সদ্য সংবাদ

 করোনার টিকার অনুমোদন চায় মডার্নাও  test news for news uploading   ‘কম খরচে যাতায়াতে দেশব্যাপী রেল নেটওয়ার্ক স্থাপন হবে  দুবাইয়ের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাগদান সারলেন বেনজিরের মেয়ে   বর্তমান সরকারের পতনের অবস্থা চলছে: ডা. জাফরুল্লাহ   বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা  পঞ্চগড়ে কৃষকদের মাঝে সার-বীজ বিতরণ   নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নতুন ওসি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত  ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত  মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিকদের মানববন্ধন  ডেপুটি স্পিকার অ্যাড.ফজলে রাব্বীকে গণসংবর্ধনা  যুক্তরাজ্যে নারীদের 'কুমারীত্ব পরীক্ষার'   পার্বত্য চট্টগ্রামের বছরে ৪শ’কোটি টাকার চাঁদাবাজি   না’গঞ্জে অবৈধ যানবাহনের দাপটে ঘটছে দুর্ঘটনা।   বাল্যবিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ   ‘প্রিয় বন্ধু’র মৃত্যুর দিনেই বিদায় নিলেন ম্যারাডোনা   নারীদের ‘জানোয়ারের’ সঙ্গে তুলনা করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী   কৌশানী মুখার্জির `ফিগার সিক্রেট’  বনানী কবরস্থানে শায়িত হলেন আলী যাকের  বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে এসেছে আমেরিকা: বাইডেন

সড়কে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা

 Thu, Oct 29, 2020 8:03 PM
 সড়কে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ টাকা

এশিয়া খবর ডেস্ক:: নতুন সড়ক আইনের খসড়া বিধিমালা তৈরি।

 হতাহতদের বড় অংশই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পথে প্রধান দুই বাধা সড়কে বিশৃঙ্খলা আর দুর্ঘটনা। কঠোর শাস্তি যুক্ত করে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সড়কে সেই বিশৃঙ্খলা রয়েই গেছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়ায়

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পথে প্রধান দুই বাধা সড়কে বিশৃঙ্খলা আর দুর্ঘটনা। কঠোর শাস্তি যুক্ত করে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সড়কে সেই বিশৃঙ্খলা রয়েই গেছে। গতকাল বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শনির আখড়ায়ছবি: হাসান রাজা

সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন তিন লাখ টাকা। নিহত ব্যক্তির পরিবার পাবে পাঁচ লাখ টাকা। নতুন সড়ক আইনে ক্ষতিপূরণের এ ব্যবস্থা রেখে খসড়া বিধিমালা তৈরি করেছে সরকার। ক্ষতিপূরণের অর্থের মূল জোগানদাতা যানবাহনের মালিকেরা। সরকারও অনুদান দেবে।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়েছে দুই বছর আগে। কার্যকর হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। আইনে ক্ষতিপূরণের কথা থাকলেও বিধিমালা তৈরি না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। তবে খসড়া বিধিমালায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার ব্যক্তিরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের বড় অংশই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই ক্ষতিপূরণ আরও বাড়ানো দরকার।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নতুন সড়ক আইনের খসড়া বিধিমালা তৈরি করেছে। মতামতের জন্য এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। ক্ষতিপূরণ দিতে আর্থিক তহবিল গঠন করতে হবে।

জানতে চাইলে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, খসড়া বিধিমালার ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত নিতে হবে। এরপর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় বিধিমালাটি অনুমোদন দেবে। এরপরই ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং যানবাহনের মালিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু বা পঙ্গু হওয়ার ক্ষতি তো কোনোভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। আর্থিক সহায়তা পেলে আহত ব্যক্তি ও নিহত ব্যক্তির পরিবার কিছুটা হলেও উপকার পাবে।
বিজ্ঞাপন

ক্ষতিপূরণ জরুরি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি হিসাবে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ হাজার ২৬৩ জন, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩২১ জন। আর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭ হাজার ১৭০ জন, আহত হয়েছেন প্রায় ৮৩ হাজার।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে শিশুর লাশ নিয়ে ঝালকাঠির গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন এক পরিবারের পাঁচ সদস্য। বরিশালের উজিরপুরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ড ভ্যান। এ সময় পেছনে থাকা একটি বাস কাভার্ড ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ আরোহীদের সবাই মারা যান।

ঘটনাটি অনেককেই নাড়া দিয়েছিল। দাফন-কাফনের জন্য জেলা প্রশাসন সামান্য কিছু অর্থও দেয়। এখন আর খবর নেওয়ার কেউ নেই।

নিহত ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ স্বজন রাশেদুল হাসান দুর্ঘটনার পর গৌরনদী হাইওয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মামলার অগ্রগতি কী, সেটা তিনি জানেন না।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের মা, দুই ভাই, বোন ও এক ভাইয়ের শ্যালক। রাশেদুল বলেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন। গ্রামে থাকা এক প্রতিবন্ধী চাচার ভরণপোষণ করত আরিফের পরিবার। মাসে চার হাজার টাকার মতো ওষুধ লাগে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর চাচার জীবনও কঠিন হয়ে পড়েছে। আরিফের বাবা মারা গেছেন আগেই। এখন মামলা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করার মতো লোকও নেই।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন কিংবা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনি ভিত্তি ছিল না। সড়ক দুর্ঘটনার পর মামলা হলেও সাক্ষীর অভাব, দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিবহনমালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনের হুমকির কারণে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়ার নজির কম।

২০১৮ সালে ঢাকায় গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় পা হারান রাসেল সরকার। তিনি পেশায় কারচালক। এ ঘটনায় হাইকোর্টের রায়ে গ্রিন লাইন পরিবহন রাসেলকে ১০ লাখ টাকা দেয় এবং চিকিৎসা সহায়তা দেয়। আদালত আরও ২০ লাখ টাকা দিতে বলেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন