কামরুল স্বতস্ফূর্তভাবে স্বীকার করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে হত্যা মামলার আসামী সুজনকে কারাগারে থাকার পরও মেডিকেল সার্টিফিকেট কিভাবে দিলেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘সুজন আমাকে বিষয়টি জানায়নি। তার জন্য আজ আমাকে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনে মামলা করব।’

অথচ তিনি বলছেন, সুজনের স্ত্রী সুজনের জেলে থাকাকালীন শারিরীক অবনতির কথা জানালে তিনি ঔষধ লিখে দেন এবং সেই সাথে দুই মাসের বেড রেস্ট করার সার্টিফিকেটও দেন বলে স্বীকার করেন।

কারাগারে থাকাকালী কোনো হাজতি বা কয়েদি সরকারি হাসপাতা ছাড়া বাইরের চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কিভাবে আপনি সুজনকে প্রেসক্রাইব করলেন ও সার্টিফিকেট দিলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুজনের স্ত্রী হয়ত কোনো মেকানিজম করে বা ভুয়া কাগজ বানিয়ে এনেছিল। আর তাতে আমি যাচাই না করে ভুল বশত কাজটি করে ফেলেছি।’

গোপন সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার কামরুলের মেয়ে রাজশাহী গভ: পিএন গালর্স হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়েন। প্রধান শিক্ষিকা ও মালি সুজন দ্বারা প্রভাবিত হয়েই তিনি ভুয়া সনদ প্রদান করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন