সদ্য সংবাদ

  ৯০ দিনের মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন চীনা নভোচারীরা   দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সংশ্লিষ্টতা, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার  এক হাজার টাকা দেওয়ার ভয়ে পালায় জামালপুরের ৩ ছাত্রী: পুলিশ  মেট্রোরেলের মালামাল ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতো চক্রটি  সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বৃদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রেফতার!   মানুষের কাজই সমালোচনা করা’   কিস্তি চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর  অ্যাসাইনমেন্টের সাথে টাকার কোনো সম্পর্ক নেই : শিক্ষামন্ত্রী  কবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন জানেন না রাসেল   ১০ দৈনিক পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল  পঞ্চগড়ে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণ  জমি নিয়ে বিবাদ সাঘাটায় বসতবাড়িতে হামলা লুটপাট  বিয়েকাণ্ড: 'ঘুষের' টাকা ফেরত দিল সেই পুলিশ   অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এটিএম বুথের ২৪ লাখ টাকা লুট   আরেক বার মনোয়ান চাইবো আনোয়ার হোসেন  বাংলাদেশি কিশোরী চিঠি লিখে বিশ্বজয় করলেন   ফোনালাপ ফাঁস ও মিডিয়ায় প্রচার করা ঠিক নয়: হাইকোর্ট  আমরুল্লাহ সালেহ’র বাড়ি থেকে বিপুল টাকা উদ্ধার তালেবানের   শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী   বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক মোল্লার মৃত্যু

মাদকের বস্তি উচ্ছেদ, সওজের শতকোটি টাকার জমি উদ্ধার

 Thu, Jul 29, 2021 5:53 PM
মাদকের বস্তি উচ্ছেদ, সওজের শতকোটি টাকার জমি উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: নারায়ণগঞ্জ এসপি অফিসের পাশে অবস্থিত চাঁনমারী বস্তিটি অবশেষে

 উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে উদ্ধার হয়েছে  সওজের শতকোটি টাকার জমি। বস্তিটি শহরের সবচেয়ে বড় মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত ছিলো। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের নেতৃত্বে ভেকু দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এসপি। এর আগে ৯ মে নারায়ণগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় চাঁনমারী বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ শতাধিক ঘর ছিলো চানমারী বস্তিতে। এখানে শীষ দিয়ে মাদক বিক্রি হতো। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ বস্তিটিতে কয়েক যুগ ধরেই মাদক ব্যবসা চলছিলো। প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর অভিযানও হতো। তবে শত প্রচেষ্টার পরও রহস্যজনক কারণে বন্ধ করা যায়নি মাদক ব্যবসা।
অবশেষে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপে মাদকের অন্যতম ‘বড় আখড়া’ চানমারী বস্তি উচ্ছেদ হওয়ায় আশপাশের লোকজন স্বস্থি প্রকাশ করেছে।
বস্তির বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা কয়েক দফা এসে বস্তিবাসীকে স্বেচ্ছায় ঘর নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেছে। এজন্য মঙ্গলবার বিকেল থেকে বস্তির প্রায় পাঁচ শতাধীক ঘর নিজেরাই সেচ্ছায় ভেঙ্গে অন্যত্র চলে যাচ্ছি। আর মাদক ব্যবসায়ীদের কারনে অনেক অসহায় পরিবারকে বস্তি ছাড়তে হচ্ছে। এ বস্তিতে ঝুট ব্যবসায়ী, দিনমজুর, হকার, টোকাইসহ মাদক ব্যবসায়ীরা বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও গাউছল আযম চাঁদমারী বস্তিটি মাদক মুক্ত করেছিলেন। তিনি অভিযান চালিয়ে শতাধীক মাদক ব্যবসায়ীকে কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে বস্তির হতদরিদ্র পরিবারের শিশু সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্বপ্নডানা নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই স্কুলে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক নারী পুরুষদের লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজও শিখানোর কার্যক্রম চালু করে ছিলেন। ইউএনও গাউছুল আযম বদলীর পর সেই স্বপ্নডানার কার্যক্রম থেমে যায় এবং মাদক ব্যবসায়ীরা ফের বস্তি দখল করে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। চাঁদমারী বস্তির একশ গজের কাছে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ জেলা জজ কোর্ট অবস্থিত। বিগত সময় এ বস্তি থেকে নানা ধরনের অপরাধ পরিচালিত হয়েছে। শীষ দিয়ে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতো। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। 



বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) বস্তি উচ্ছেদকালে প্রেস ব্রিফিং এ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার চানমারি বস্তি অনেক পুরোন একটি বস্তি। এই বস্তির পাশেই আছে পুলিশ সুপারের কার্যলয়, জেলা প্রশাসকের কার্যলয়, জেলা দায়রা জজ কার্যলয়সহ অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি এই বস্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া যতবারই এই বস্তি উচ্ছেদ হয়েছে ততবারই কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আমি যোগদানের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, এই বস্তি থেকে মাদক নির্মূল করা বা এই বস্তির অপসারণ করা। এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি জমিতে একটি অবৈধ স্থাপনা। এই স্থাপনাটি উচ্ছেদের জন্য আমরা জেলা পুলিশ থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করি, এবং সকল শ্রেনী পেশার বিশেষ করে যারা মিডিয়ায় কাজ করছেন। তারা এই বস্তি অপসারণের জন্য সহোযোগীতা করছেন। সেই সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কর্তৃক গত তিনদিন এই উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং আজকে বস্তিতে শতভাগ উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাদের সহযোগীতা করার জন্য মিডিয়াকর্মীসহ সকল শ্রেনীপেশার লোকজদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি ও ফতুল্লা পুলিশের নেতৃত্বে বস্তি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। আপনারা বলেছেন যে, এই ধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর সেটি পুণঃরায় চালু হয়ে যায়। কিন্তু আমরা সড়ক ও জনপদকে বলেছি, তারা এটি উচ্ছেদ করার পরে আর এই স্থাপনা হবে না।
মাদকের বিষয়ে এসপি বলেন, আমরা এখনে বেশ কয়েকটি ঘরে মাদকের আস্তানা ছিলো, আমরা অভিযান করেছি। কয়েকজনকে আটকও করেছি, তাদের বিজ্ঞ আদালতে আমরা সোর্পদ করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, আর যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এখানে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্নভাবে নিহত হয়েছেন, যারা জীবিত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ডজনের উপরে মামলা আছে, আমরা হুশিয়ারি দিয়েছি তাদের আইনের আওতায় আনবো এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিবি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারবেজ, ডিএসবির শফিউল আলম সহ অনেকে।


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন