সদ্য সংবাদ

  শ্রমিকের বেতন না দিয়ে মালিক পালাতক, সাহায্য দিলেন ডিসি   মিতু হত্যার ঘটনায় সাবেক এসপি বাবুল আক্তার গ্রেফতার  ঈদে মুক্তি পাচ্ছে অভিনেতা তনু পান্ডের ছবি "সৌভাগ্য "  প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ   নাশকতায় জড়িত হেফাজত কর্মীর স্বীকারোক্তি  নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪ ভুয়া ডিবি গ্রেফতার  সিদ্ধিরগঞ্জের টাইগার ফারুক জেলে, আত্মগোপনে তার ৩ সন্ত্রাসী   ইমামের স্বীকারউক্তি নাশকতায় সাথে মামুনুল হক জড়িত- এসপি পিবিআই  নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের অভিযানে সোর্স বিশু ও মিশু গ্রেফতার   মুনিয়ার মৃত্যু: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বসুন্ধরা গ্রুপের শাহ আলম পুত্র আনভীরের   বসুন্ধরার এমডি প্রেমিক আনভীরকে নিয়ে মুনিয়ার ডায়েরিতে কী আছে?  হেফাজতের ৩১৩ অর্থ যোগানদাতা চিহ্নিত: ডিবি কমিশনার  গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার, বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা  কওমি মাদ্রাসা রাজনীতিমুক্ত রাখতে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত   ডিএনডির সেনা প্রজেক্টের নির্মাণাধীন ঢালাই ধসে নিহত-১, আহত-৫  নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।  নারায়ণগঞ্জ এসপির বন্ধু পরিচয়ে সোর্স বাবু -বিশু ও মিশু চক্রের চাঁদাবাজি  ৩০০ পরিবারে মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন নাঃগঞ্জের ডিসি  চিকিৎসকের আচরণের প্রতিবাদ করেছেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন  ডাক্তার -পুলিশের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা

আশা ও তামাশার লকডাউন

 Sat, Apr 17, 2021 12:00 AM
আশা ও তামাশার লকডাউন

ফয়সাল আহমেদঃ: প্রায় প্রতিদিনই বাসায় তোপের মুখে পড়তে হয় নামাজ পড়ার

 বিষয়ে। আমিও হোম মিনিস্টারকে প্রতিদিন কথা দেই- ইনশাল্লাহ রমজান মাস থেকেই তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করব। আপাতত বিভিন্ন কর্মব্যস্ততায় পারছি না। রমজান মাসে এটা অভ্যাসে পরিণত হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। 

এভাবে হোম মিনিস্টারকে বুঝ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে রমজান মাসেই তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করব মসজিদে গিয়ে। 

আর তাই কাজকর্ম অনেকটা গুছিয়ে নিয়ে মাগরিবে নামাজ আদায় করার পর বাকি হাতের কাজ গুলোও এগিয়ে নিতে থাকি। কিছুক্ষণ পর এশার আযান হলো। হোম মিনিস্টারও এসে হাজির। উঠো, নামাজে যেতে হবে। আমিও উঠলাম, ওজু করে মাস্ক পরে হাতে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদের দিকে চললাম।

 কিন্তু মসজিদে গিয়ে দেখলাম ভিন্ন চিত্র। পুুরো মসজিদের গেট তালাবদ্ধ। দুই কাতার ফাঁকা ফাঁকা করে ২০ জনের মতন লোক নামাজ আদায় করছেন। আর আমার মতন লোকজন আসছেন আর কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আবারো ফিরে যাচ্ছেন। 

এমন অবস্থা দেখে মেজাজ টা বেশ গরম হয়ে গেলো। আমিও অন্যদের মতন ফিরে গেলাম। যাওয়ার সময় দু’চার জনকে জিজ্ঞাসা করলাম- অন্যান্য মসজিদের কি অবস্থা। উত্তর আসলো- সব মসজিদে একই অবস্থা।

বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। তারাবির নামাজ আর মসজিদে জামায়াতের সাথে পড়া হলো না। মনের ভেতর আফসোস টা এখনো রয়ে গেলো।

যাক সেসব কথা, এখন আসি মূল কথায়। 

সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ৭ দিন লকডাউনের পর দুদিন খোলা আবারো দিচ্ছেন ‘কঠোর লকডাউন’। তারপর আবার সব কিছু উন্মুক্ত...... আসল ঘটনাটা কি???

বই মেলা চালু থাকছে তাতে করোনার আক্রমণ হয় না, আবার বাজার-ঘাট, মসজিদ মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজ খোলা হলেই সেখানে করোনার আক্রমণ হয়.... তখন করোনা বেড়ে যায়.... এসব কি ভাই, আজব সব তামাশা, আজব সব কাহিনী!!! 


আমি আলেকজান্ডার নই এবং আমার সেলুকাস নামের সেনাপতিও নেই। তারপরও আলেকজান্ডারের ডায়ালগটি বলতে মন চাইছে, সেলুকাস, সত্যিই বড়ই বিচিত্র এদেশ! 


আরও সংযোজন করতে ইচ্ছে হচ্ছে- শুধু বিচিত্রই না তামাশাময় এদেশ। যেখানে নিয়ম-কানুন সব উল্টো, অযৌক্তিক, উদ্ভট! দেশে একটার পর একটা নাকট হতেই থাকে, যার শেষ নেই.....


ছোটবেলায় বাংলা ব্যকরণের বইতে পড়তাম- মেধা পাচার, আর ইংলিশ বইতে সেটি হতো- Brain Migration তখন বুঝতাম না এসবের মানে। কিন্তু আজ বাস্তবতার কষাঘাতে তা বুঝ এবং স্বচক্ষুতে দেখছি। যে দেশে স্কলার ও মেধার মূল্যায়ন হয় না সে দেশ অযৌক্তিকভাবে চলবে এটাই স্বাভাবিক। 


আমার এক নিকটাত্মীয় দেশ ছেড়েছেন আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে। তিনি ছিলেন গবেষক। তার প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপে বিদেশে পিএইচডি করার জন্য যে পরীক্ষা হতো সেখানে প্রতিবারই তিনি প্রথমদিকেই থাকতেন। কিন্তু তাকে বার বার ২য় বা ৩য় স্থান দেওয়া হতো, আর ১ম স্থান দেওয়া হতো ক্ষমতাবানদের পরিচিতদের। পরবর্তীতে রাগ করেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। ফেরেননি আর। এখন তিনি বিশ্বের নামকরা গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নাম করা প্রফেসর। বাংলাদেশেও কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন অসাধারণ।

ফিরে আসি কাজের কথায়। যেই মানুষেরা বাজারে যাচ্ছেন তারাই কিন্তু স্কুল, মসজিদে যান। যে মানুষেরা রাস্তায় চলাফেরা তারা ওই মানুষগুলোই। তাহলে কেনো তামাশার লকডাউন করে মানুষের জনজীবনকে আরও বিপদগ্রস্ত করা হচ্ছে। 

আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চাইতে রোড এক্সিডেন্ট, অগ্নিকান্ড দূর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও দ্বন্দ্ব কলহের কারণে বেশী মারা যান। তার চাইতেও বেশীর ভাগ লোক মারা যান টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসার কারণে। এসব জায়গাতে কেনো আপনারা দৃষ্টিপাত করেন না। 

শুধু গরীব ও সাধারণ মানুষই নয়, বরং বড় লোকেরাও এখন ভয় পায়  করোনার লকডাউনকে। এই লকডাউনের কারণে অনেকেই পথে বসেছেন। অনেকেই হয়েছেন বেকার, আর মালিকেরা হয়েছেন নিঃস্ব। 

এখন মানুষ আর করোনায় মরার ভয় পায় না, ভয় পায় না খেয়ে মরার।

সারাদেশে যে করোনা টেস্ট হয়েছে সেটাই বা কতটুকু সঠিক, নমুনা দেওয়ার পরও ল্যাবে পরে থাকছে নমুনা। ৮-১০ পর সেই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার থাকে না কোনো কার্যকারিতা। সে লোকগুলো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেশের হাসপাতাল গুলোতে নেই আইসোলেশান, অক্সিজেন, ভেন্টিলেশান কিংবা নূন্যতম প্রয়োজনীয় সেবা। অথচ, আছে লকডাউন।


কত শত রাস্তা ঘাটের ফেরিওয়ালা, রিক্সাচালক, দিনমজুর থেকে শ্রমজীবীরা আজ অচল জীবন যাপন করছে তা কি কেউ জানে..... না কেউ তাদের খোজ রেখেছে...... আমার মতন যারা মাঠ, ঘাট, রাস্তা, অলিগলি ঘুরে বেড়ান তারাই জানেন এই দূর্দশার কথা। 


যে শিশুটি কিংবা যে মস্তিষ্ক বিকৃত পাগলটি রাস্তায় জীবন যাপন করে তাকে কে বাঁচাবে করোনা থেকে? তারা কোন জায়গাতে থাকবে লকডাউনে? তাদের আহার জুটবে কোথায় থেকে?


পুলিশ প্রশাসন বাধ্য হয়েই বাঁশি মেরে রাস্তা ক্লিয়ার করছেন, বাজার ঘাট ফাঁকা করে দিচ্ছেন অথচ, তারাও মানুষ। তাদের কাছে বলতে শুনি হায় হায় রে- এভাবে মানুষগুলো কিভাবে চলবে....!!! তারাও বোঝে কিন্তু নীতিনির্ধারকদের আদেশের কাছে তারাও নিরুপায়।


মজার বিষয় হলো যখন কোনো সংবাদ সম্মেলন, অনুষ্ঠান কিংবা বড় বড় ব্যক্তিবর্গের মিটিং হচ্ছে তখন চারপাশে সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই ওই সব নীতিনির্ধারক পর্যায়ের লোকজনই নীতি ভঙ্গ করছেন। এমনকি করোনার টিকা নিতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করছেন। নেতা টিকা নিবে তো একদল কর্মীদের সাথে করে, আবার প্রতিষ্ঠান প্রধান টিকা নিলে থাকছেন একদল অধস্তন চাটুকার। সব মিলিয়ে একেবারে কেলোরকীর্তি দাদা।


আসলেই বিচিত্র। যেমন দেখেন- একটা টাইম বেধে দেওয়া হয়েছে, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাজার ঘাট চলবে তারপর সব বন্ধ। আমার প্রশ্ন- বিকালে বা সন্ধার পর কি করোনা আক্রমণের জন্য রাস্তা ও বাজারে আসে, তার আগে কি তারা ঘুমায়????? বলেছিলাম না- বিচিত্র এদেশ। 


বিজ্ঞানীরা বলছে- করোনা এখন মানুষের সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে থাকবে। এছাড়া এটি একটি আরএনএ ভাইরাস, যতই দিন যাবে, ততই এটি তার মিউটেশন ক্ষমতার দ্বারা পরিবর্তিত হতে থাকবে। সুতরাং থেকে থাকা মানেই বোকামি ছাড়া কিছুই নই........


যুগে যুগে মহামারির অতীত ঘেটে দেখেন। সেই সাথে দেখেন বিজ্ঞান কি বলছে, তারপর আসেন নীতিনির্ধারণে। যৌক্তিকতার বিকল্প নেই, বিকল্প নেই সচেতনতার। তবে অবশ্যই সবাইকে আত্মসচেতন হতে হবে। 


উন্নত দেশগুলোতে দেখুন তারা লকডাউন তুলে দিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি তারা সবাই মানতেছে। এতে কারোরই কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাহলে আমাদের দেশে কেনো এমন টা হচ্ছে না....!!!


সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। তাই আমার ‘আশা’ সেই সাথে ‘তামাশার লকডাউন’ নিজের মতনই চলবে। হাজার বলেও লাভ নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন