সদ্য সংবাদ

  ৯০ দিনের মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন চীনা নভোচারীরা   দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে সংশ্লিষ্টতা, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার  এক হাজার টাকা দেওয়ার ভয়ে পালায় জামালপুরের ৩ ছাত্রী: পুলিশ  মেট্রোরেলের মালামাল ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতো চক্রটি  সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বৃদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রেফতার!   মানুষের কাজই সমালোচনা করা’   কিস্তি চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর  অ্যাসাইনমেন্টের সাথে টাকার কোনো সম্পর্ক নেই : শিক্ষামন্ত্রী  কবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন জানেন না রাসেল   ১০ দৈনিক পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল  পঞ্চগড়ে গণহত্যার পরিবেশ থিয়েটার নির্মাণ  জমি নিয়ে বিবাদ সাঘাটায় বসতবাড়িতে হামলা লুটপাট  বিয়েকাণ্ড: 'ঘুষের' টাকা ফেরত দিল সেই পুলিশ   অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এটিএম বুথের ২৪ লাখ টাকা লুট   আরেক বার মনোয়ান চাইবো আনোয়ার হোসেন  বাংলাদেশি কিশোরী চিঠি লিখে বিশ্বজয় করলেন   ফোনালাপ ফাঁস ও মিডিয়ায় প্রচার করা ঠিক নয়: হাইকোর্ট  আমরুল্লাহ সালেহ’র বাড়ি থেকে বিপুল টাকা উদ্ধার তালেবানের   শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী   বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক মোল্লার মৃত্যু

মাদকে সয়লাব সিদ্ধিরগঞ্জ" 'নিয়ন্ত্রণহীন ৩ নং ওয়ার্ড।

 Mon, Aug 2, 2021 12:25 AM
মাদকে সয়লাব সিদ্ধিরগঞ্জ" 'নিয়ন্ত্রণহীন ৩ নং ওয়ার্ড।

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ: প্রায় প্রতিদিনই মাদক সহ লোক ধরা পড়লেও নিয়ন্ত্রণে

 আসছেনা নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম।সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের নিয়মিত অভিযান চললেও বর্তমানে সর্বাধিক বেপরোয়া এই এলাকার মাদক সংশ্লিষ্টরা।বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়,এলাকার উঠতি বয়সের তরুণ যুবক এবং স্কুল কলেজের অনেক  ছাত্রই এখন সবচেয়ে বেশি মাদকাসক্ত।আর তাদেরকে সাহস যোগায় এলাকার চিহ্নিত কিছু পুরাতন ও বয়স্ক মাদকসেবি।মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই এসব তরুণ ছেলেরা একত্রিত চলাফেরা করতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে গড়ে তোলে কিশোর গ্যাং।নিজেদের মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটাতেই এলাকার প্রতিষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে অর্থ ও মাদক দিয়ে এসব কিশোর গ্যাংকে সহযোগিতা করে।আবার বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে দলভারী করার জন্য কিছু রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিও এসব কিশোর গ্যাংকে নেপথ্যে সহায়তা ও ইন্ধন দিয়ে যায়।ফলে একসময়ে প্রচন্ড শক্তিশালী ও বেপরোয়া হয়ে উঠে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।আর এসব কারনেই ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা এলাকার সাধারণ ও ভুক্তভোগী জনগণ।দুই একজন সাহস করে প্রতিবাদ করলেও তার এবং পরিবার হয়ে যায় নিরাপত্তাহীন।এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হতে হয় অনেককেই।এরকম ঘটনা নিয়ে খুন হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে প্রায়ই।ফলে দিনে দিনে মাদকসেবি ও মাদক বিক্রেতাদের কাছে  জিম্মি হয়ে যাচ্ছে পুরো সমাজ ব্যবস্থা।

সরেজমিনে নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডের খবর নিয়ে দেখা গেছে,এলাকার প্রায় প্রতিটি পাড়া মহল্লার অলিগলিতে মাদকসেবি ও কিশোর গ্যাংদের অবাধ বিচরণ।সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্য রাস্তায়,অন্ধকার গলি এবং পরিত্যক্ত বাড়িঘরে চলে এসব মাদকসেবিদের আড্ডা ও মাদকসেবন।আর এসব মাদকের টাকা যোগাড় করতেই অনেক মাদকসেবি জড়িয়ে যায় চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই,চাঁদাবাজির মতো জঘন্য পেশায়।ওয়ার্ডের সানারপাড়, মৌচাক,কলেজরোড,নিমাইকাশারি এলাকায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আর বাসাবাড়ি থেকে মোবাইল চুরি এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে গেছে। কোনো কোনো মাদকসেবি একসময় আবার নিজেই হয়ে উঠে নতুন মাদক ব্যবসায়ী।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মাদক নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নারায়নগঞ্জের মধ্যে আলোচিত।এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এই ৩ নং ওয়ার্ড এলাকাটি সরাসরি ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের পাশে হওয়াতে এখানে মাদকের বিশেষ করে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি।এই ওয়ার্ডের বেশিরভাগ এলাকা জুড়ে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৭ নং ওয়ার্ডের সীমানা।দুই সিটি ও থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই এলাকায় অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অবস্থান এখানে অনেক সুবিধার, তাই মাদকসেবিদের চলাফেরাও এই এলাকায় অনেক বেশি। নারায়নগঞ্জের অনেক আলোচিত ও তালিকাভুক্ত মাদক ডিলারের আস্তানা এই ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায়।তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তালিকাভুক্ত সর্বাধিক মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক ব্যবসায়ী,ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের বসবাসও এই এলাকায়।

এই এলাকার অধিকাংশ কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবিদের বেশিরভাগই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোক পরিচয় দিয়ে দাপট দেখায় বলে অনেকে অভিযোগ করেন।তবে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বর্তমানে ভারতে থাকায় এ বিষয়ে তার মতামত নেওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানান নারায়নগঞ্জের সাবেক এসপি হারুনুর রশিদ থাকাকালীন পুলিশ এবং ডিবির ব্যাপক অভিযান ও ক্রসফায়ারের ভয়ে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা সব পালিয়ে গেলে অনেকদিন এলাকা মাদকমুক্ত ছিলো।কিন্তু বর্তমানে ডিবি পুলিশের অভিযান কমে যাওয়ায় এই এলাকাটিতে মাদক আবারও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে।

তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান এসে প্রথমে কিছুদিন মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালালেও বর্তমানে তা আবার স্থবির হয়ে গেছে।

এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটিকে মাদকের গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে এলাকার সচেতনমহল নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সম্প্রতি নারায়নগঞ্জের বহুল সমালোচিত মাদকস্পট চাঁদ মারী বস্তি উচ্ছেদ করায় পুলিশ সুপারের প্রতি নারায়ণগঞ্জ বাসীর প্রত্যাশা বেড়ে গেছে।তাই নারায়নগঞ্জের অন্যান্য এলাকার মতো নাসিক ৩ নং ওয়ার্ড এলাকাও মাদকমুক্ত হবে বলে আশা করছেন সকলে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরও দেখুন