সদ্য সংবাদ

 লাগাম টানা যাচ্ছে না সিন্ডিকেটের, দিশেহারা ভোক্তারা  কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে ৫ বিদ্রোহী নিহত  ব্যবসা নাই তবুও কোটি কোটি টাকার মালিক : আইভী  স্ত্রী-ছেলেসহ ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের   সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থীর পোষ্টার লাগাতে বাধা, মারধর  শাহরুখপুত্রকে গ্রেফতার করা সেই কর্মকর্তা নজরদারিতে   হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া   করোনায় আক্রান্ত শিক্ষকের বেতন কাটলো দুর্নীতিগ্রস্ত জহিরুল হকের কমিটি   ছিনতাই ও খুনি চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করছে পিবিআই নাঃগঞ্জ   খুনি নূর হোসেনের ভাতিজা বাদল ভালো, মেয়র আইভী ব্যর্থ!   সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতির বিধান কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট  বাড়ি ভারতে, অফিস করেন সিলেটে  আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের   ই-কমার্সের প্রতারনায় ভুক্তভোগী বাণিজ্যমন্ত্রী  সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু   ১০ হাজার ৫০০ শ্রমিককে ভিসা দেবে যুক্তরাজ্য  দেবীগঞ্জে বাসর রাতে পাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু  ‘চুনকা কুটির নয়, আইভীর হোয়াইট ওয়াশের জ্বালা বিরোধী পক্ষ  বিয়ের পর আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হচ্ছে: মাহি  বাংলাদেশে কেউ ভালো নেই : মির্জা ফখরুল

আপনার মাথা নিচু কেন? অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন

 Thu, Apr 6, 2017 10:52 AM
আপনার মাথা নিচু কেন? অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট:: পনেরো দফা সময় চাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘সব সময় আপনার হাসিমুখ দেখি।

 এভাবেই দেখতে চাই। কিš‘ এই মামলার শুনানিতে আপনি মাথা নিচু করে থাকেন।’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ‘বারবার সময় চাওয়াতে আমার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে।’

এ পর্যায়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘আপনাকে মোনালিসার মতো হাসিখুশি দেখতে চাই।’ বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার শুনানিতে  মঙ্গলবার আপিল বিভাগে এই কথোপকথন হয়। পরে বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করতে সরকারকে ৮ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

 

এর আগে এই গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করতে গত ২৮ মার্চ সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী গতকাল আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকা ক্রমিকের এক নম্বরে ছিল ‘বাংলাদেশ বনাম মাসদার হোসেন এবং অন্যান্য’ শিরোনামের মামলাটি। সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম সময় প্রার্থনার আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয় আশা করছে বিধিমালার গেজেট জারির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এর জন্য দুই সপ্তাহের সময় প্রয়োজন। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তিনি একজন ভদ্রলোক। তার দোহাই দিয়ে শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারির জন্য আপনারা বারবার সময় চা”েছন। এতে আমাদের কষ্ট লাগে।’

পরে আপিল বিভাগ ৮ মের মধ্যে শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতে দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে দেন। এ সময় বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘আপনারা দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। কিš‘ সামনে অবকাশ থাকায় ৮ মে পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো। এবার অনেক সময় পেয়েছেন। গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করবেন, আর কোন অজুহাত দেখাবেন না।’ তখন অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সব সময় আপনার হাসি মুখ দেখতে চাই। এই হাসিটা যেন মিলিয়ে না যায়।’

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেয় আপিল বিভাগ। এ খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর তা গেজেট আকারে জারি করে আদালতে দাখিল করতে গত বছরের ২৮ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। ওই নির্দেশ মোতাবেক ওই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ গেজেট আদালতে দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিš‘ গত বছর ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট জারির জন্য আরো ৮ সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত সময় মঞ্জুর করে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে বিধিমালার গেজেট জারি করতে রাষ্ট্রপক্ষকে সময় দেয়। কিš‘ এরপরও আবার সময় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত সময় মঞ্জুর করে।

সর্বশেষ গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে দুই সচিবকে তলব করে আপিল বিভাগ। ওই তলব আদেশে গত ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হন আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব। তারা রাষ্ট্রপতির একটি প্রজ্ঞাপন আদালতে দাখিল করে বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছেন গেজেট জারির প্রয়োজন নেই। ওই সময় আপিল বিভাগ বলে, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এটির সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত। এখানে কোনো আপস করা হবে না। এ অব¯’ায় আদালত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট জারির আদালতে দাখিল করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেয়। কিš‘ গেজেট জারি না করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আবারো সময় আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালত সময় মঞ্জুর করে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট জারি করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়।

১২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালত সময় মঞ্জুর করে ২৭ ফেব্রুয়ারি বিধিমালার গেজেট জারি করে তা দাখিলের নির্দেশ দেয়। কিš‘ গেজেট আদালতে দাখিল করতে ব্যর্থ হয় রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন আবারো সময় চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪ মার্চ পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে। কিš‘ গেজেট জারি করতে পারেনি সরকার। ওই দিন উষ্মা প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই বড়। এটিকে রক্ষা করতে হবে। গেজেট জারি না করে বারবার সময় চা”েছন। বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রেখেছেন। এরপর আদালত দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করে ২৮ মার্চ গেজেট দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে। কিš‘ এবারও গেজেট দাখিল না করে চার সপ্তাহ সময় চাইলে আদালত এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করে। কিš‘ এরপরও বিধিমালার গেজেট জারি করতে পারেনি সরকার। গতকাল পঞ্চদশ বারের মতো সময় চেয়ে আবেদন করে সরকার।  ইত্তেফাক

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন