সদ্য সংবাদ

  শ্রমিকের বেতন না দিয়ে মালিক পালাতক, সাহায্য দিলেন ডিসি   মিতু হত্যার ঘটনায় সাবেক এসপি বাবুল আক্তার গ্রেফতার  ঈদে মুক্তি পাচ্ছে অভিনেতা তনু পান্ডের ছবি "সৌভাগ্য "  প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ   নাশকতায় জড়িত হেফাজত কর্মীর স্বীকারোক্তি  নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪ ভুয়া ডিবি গ্রেফতার  সিদ্ধিরগঞ্জের টাইগার ফারুক জেলে, আত্মগোপনে তার ৩ সন্ত্রাসী   ইমামের স্বীকারউক্তি নাশকতায় সাথে মামুনুল হক জড়িত- এসপি পিবিআই  নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের অভিযানে সোর্স বিশু ও মিশু গ্রেফতার   মুনিয়ার মৃত্যু: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বসুন্ধরা গ্রুপের শাহ আলম পুত্র আনভীরের   বসুন্ধরার এমডি প্রেমিক আনভীরকে নিয়ে মুনিয়ার ডায়েরিতে কী আছে?  হেফাজতের ৩১৩ অর্থ যোগানদাতা চিহ্নিত: ডিবি কমিশনার  গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার, বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা  কওমি মাদ্রাসা রাজনীতিমুক্ত রাখতে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত   ডিএনডির সেনা প্রজেক্টের নির্মাণাধীন ঢালাই ধসে নিহত-১, আহত-৫  নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।  নারায়ণগঞ্জ এসপির বন্ধু পরিচয়ে সোর্স বাবু -বিশু ও মিশু চক্রের চাঁদাবাজি  ৩০০ পরিবারে মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন নাঃগঞ্জের ডিসি  চিকিৎসকের আচরণের প্রতিবাদ করেছেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন  ডাক্তার -পুলিশের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা

গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় বধ্যভুমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছে পরিবার

 Mon, Mar 27, 2017 8:53 AM
গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় বধ্যভুমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: জেলার সবচেয়ে বড় গাইবান্ধা শাহ আবদুল হামিদ স্টেডিয়াম মাঠ সংলগ্ন (তৎকালীন হেলাল পার্ক) বধ্যভুমি

 সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। জেলা শহরের আদর্শ কলেজ রোডে অবস্থিত এ বধ্যভুমিতে বর্তমানে কলাচাষ হচ্ছে। পালিত হচ্ছে গবাদিপশু।
    রোববার সকালে ওই বধ্যভুমিতে গিয়ে দেখা গেল, চারদিকে ইটের প্রাচীর। ভিতরের জমিতে কলাচাষ করা হয়েছে। পাশে ধানের খড়ের স্তুপ। এর পাশে টিনসেড ঘরে গো-খামার। সেখানে গবাদিপশু পালন করা হয়। এরপাশে একটি পুরোনো আঁধাপাঁকা বিল্ডিং। এক একরের বেশি এই জায়গাটি গাইবান্ধা পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহ কফিল উদ্দিনের। 
গাইবান্ধা জেলা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটি সুত্র জানায়, একাত্তরের সতের এপ্রিল পাকসেনারা গাইবান্ধা শহরে ঢুকে। তারা তৎকালীন হেলাল পার্কে (বর্তমানে শাহ আবদুল হামিদ স্টেডিয়াম মাঠ) ঘাঁটি করে। এখান থেকে পাকসেনারা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন চালাতে থাকে। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশে নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে পাকসেনারা নির্যাতন চালাত।
     তারা গোটা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত নারী পুরুষ ধরে এনে এখানে নির্যাতন চালাত। বিভিন্ন বয়সের মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষনের পর এখানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই বধ্যভুমিতে কয়েক শত শাড়ি, ব্লাউজ ও পেটিকোট পাওয়া যায়। সেসময় পাকসেনাদের হাতে যারা শহীদ হন তাদের মধ্যে  গাইবান্ধা শহরের ব্যবসায়ী বিজয় কুমার রায়, পরেশ নাথ প্রসাদ, কেদার নাথ প্রসাদ, রামবাবু সাহা, জগৎ কর্মকার, ননী সাহা, মদন মহন দাস, আনোয়ার হোসেনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তবে বধ্যভুমিতে ঠিক কতজনকে মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে, তার কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। পাকসেনারা দীর্ঘ প্রায় সাতমাস বিশদিন গাইবান্ধায় অবস্থান শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়।
গাইবান্ধা জেলা বধ্যভুমি সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক জি এম চৌধুরী মিঠু বলেন, এই বধ্যভুমিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর অদ্যবধি সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তবে জেলা বধ্যভুমি সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবছর ২৫ মার্চ রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বধ্যভুমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা পৌর মেয়র শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, বধ্যভুমির ওই জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাই স্মৃতিস্তম্ভ করা যাচ্ছে না। 
এদিকে পাকসেনারা হত্যার পর এই বধ্যভুমিতে যাদের লাশ পুঁতে রেখেছে, তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার এখন স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন। হত্যাযজ্ঞের বর্নণা শুনে এখনো তারা আহাজারি করেন।
পাকসেনাদের হাতে নিহত পরেশ নাথ প্রসাদের বাড়ি গাইবান্ধা শহরের কলেজ রোডে। পরেশ নাথ প্রসাদের এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে গৌতম প্রসাদ চায়ের দোকান করেন। দুই মেয়ে পুতুল প্রসাদ ও কৃঞ্চা প্রসাদের বিয়ে হয়েছে।
পরেশ নাথ প্রসাদের স্ত্রী ভক্তি প্রসাদ বললেন, পাকসেনাদের ভয়ে আমার স্বামী জেলা শহরের অদুরে রামচন্দ্রপুর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে সুরেন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল দিনের বেলা আমার স্বামীকে হেলাল পার্কে তাদের ক্যাম্পে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করে পাকসেনারা। পরে তাকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। সেই স্মৃতি মনে হলে এখনো ভয়ে গা শিউড়ে উঠে। তিনি আরও বলেন, স্বামীকে হারিয়েছি। কিন্তু সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি।
পরেশ নাথ প্রসাদের একমাত্র ছেলে গৌতম প্রসাদ বলেন, আমার বাবাকে পাকসেনারা মেরে ফেলেছে। শহীদ পরিবারগুলোকে সরকারের পুনর্বাসন করা উচিত। তা করা হয়নি। পেটের তাগিদে চায়ের দোকান করে আমার এক ছেলে, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাচ্ছি। 
পরেশ নাথ প্রসাদের ছোটভাই বাবুল রায় বললেন, আমার বাবা দীপলাল প্রসাদকেও পাকসেনারা হত্যা করে। এ ছাড়া পিসাতো ভাই কেদার নাথ প্রসাদকেও একইদিন (২৪ এপ্রিল) পাকসেনারা হত্যার পর হেলাল পার্কের বধ্যভুমিতে পুঁতে রাখে। সে অবিবাহিত। আসাদুজ্জামান স্কুলের শিক্ষক ছিল। তিনি দাবি করেন, সরকারি উদ্যোগে শহীদ পরিবারকে ভাতা প্রদান ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসন করতে হবে।       

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন