সদ্য সংবাদ

 বিজেপি দশটা মারলে আমরা বিশটা মারব: পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী  বন্ধু রোহনকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন শ্রদ্ধা কাপুর  অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার বরখাস্ত   যাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয় তাদের সেবা দিতে হবে: ডিসি  বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের  নারীদের নিয়ে ফুর্তি, আ’লীগ নেতা গ্রেফতার  পঞ্চগড়ে করোনা সচেতনতায় সড়কে ক্যাডেটরা   হরিণাকুন্ডু পৌরসভা নির্বাচন ৯টি কেন্দ্র ঝুকিপুর্ন!  করোনা আক্রান্ত হয়ে কালীগঞ্জের সন্তান জাবির সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু!   ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু  বিদেশে টাকা পাচারকারীদের নাম প্রকাশের দাবি সংসদে  সরকার ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহোৎসব করছে : মির্জা ফখরুল  ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার বড় দুর্নীতি করেছে : মির্জা ফখরুল   নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন কুষ্টিয়ার সেই এসপি তানভীর   নারায়ণগঞ্জে মৃত ৬ মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক বরাবর  উত্তরবঙ্গ এখন দ্বিতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিনত  করোনা থেকে রক্ষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান-ডেপুটি স্পিকারের   বাংলাদেশে টিকার দাম কত হবে, জানালেন পাপন   কারাগারে হলমার্ক জিএমের নারীসঙ্গী, ডেপুটি জেলারসহ ৩ জন প্রত্যাহার   যে তারকাকে টুইটারে ফলো করেন বাইডেন

মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী আনুশকার ধর্ষক দীহান বিকৃত রুচির

 Fri, Jan 8, 2021 10:26 PM
মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী আনুশকার ধর্ষক দীহান বিকৃত রুচির

এশিয়া খবর ডেস্ক:: মাস্টারমাইন্ড স্কুলের 'ও' লেভেলের ছাত্রী আনুশকা নুর

 আমিনের (১৭) মরহেদের ময়নাতদন্ত শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। এতে তার গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আলামত পেয়েছেন চিকিৎসক। এই রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ইংলিশ মিডিয়ামের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ফারদিন ইফতেখার দীহান (১৮) শুক্রবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

আনুশকার স্বজনরা বলছেন, ধর্ষণ করেই বখাটে তাদের মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, আনুশকার মরদেহের ময়নাতদন্তে তার যোনি ও পায়ুপথে আঘাত এবং রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা গেছে। সে বিকৃত দৈহিক সম্পর্কের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় যে জড়িত সে অবশ্যই বিকৃত রুচির।

ডা. সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, গোপনাঙ্গ ছাড়া মেয়েটির শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চেতনানাশক কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি-না সেজন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি ছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা এবং ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে বয়স জানতে চেয়েছে। সে কারণে মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এপরে বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে এপরে করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এপরে ছাড়াই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শরীরের গঠন ও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা হবে।

বন্ধু দীহানের ডাকে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির বাসা থেকে কলাবাগান এলাকায় যায় আনুশকা। এরপর দিহান তাকে কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় নিয়ে যান। পুলিশ বলছে, বাসা খালি থাকার সুযোগ নিয়ে আনুশকার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে জড়ান দিহান। ওই বাসাতেই আনুশকা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় দীহান তাকে নিয়ে যান ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান- হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দিহানকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তার বাবা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীটির মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। একঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই ছাত্রী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। এই মামলার একমাত্র আসামি 'ও' লেভেল শেষ করা দিহান বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন। হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তার মেয়েকে কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় বলে উল্লেখ করা হয় এজাহারে। মামলায় আরও বলা হয়েছে-আনুশকাকে একা বাসায় পেয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেছেন দিহান। আনুশকাকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে দিহান তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। অমানবিক কার্যকলাপের কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানায়, আড়াই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সূত্রে দীহানের সঙ্গে পরিচয় হয় আনুশকার। এরপর তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় দিহান একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার দিহানকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। তবে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

ঢাক মেডিকেল কলেজ মর্গে আনুশকার মা বলেন, বখাটে ছেলে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। মেয়েকে নিয়ে আমাদের অনেকে স্বপ্ন ছিল। মেয়েকে হত্যার বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের বয়স ১৭ বছর। তবে সুরতহাল রিপোর্টে মেয়ের বয়স পুলিশ ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। কেন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানোর চেষ্টা করা হলো?

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আনুশকা তার বন্ধুর বাসায় যায়। সেখানে তার রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল থেকে দিহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি দাবি করেছেন, উভয়ের সম্মতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। ওই বাসা থেকে অনেক আলামত জব্দ করা হয়েছে। যেখানে শারীরিক সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে।

নিউমার্কেট জোনের জেষ্ঠ্য সহকারি কমিশনার আবুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই যখন পুলিশ হাসপাতালে যান তখন ওই তরুণীর স্বজনরা তার বয়স ১৯ বলে জানায়। তাই সুরতহাল প্রতিবেদন ওই বয়স উল্লেখ করা হয়। পরে মামলায় তার বয়স ১৭ বলেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তরুণীর সঠিক বয়স নির্ণয় করা হবে। ঘটনার পর এর গুরুত্ব বিবেচনা করে ময়নাতদন্তের সময় আমি নিজেই মর্গে গিয়েছি।

আবুল হাসান আরও বলেন, ঘটনার পরপরই দিহানের আরও তিন বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় মুচলেকা দিয়ে স্বজনদের কাছে তাদের দেওয়া হয়। তবে তদন্তের কোনো পর্যায়ে এ ঘটনায় তাদের যোগসূত্র মিললে আইনের আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, দীহানের বাবার নাম আব্দুর রউফ সরকার। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার রাতুব এলাকায়। তবে তারা বসবাস করেন কলাবাগান থানাধীন ডলফিনগলিতে। বাড়ি নম্বর ৬৩/৪। ফ্ল্যাট নম্বর ডি-২। দীহান ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে 'ও' লেভেল শেষ করেছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন